চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সচেতন না হলে গুজব সামলানো কঠিন: জব্বার

সময়োপযোগী আইন আসছে, তাই সামাজিক মাধ্যমে গুজবের মত অন্যান্য সাইবার অপরাধ মোকাবেলা করা নিয়ে আশাবাদী ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। 

বিজ্ঞাপন

তবে কেবল আইন, প্রযুক্তি দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজব সামাল দেয়া কঠিন বলে মনে করেন তিনি।

৪ আগস্ট, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত কয়েক শিক্ষার্থী নিহত এবং ধর্ষণের গুজব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে মোড় নেয়।

এই পরিস্থিতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজব এবং গুজব মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

মোস্তাফা জব্বার

আগেও আন্দোলনগুলোকে সহিংস দিকে নিতে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন: আমাদের পর্যালোচনা হচ্ছে, আমাদের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ৪ আগস্টের হত্যা-ধর্ষণের গুজবটি রটনা করেনি।  পরিকল্পিতভাবে একটি গোষ্ঠী এই গুজব তৈরি করেছে, ব্যবহার করেছে। এটি দেশের ভেতরে থেকে করেছে, দেশের বাইরে থেকেও করেছে। এই গোষ্ঠী একেবারে নিরীহ কেউ নয়, এরা একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠী শুধু ৪ আগস্ট নয়, শাহবাগ আন্দোলন, হেফাজতের আন্দোলনে এই প্ল্যাটফর্মটিকে গুজব ছড়াতে ব্যবহার করেছে। অবশ্য ওই দিনই সরকার গুজবটি সামলে উঠতে পেরেছে।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক মাধ্যমে সচেতন ব্যবহারকারীরা কোনটা গুজব আর কোন সঠিক তথ্য তা বুঝতে পারে। কিন্তু এখন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী বাড়লেও অসচেতন ব্যবহারকারীদের কারণে গুজব সামাল দেয়া কঠিন জানিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন: যারা সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে তাদের মধ্যে যদি সচেতনতা না থাকে তাহলে শুধুমাত্র আইন,প্রযুক্তি দিয়ে পুরো বিষয়টিকে সামাল দেয়া কঠিন হয়ে যাবে।

ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে আটকের পর অভিনয় শিল্পী নওশাবাকে রিমান্ডে নেয়া হয়

তাই আমরা মনে করি যে, আমাদের দেশের নাগরিকদের সচেতনতা বাড়বে, যারা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করছে তাদের সচেতনতা বাড়বে। প্রথমদিন হয়তো গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু এখন আমার ধারণা ওই রকম গুজব দিয়ে আর ওই রকম পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব হবে না। কারণ মানুষ এটা উপলব্ধি করতে পেরেছে। এটাও বুঝতে সক্ষম হয়েছে কোনটা গুজব কোনটা সঠিক তথ্য।

তাহলে বেশির ভাগ ব্যবহারকারী সচেতন হওয়ার আগে সামাজিক মাধ্যমে গুজব কিভাবে ঠেকানো যায়, এই প্রশ্নের জবাবে উভয় সংকটের সম্মুখীন হওয়ার চরম বাস্তবতা তুলে ধরেন জব্বার।

তিনি বলেন: সরকার সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে না। আমরা সোশ্যাল মিডিয়া খোলা রাখলেও সমস্যা, বন্ধ করলেও সমস্যা। এই বিষয়টা বিবেচনায় নিয়ে আমরা কারও মত প্রকাশের স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ করতে পারি না, দেশের ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারি না, দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারি না। সব কিছু মাথায় নিয়েই সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হয়। অথচ আমার ব্যক্তিগত বিরক্তি প্রকাশ করা স্ট্যাটাসকেও গুজব হিসেবে ছড়ানো হয়েছে, প্রচার করা হয়েছে আমি নাকি সবার ফেসবুক বন্ধ করতে বলেছি!

কিন্তু এই উভয় সংকটের সুযোগে কেউ যেন ফায়দা লুটতে না পারে সেজন্য সময়োপযোগী ব্যবস্থা আসছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন: গুজবসহ সব সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় আগে একটি আইনগত অবকাঠামো দরকার। আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পেশ করেছি, সংসদের আগামী অধিবেশনে এটা পাস হয়ে যাবে আশা করি। নতুন নতুন প্রযুক্তি আসছে, নতুন ধরণের অপরাধ হচ্ছে, নতুন ভাবে এর বিচার করার প্রয়োজন আছে, অতএব সরকার এবিষয়ে সচেতন ছিলো বলেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি করেছে। সরকার সাইবার অপরাধ ঠেকানোর প্রস্তুতি হিসেবে এই আইনসহ ফরেনসিক ল্যাব এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক কাঠামো তৈরি করছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দরকার। এই সক্ষমতার জন্য আমরা টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রকল্প নিয়েছি, কাজ শুরু হয়েছে।

৪ আগস্টে ছড়ানো গুজবের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসায় স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন: আমরা শুধু একদিন গুজবের শিকার হয়েছি, সরকার সেদিনই তা সামাল দিতে পেরেছে। আমাদের যেটুকু করা সম্ভব তা আমরা করেছি। ইতোমধ্যে গুজব ছড়ানো বহুজনের ফেসবুক পেজ-আইডি বন্ধ হয়ে গেছে। কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

জনগণ এখন সচেতন, গুজব ছড়িয়ে একদিন কয়েক ঘণ্টা ফায়দা নিতে পারলেও আর কোন গুজব ছড়িয়ে কেউ ফায়দা নিতে পারবে না বলে আশা প্রকাশ করেন মোস্তাফা জব্বার।