চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কায় হামলা: এ পর্যন্ত আমরা যা জানি, যা জানি না

শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে’তে গির্জা ও হোটেলসহ ৮টি স্থানে ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা প্রায় তিনশ’র কাছাকাছি। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরও প্রায় ৫শ’ মানুষ।

এতো মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই নৃশংস হামলাটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের সহায়তায় স্থানীয় ‘ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত’ নামে একটি দল চালিয়েছে বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে আটক করা হলেও এখনো অজানা রয়ে গেছে অনেক প্রশ্নের উত্তর।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ জানা বিভিন্ন তথ্য ও অজানা নানা ‍প্রশ্ন পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো-

যেভাবে শুরু হয়েছিলো হামলা

রোববার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে। নেগম্বোর সেইন্ট সেবাস্টিয়ান’স চার্চ এবং বাটিকালোয়া শহরের আরেকটি উপাসনালয়ে ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত প্রার্থনা অনুষ্ঠানে কাছাকাছি সময়ে বোমা হামলায় ঘটনা ঘটে। এছাড়া রাজধানী কলম্বোতে সেইন্ট অ্যানথনি’স সমাধিক্ষেত্র ও উপাসনালয়ের পাশাপাশি পাঁচতারকা হোটেল শ্যাংরি লা, দ্য কিংসবারি ও সিনামন গ্র্যান্ড এবং দেহিওয়ালা চিড়িয়াখানার পার্শ্ববর্তী হোটেল ট্রপিক্যাল ইনের পাশাপাশি দেমাটাগোডার একটি আবাসিক অঞ্চলে বোমা হামলা চালানো হয়।

হামলার শিকার হন যারা

শ্রীলঙ্কা পুলিশ মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকেরার বরাত দিয়ে কলম্বো গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ওই হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০-এ দাঁড়িয়েছে। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও প্রায় ৫শ’ মানুষ। সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বলছে, নিহতদের বেশির ভাগ খ্রীষ্ট ধর্মের অনুসারী। নিহতদের মধ্যে ৩৬ জন রয়েছেন বিদেশি নাগরিক। যাদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন, ব্রিটিশ, চায়নিজ, ডাচ, ইন্ডিয়ান, পুর্তগীজ, জাপানিজ, তার্কিশ ও বাংলাদেশী নাগরিক।

হামলার বিষয়ে যা বলছে শ্রীলঙ্কা সরকার

নৃশংস ওই হামলাটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের সহায়তায় স্থানীয় ইসলামিক দল ‘ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত’ চালিয়েছে বলে দাবি করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার।

দেশটির ক্যাবিনেটমন্ত্রী রাজিথা সেনারাত্নে বলেন, সাত আত্মঘাতী হামলাকারী যারা ইস্টার সানডের এই হামলা পরিচালনা করেছে, তারা ‘ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত’ এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত শ্রীলঙ্কার নাগরিক।

এই দলটি এর আগে বৌদ্ধ মূর্তি ভাঙার মতো কাজও করেছিলো এবং ২০১৬ সালে তাদের এক নেতাকে আটক করা হয় ধর্মান্ধতা ছড়ানোর অভিযোগে।

বিজ্ঞাপন

বোমারুদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক খুঁজে বের করার জন্য পররাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসিনা।শ্রীলঙ্কা-ইস্টার সানডে-বোমা হামলা

প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্র জানান, গোয়েন্দা তথ্য বলছে, বিদেশি সন্ত্রাসী সংস্থাগুলো এই স্থানীয় সন্ত্রাসীদের পেছনে কাজ করেছে। রাষ্ট্রপতি সেজন্য বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

হামলার আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিল পুলিশ

ভয়াবহ এই হামলার এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে, ন্যাশনাল তৌহিদ জামাতের নাম পুলিশ কর্তৃপক্ষকে জমা দেয়া হয়েছিল, সেখানেও ক্যাথলিক চার্চে হামলার হুমকির কথা উল্লেখ ছিলো। সেদেশের টেলিকমিউনিকেশন মন্ত্রী হারিন ফার্নান্দো একটি চিঠির ছবি টুইটারে তুলে ধরেছেন। যেখানে ‘সম্ভাব্য পরিকল্পিত আক্রমণের তথ্য’ শিরোনামের ওই চিঠিতে নাম এবং অন্যান্য বিষয়েও বিস্তারিত বলা হয়েছে।তবে কর্তৃপক্ষ সে তথ্যানুযায়ী কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এ ঘটনায় সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের ধরতে গিয়ে তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছে।

ওই ঘটনার পর ওই এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরণের মিথ্যা তথ্য রোধ করতে ফেসবুক-টুইটারসহ সকল সামাজিক মাধ্যম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।শ্রীলঙ্কা-ইস্টার সানডে-বোমা হামলা

হামলা সম্পর্কে এখনো যা জানতে পারিনি

বিশ্ব মানবতাকে থমকে দেয়া ওই হামলার অনেক বিষয়ে এখনো জানা যায়নি। দেশটির গণমাধ্যমসহ সরকারের পক্ষ থেকেও যে বিষয়গুলো এখনো জানানো হয়নি বলে বিশ্ব সংবাদমাধ্যম দাবি করছে তা হলো:

এ ঘটনায় সোমবার সকাল পর্যন্ত সন্দেহভাজন হিসেবে যে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা আসলে কারা বা তাদের সঙ্গে হামলার কোন সম্পর্ক আছে কি না? সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই জানা যায়নি।শ্রীলঙ্কা-ইস্টার সানডে-সিরিজ বোমা হামলা

ভয়াবহ এই হামলার এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে, ক্যাথলিক চার্চে হামলার হুমকির কথা জানানো পরও কেন হামলা হলো? এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো ধরণের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কি না? নিলেও কী ধরণের পদক্ষেপ সে বিষয়েও কোন মন্তব্য করেনি সরকার। কেন ক্যাথলিক চার্চেই শুধু হামলা চালানো হলো সে বিষয়েও কোন ব্যাখ্যা দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

তবে নৃশংস ওই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ। সমবেদনা জানিয়েছেন নিহতদের পরিবারের প্রতি। সিরিজ বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার মধ্যরাত থেকে আইফেল টাওয়ারের লাইট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।