চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সাকিবের চোখে রোডস যেমন

ক্রিকেটারদের উপর অসন্তুষ্টি নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছেন চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে, এমন প্রচার আছে! সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কোচের দ্বন্দ্বের কথাও চাউর আছে। যদিও সেটি অস্বীকার করেছেন বর্তমানে নিজ দেশ শ্রীলঙ্কার হেড কোচের দায়িত্বে থাকা হাথুরু।

বিজ্ঞাপন

হাথুরু চলে যাওয়ার পর বাংলাদেশের হেড কোচের দায়িত্ব নেন স্টিভ রোডস। উইন্ডিজ সফরে টেস্ট সিরিজ ব্র্যাকেটবন্দী করলে তার অধীনে গেল ৫ মাস খারাপ কাটেনি বাংলাদেশ দলের। সাফল্যের গ্রাফ দিয়ে অবশ্য সেটি মূল্যায়ন করা যাবে না।

কোচের পরিশ্রম, প্রতিভা খুঁজে বের করতে বিভিন্ন মাঠে ছোটাছুটি ও সবধরনের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বন্ধুরমতো আচরণ অন্যদের থেকে আলাদা করেছে এ ইংলিশ কোচকে।

দুই কোচের মধ্যে দৃশ্যমান হচ্ছে নানা পার্থক্য। তুলনায় না গিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান রোডসকে আলাদা করলেন অন্যভাবে। নতুন কোচের স্বভাবসুলভ বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সাকিবের চেহারায় ছড়াল মুগ্ধতা।

বিজ্ঞাপন

‘আমার মনে হয় রোডস খুব ফ্রেন্ডলি। ওর ভালো একটা গুণ সবার সাথে খুব স্বাচ্ছন্দ্যে মিশতে পারে। যেটা একটা কোচের খুব বড় গুণ। ম্যান ম্যানেজমেন্ট খুব ভালো। আমার কাছে মনে হয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

অল্পসময়ের মধ্যে বাংলাদেশের তিন অধিনায়কের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে রোডসের। সেটা নিয়ে বলেছেন, সাকিব আল হাসান সেরা ট্যাকটিকসে; মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা অতুলনীয় অনুপ্রেরণায়। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও দারুণ। সংবাদমাধ্যমে বলা কোচের এমন প্রশংসাবাক্যের বিপরীতে বৃহস্পতিবার পাওয়া গেল সাকিবের অভিব্যক্তি। টাইগারদের সাদা পোশাকের অধিনায়ক কেবল স্মিত হাসলেন। যেন কিছু না বলেও অনেক বলে গেলেন!

চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া রোডসের সাফল্যের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি সিরিজ জয়, ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ (৩-০), একটি টেস্ট জয় ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজের প্রথম টেস্টে হারানো। সেসবের বাইরের রোডসকে আলাদা করেছে তৃণমূলেও তার কাজ করার মানসিকতা।

পুরো কোচিং ইউনিট নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বিসিবি একাদশের প্রস্তুতি ম্যাচ দেখতে বিকেএসপি ছুটে যান রোডস। ওই ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো সৌম্য সরকার তৃতীয় ওয়ানডের দলে ঢুকে খেলেন ১১৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শুরুর আগে চট্টগ্রাম পৌঁছে হোটেলে চেক ইন না করেই ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে বিসিবি একাদশের প্রস্তুতি ম্যাচ দেখতে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখেন সাদমান ইসলামের ব্যাটিং। ৭৩ রানের খেলা এ বাঁহাতি ওপেনার টিকে যান টেস্ট দলে।

ঢাকায় পৌঁছে রোডস সরাসরি চলে আসেন মিরপুরের একাডেমী মাঠে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটারদের খবর নেয়া ও একাডেমির কোচদের সঙ্গে তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে আলোচনা ও সমন্বয় আলাদা করেছে ৫৪ বছর বয়সী এ ইংলিশম্যানকে। পাইপলাইনের সব জায়গায় তার দৌড়ঝাঁপ করার বিষয়টি নজিরবিহীন বলে বিসিবির কাছ থেকেও বাহবা পাচ্ছেন রোডস।