চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সমাবেশের অনুমতি: যেন বুকের পাথর নেমে গেলো বিএনপির

ঠিক কোন সময় খোশ মেজাজ এবং খোলা মন নিয়ে রাজধানীতে সমাবেশ করতে পেরেছিল বিএনপি তা খোদ বিএনপি নেতাদেরও হয়তো মনে নেই। অবশেষে অনেক চেষ্টা, অনুরোধের পর বহু প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩০ সেপ্টেম্বর জনসভা করার অনুমতি পেয়েছে দলটি। এতে যেন বিএনপির বুকের উপর ঝুলে থাকা পাথরটি নেমে গেল।

বিজ্ঞাপন

এমন বিষয় প্রকাশ পেয়েছে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যে। তিনি বলেন: আমরা উৎকণ্ঠায় ছিলাম একটি গণতান্ত্রিক কর্মসূচির জন্য৷ অবশেষে আনুষ্ঠানিক লিখিত চিঠির মাধ্যমে অনুমতি দিয়েছে। দুপুর ২ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত সমাবেশ করা যাবে।

রিজভী বলেন: আগামীকাল ঐতিহাসিক ও সফল জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ, কেরানীগঞ্জসহ অন্যান্য জেলার নেতাকর্মীদের জনসভায় আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজন করবো। আশা করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

এর আগে ২৭ তারিখ নয়াপল্টন অথবা সোহরাওয়ার্দীতে জনসভার অনুমতি চেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে আবেদন করে বিএনপি। পরে পুলিশ শনিবার সরকারি ছুটির দিনে জনসভা করতে পরামর্শ দিলে রাজি হয় বিএনপি। কিন্তু ২৯ সেপ্টেম্বর মহানগর নাট্যমঞ্চে ১৪ দলের নাগরিক সভা থাকায় পাল্টাপাল্টি সমাবেশ থেকে বিরত থাকার স্বার্থে আবারও বিএনপির সমাবেশ পিছিয়ে যায়৷ শুক্রবার বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন এ্যানির নেতৃত্বে পুলিশের কাছে যায় এবং ২৯ তারিখ তাদেরকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলা হয়।

বিজ্ঞাপন

এরই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপি কার্যালয়ে যায় বিএনপির প্রতিনিধিদল৷প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ।

এসময় ডিএমপির পক্ষ থেকে ২২টি শর্ত সম্বলিত সমাবেশের অনুমতিপত্র তাদের দেওয়া হয়।

ডিএমপির শর্তগুলো হলো: সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী, রাষ্ট্র ও জননিরাপত্তা পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপ পরিচালনা করা যাবে না, উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য এবং প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনে- এমন কোনো ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য প্রদান ও প্রচার করা যাবে না।

‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অভ্যন্তরে সমাবেশের যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আইডিকার্ডসহ নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়োগ করতে হবে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে স্থাপন করতে হবে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলে আসা প্রতিটি যানবাহন তল্লাশি করতে হবে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে হবে, অনুমোদিত স্থানের বাইরে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না, অনুমোদিত স্থানের বাইরে সড়ক ও ফুটপাতে প্রজেকশন ব্যবহার করা যাবে না, অনুমোদিত স্থানের বাইরে সড়কে অথবা ফুটপাতে সমবেত হওয়া যাবে না, আজান, নামাজ এবং ধর্মীয় সংবেদনশীল সময় মাইক চালু রাখা যাবে না।

জনসভার মঞ্চ অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না, জনসভার ২ ঘণ্টা পূর্বে মানুষ জনসভাস্থলে আসতে পারবে, বিকেল ৫ টার মধ্যে জনসভা শেষ করতে হবে, মিছিল সহকারে জনসভায় আসা যাবে না, ব্যানার-ফেস্টুনের আড়ালে কোনো ধরনের লাঠি-সোটা, রড আনা যাবে না, শর্ত না মানলে তাৎক্ষণিকভাবে অনুমতি বাতিল বলে গণ্য হবে, জনস্বার্থে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই কর্তৃপক্ষ এই অনুমতি বাতিল করতে পারবে।’