চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সব শিল্পী বেকার হয়ে যাচ্ছে: বিপাশা কবির

পার্টি করতে আসিনি, ইন্ডাস্ট্রিতে সিনেমা করতে এসেছি: বিপাশা কবির

২০০৯ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় ১৪তম স্থান অধিকার করে শোবিজ অঙ্গনে পরিচিতি পান বিপাশা কবির। সেই সময় থেকেই মডেলিং ও অভিনয়ে নাম লেখান তিনি। অভিনয় করেছেন একাধিক নাটকে। শাহিন সুমন পরিচালিত ‘ভালোবাসার রং’ চলচ্চিত্রের আইটেম গান দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন তিনি। একে একে প্রায় ৫০ টির বেশি ছবির আইটেম গানে নেচে রূপালি পর্দায় বিপাশা কবির পেয়েছেন আলদা পরিচিতি।

বিজ্ঞাপন

নায়িকা হিসেবে কাজ করেছেন ৬ সিনেমায়। সর্বশেষ বিপাশা কবির অভিনীত ও মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘পাষাণ’। বর্তমানে কাজের ব্যস্ততা, চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি:

বহুদিন নতুন সিনেমার খবর নেই। কী নিয়ে ব্যস্ততা এখন?
নতুন সিনেমার খবর দিতে পারছি না। চূড়ান্ত না হলে আন্দাজে নিউজ ছড়াই না। কয়েকমাস আগে ‘পদ্মপুরাণ’ নামে একটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম। হয়তো ওটার শুটিং শুরু হবে আগামীতে। তবে আজ না কাল, পরশু না পরদিন এভাবে আমার ডেট নিচ্ছে আর ঘুরাচ্ছে! এ ছবিটা আর্টফিল্ম টাইপের। নায়ক কে থাকবে সেটা এখনও ঠিক হয়নি। আরও একটা নতুন ছবির গল্প শুনেছি। খুব ভালো লেগেছে। ওটা দেরিতে শুরু হতে পারে।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকে পঞ্চাশের বেশি আইটেম গান করছেন, এখন আইটেম গান করছেন না?
ক’দিন আগে ‘ও মাই লাভ’ ছবির আইটেম গান করলাম। এর কারণ এই প্রোডাকশনের একটি ছবিতে নায়িকা ছিলাম, আগের প্রত্যেকটি ছবির আইটেম গান আমি করেছিলাম। সেজন্য তারা চেয়েছেন বলে আমি কাজটি করেছি।

দিনকে দিন সিনেমা নির্মাণ কেন কমে যাচ্ছে বলে মনে হয় আপনার?
সত্য কথা বললে বিষয়টা খারাপ হয়ে দাঁড়াবে! সমস্যা হলো, সিনেমা হল নেই, প্রযোজকের অনেক সংকট। প্রযোজক যারা আসছে তাদের মিসইউজ করা হচ্ছে। একটা ছবি বানানোর পর যখন প্রযোজক টাকা ফেরত পাচ্ছে না, তখন তারা পরে কীভাবে কোন ভরসায় লগ্নী করবেন? ধরুন, একটা নায়িকা একজন প্রযোজককে কনভিন্সড করে সিনেমায় আনলো সম্পর্কের খাতিরে, কিন্তু সেই সম্পর্ক কয়দিন টিকবে? যদি টাকার উপর দিয়ে কোনো কিছু যায়, তবে সম্পর্কও ঠিক থাকে না।

এরপরেও প্রযোজকদের মিসইউজ করা হচ্ছে অন্যভাবে। ছবির বাজেট যদি প্রথমে বলা হয় ষাট লাখ টাকা, পরে দেখা যায় খরচ সত্তর-আশি লাখ কিংবা কোটিতে গিয়ে ঠেকে। এভাবে ব্ল্যাকমেইল করায় প্রযোজক আরও কমে যাচ্ছে। প্রযোজক কমলে তো সিনেমা নির্মাণ কমবেই!

ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কথা বললেন, সেটা কীভাবে?
এটা তো অাভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আমি যেটা বুঝি সেটা হচ্ছে, কিছু জিনিস গোছানো থাকে। এরপরেও প্রোডাকশন খরচ বাড়ানো, সময় বাড়ানো, শিডিউল না মেলালে তো খরচ বাড়বে। এভাবে টাকা সরানো হয়। এখানে তো বোঝাই যায়, এটা প্ল্যান থাকে। আর টাকা মারার জন্যই কাজ করা হচ্ছে! এখানে একটা যুক্তি আছে। একজন পরিচালক বছরে কয়টা ছবি পায়? হঠাৎ যখন ছবি পায়, তখন মনে করে কি যেন পেয়েছি! ওই জিনিসটা ভাঙিয়ে খেতে গিয়েই ছবিটাকে নষ্ট করে ফেলে। অনেকেই করে, আবার অনেকেই করে না।

