চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সমকামিতার বৈধতা, ভারতীয় তারকাদের উচ্ছ্বাস

সমকামিতা বৈধতার রায়ে ভারত ‘সাবালক’ হলো বলে দাবী তারকাদের

সমকামিতা অপরাধ নয়। এমন রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। যে রায়কে ‘ঐতিহাসিক রায়’ বলছেন সেদেশের বিশাল শিক্ষিত একটি জনগোষ্ঠি। সুপ্রিম কোর্টের এমন রায়ে ভারতজুড়ে রীতিমত তোলপাড়। সবার মত এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বলিউডের তারকা অভিনেতা, নির্মাতাসহ অন্যান্য কলাকুশলীরাও।

বিজ্ঞাপন

৩৭৭ ধারা অনুযায়ি সমকামিতাকে ‘অপ্রাকৃত অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ভারত সরকারও সমকামিতার বৈধতা দিতে অনিচ্ছুক ছিলো। কিন্তু বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের এমন রায়ে ভারতজুড়ে আনন্দের বন্যায় ভাসেন সমকামিতার পক্ষের অংশের মানুষেরা। তাদের এই বিজয়ে গলা মিলিয়েছে বলিউড।

সমকামিতাকে বৈধতার রায়ে সোশাল মিডিয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন করণ যোহর, সোনম কাপুর, অর্জুন কাপুর, বরুণ ধাওয়ান, স্বরা ভাস্কর এবং আয়ুষ্মানের মতো তারকারা।

করণ যোহর টুইটে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, এই রায় ঐতিহাসিক। এই রায়ের মাধ্যমে মানবতা নতুন অর্থ পেল, সাম্য ফিরে এল। আমি গর্বিত।

সমকামিতাকে বৈধতার রায়ে নিজের দেশ নিয়ে গর্ব করে অভিনেত্রী সোনম কাপুর লিখেন, এটাই ভারতের প্রকৃত রূপ, যে ভারতে আমি বাস করতে চাই। যেখানে মানুষে মানুষে কোনো ঘৃণা নেই, অসহিষ্ণুতা নেই। এই ভারতকেই আমি ভালোবাসি।

এদিকে সমকামিতা বৈধতার রায়ে বলিউডের মতো উচ্ছ্বসিত টলিউডও। এমন রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন পশ্চিম বঙ্গের তারকা নির্মাতা, অভিনেতা ও সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্যরা।

সমকামিতার রায়ে অভিনেত্রী চূর্ণী গাঙ্গুলী জানান, কখনোই সমকাম বিরোধী ছিলাম না। আর এরকম একটা রায়কে সব সময় সাধুবাদ জানাই। এটা ভেবে ভালো লাগছে যে আমার সমকামী বন্ধুরা আজ থেকে প্রকাশ্যে স্বীকৃত হবেন।

এই রায়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র বলেন, অবশেষে একটি লিগাল স্বীকৃতি আসল। সমাজকে কিন্তু মানুষ বানায়। কেউ কিন্তু কাউকে বলতে পারে না যে এই ভাবে বাঁচতে হবে, কী সেই ভাবে বাঁচতে হবে। প্রথম প্রথম অনেক কিছুই মেনে নিতে অসুবিধা হয়।

সমকামিতা বৈধতার রায়ে ভারত ‘সাবালক’ হল বলে দাবী নির্মাতা ও অভিনেতা অরিন্দম শীলের। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে ভারত অন্তত পক্ষে একটু সাবালক হল বলে তো মনে হয়। পৃথিবীর অন্য দেশের তুলনায় আমরা হয়তো একটু পিছিয়ে ছিলাম। তবে এই রায়ে বোধহয় একটা পরিবর্তন ঘটল আমাদের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার। আমরা চলচ্চিত্রকে অনেক আগেই উদার করে তুলেছি, এবার আশা করব সমাজেরও পরিবর্তন হবে।