চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘সন্তান হিসেবে বাবার জন্য আমিও যদি কিছু করে যেতে পারতাম’

ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার ২০১৮

শনিবার দুপুরে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে তুলে দেয়া হলো ‘ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার ২০১৮’। আর এই পুরস্কারটি প্রতিবারের মতো এবারও দেয়া হয়েছে একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও একজন চলচ্চিত্র সাংবাদিককে। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও মিডিয়ার বিভিন্ন অঙ্গনের গুণী ব্যক্তিত্বরা।

বিজ্ঞাপন

চলচ্চিত্রকার, সিনেমা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ফজলুল হকের নামে ২০০৪ সাল থেকে এ পুরস্কার চালু করেছেন তার পত্নী ও কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন। যা প্রতিবার নিয়মিতভাবে আয়োজন করে আসছেন ফজলুল হক ও রাবেয়া খাতুন দম্পতির বড় ছেলে ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। বাবার নামে এমন পুরস্কার প্রদান নিয়মিত আয়োজন করায় আপ্লুত বহু গুণীজন।

বাবার নামে এমন অনুষ্ঠান নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ায় ফরিদুর রেজা সাগরের প্রতি চিত্রনায়ক রিয়াজ ও ওমর সানী বেশ আপ্লুত। তাদের বক্তব্যে সেই উচ্ছ্বাসও ঝরে পড়ে। রিয়াজ তার বক্তব্যে বলেন, সাগর ভাই অসাধারণ একজন মানুষ, তাঁর বাবাও ছিলেন অসাধারণ একজন। সন্তান হিসেবে আমি যদি আমার বাবার জন্য সাগর ভাইয়ের মতো এরকম কিছু করে যেতে পারতাম, তাহলে নিজেকে আমি ধন্যবাদ মনে করতাম। যারা ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার পাচ্ছেন তাদেরকে অভিনন্দন জানাই।

এরপর মঞ্চে উঠেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। তিনি বলেন, সাগর ভাই আমার বাবার মতো। আমরা দোয়া করবো সেই বাবার জন্য যে বাবা সাগর ভাইয়ের মতো একজন সুসন্তান জন্ম দিয়েছেন। এই সন্তান কাজের মধ্য দিয়ে যেভাবে তার বাবাকে স্মরণ করছেন, আমরাও তাদের জন্য দোয়া করি। আর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেখুক, বাবার প্রতি কীভাবে কতো ভালো কাজের মাধ্যমে একজন সন্তান সম্মান জানাতে পারেন! সাগর ভাই আমাদের সন্তানদের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম।

শুধু ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই দুই চিত্রনায়ক ই নন, ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার প্রবর্তন ও এটা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন নাট্য ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম, মামুনুর রশিদসহ আরো গুণী ব্যক্তিত্বরাও।

অতিথিদের হাত থেকে ক্রেস্ট, উত্তরীয় ও পদক নেয়ার পর ফারুকী বলেন, পুরস্কার পেলে নিজেকে বয়স্ক বয়স্ক লাগে। অন্তত আমার আশপাশের বন্ধুরা আমাকে বয়স্কই মনে করেন। তারপরেও ফজলুল স্মৃতি পুরস্কার আমার জন্য একটু ভিন্ন, কারণ এই পুরস্কারটি একজন চলচ্চিত্র নির্মাতার নামে প্রবর্তিত। পুরস্কারটি পেয়ে আমি সত্যিই আনন্দিত।

উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন আরেক পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের প্রবীন সাংবাদিক শফিউজ্জামান খান লোদী। এ পুরস্কার প্রাপ্তি তার চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার ক্যারিয়ারে মাইলফলক বলেও উল্লেখ করেন।

এদিকে অনুষ্ঠানের শুরুতেই সঞ্চালক অপু মাহফুজ মঞ্চে ডেকে নেন চার বিশিষ্ঠ অতিথিকে। হাসান ইমামের সভাপতিত্বে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, সংসদ সদস্য ও অভিনেতা পাঠান আকবর ফারুক ও অভিনেত্রী সুজাতা।

ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রে ফজলুল হকের অবদান ছাড়াও প্রকাশনায় তার অবদানের কথাও তুলে ধরেন।

ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, বিশিষ্ট রন্ধনশিল্পী কেকা ফেরদৌসী, বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা কণা রেজা, অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা, বাচসাস সভাপতি আবদুর রহমান, সানাউল আরেফীন, মুকিত মজুমদার, ফরহাদুর রেজা প্রবাল, সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, সামিয়া জামান, আমিরুল ইসলাম, শহীদুল আলম সাচ্চু, আফসানা মিমি ও টেলিভিশন নাটক-মঞ্চসহ মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রবীন চলচ্চিত্র সাংবাদিক শফিউজ্জামান খান লোদী ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও পুরস্কারের অর্থমূল্য তুলে দেন হাসান ইমাম, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, সংসদ সদস্য ও অভিনেতা পাঠান আকবর ফারুক ও অভিনেত্রী সুজাতা।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আগে উপস্থিত দর্শকের জন্য দেখানো হয় শহীদুল আলম সাচ্চুর নির্মাণে ফজলুল হকের জীবনী নির্ভর ডকুফিল্ম ‘দ্য ফ্রন্টিয়ার ম্যান’।

বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক এবং বাংলাদেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’ এর পরিচালক ফজলুল হক-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে  ২০০৪ সাল থেকে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে ‘ফজলুল হক স্মৃতি কমিটি’।

প্রতি বছরই ফজলুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী ২৬ অক্টোবর অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার দেয়া হয়। এ বছর নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানটি হয়নি, তাই ১২ জানুয়ারি পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

ছবি: ওবায়দুল হক তুহিন