আপনি বলছেন সিনেমা হল সংকট, প্রযোজক সংকট। কিন্তু অনেকে আবার বলছে শিল্পী সংকট, নতুন মুখ দরকার?
যে দেশে এত ভালো ভালো শিল্পী আছে, ট্যালেন্ট আছে, সে দেশে নতুন মুখ এনে কী করা হবে আমার বুঝে আসেনা। আমাদেরইকে মূল্যায়ন করা হয়না, নতুন মুখ এসে একটা ছবি করবে, বানানোর পর বলবে ব্যর্থ! এই-ই হবে! আমার মনে হয় না এতে কোনো সুবিধা হবে। আমার মতে, সিনেমা হল বাড়ানো হোক, হলের পরিবেশ উন্নত করা হোক। প্রযোজক আসুক। শিল্পী যারা আছেন, তাদের সঠিকভাবে ব্যবহার করা হোক। আমাদের ভালো টেকনিশিয়ান আছে। তাদেরকে গুছিয়ে কাজ করানো হোক, সুযোগ দেওয়া হোক। অনেক ভালো ফল আসবে।

এতদিন শিল্পী-টেকনিশিয়ানদের সুযোগ দেয়া হয়নি কেন?
মাঝখান দিয়ে ইন্ডিয়ার ছবিগুলো ঢুকে সব উল্টে পাল্টে দিয়েছে। ইন্ডিয়ার এসব ছবি আসার পুরোপুরি বিপক্ষে আমি। খুব তো বলা হলো, ইন্ডিয়ান ছবি আসলে লাভ হবে। কই লাভ হচ্ছে? ‘সুলতান’ বানানো হলো পুরোপুরি ‘ভেদালাম’ কপি করে। যে ‘ভেদালাম’ মানুষ আগেই দেখেছে সে কেন ‘সুলতান’ দেখবে? ‘নাকাব’ দেখলাম, তাও কপি। শুধু ‘সুলতান’, ‘নাকাব’ না, বেশিরভাগ ছবিই তো কপি! কী লাভ হচ্ছে কপি ছবি করে?

কিন্তু চাহিদার তুলনায় দেশেতো সেই পরিমাণ সিনেমা আসছে না?
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি কোথায় চলে যাচ্ছে কেউ টের পাচ্ছে না। সব শিল্পী বেকার হয়ে যাচ্ছে। সেটাও কারও কোনো খোঁজ-খবর নেই। ইন্ডাস্ট্রি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। দুইপক্ষই তারা তাদের মতো করে চিল্লাচ্ছে। মাঝখানে আমরা শিল্পী, টেকনিশিয়ানরা কী করবো!

শিল্পী সমিতি, চলচ্চিত্র পরিবার শিল্পীদের বেকারত্বের বিষয়টি দেখছে না?
কোথায় দেখছে? কাজ পাচ্ছে কেউ? শো করে? কী হবে এই শো করে! সিনেমাই যদি না থাকে শো করে লাভ কী! আমরা শিল্পীরা শো করতে আসছি ইন্ডাস্ট্রিতে? আমরা শো, পার্টি এসব করতে আসিনি। ফিল্ম করতে আসছিলাম। যাকেই জিজ্ঞেস করি, ভাইয়া ফিল্মের অবস্থা কবে ঠিক হবে? তারা বলেন, এই তো ডিসেম্বরে ঠিক হবে! আগামী বছর ঠিক হয়ে যাবে। এভাবে বছরের পর বছর চলে যাচ্ছে। ফিল্মের অবস্থা ঠিক হচ্ছে না। কোনো পরিবর্তন নেই।

চলচ্চিত্রে নিজের ভবিষ্যত কেমন দেখছেন?
আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে চলচ্চিত্রে এসেছি। চলচ্চিত্রকে পেশা হিসেবে নিয়েছি। এখান থেকে আমাকে আবার ইঞ্জিনিয়ার পেশায় ফেরা সম্ভব না। কারণ আমার ইচ্ছেটাই আসবে না। চলচ্চিত্রকে আমি নেশা, পেশা, ভালোলাগা সবকিছুর সাথে জড়িয়ে ফেলেছি। ভালো না বাসলে এতদিন আমি ইঞ্জিনিয়ারিং লাইনে চলে যেতাম, নইলে বিয়ে করে সংসারী হয়ে যেতাম।

আর সিনেমায় ভবিষ্যৎ ভালো করতে সরকারকে এগিয়ে আসা উচিত। দলাদলি ভুলে আগে দেখতে হবে সিনেমা কীভাবে নির্মাণ করা যায়! সবগুলো সমিতির এটা বোঝা উচিত। আরো বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। আলাদা আলাদা না থেকে গ্রুপ বা বিভাজন ভুলে সবাইকে এক হওয়া উচিত। পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিটা একজোট হোক। তাহলে ভালো কাজ হবে। তেল-পানি এক না হলেও ফিল্মকে বাঁচাতে সবাইকে এক হতে হবে।

আপনার কথাগুলোতো অনেকেই নিতে পারবে না…!
এজন্য আমাকে নিয়ে অনেক মানুষের প্রচুর অভিযোগ। হয়তো সত্য বলি তাই! আর কেনই বা বলবো না? আমাকে জাজ মাল্টিমিডিয়া ছবি দেবে না, আমাকে জায়েদ খানও ছবি দেবে না। আমার কাজ আমাকেই করতে হবে। আমি কোনো দলের মধ্যে থাকতে চাইনা। জায়েদ খান আমাদের শিল্পী সমিতির সেক্রেটারি, জাজ আমাকে ফিল্মে জন্ম দিয়েছে। সেজন্য অবশ্যই সবাইকে আমি রেসপেক্ট করি। তার মানে এই নয় যে, কেউ অন্যায় করলে চুপ থাকবো।

ছবি: বিপাশা কবিরের ফেসবুক ওয়াল থেকে