চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শোকার্ত দেশে ফিরলেন প্রাণহীন সুবীর নন্দী

মঙ্গলবার ভোর থেকেই দেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীর অপেক্ষায় দেশের হাজারো ভক্ত অনুরাগী, অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা সবার। আর এরই মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে বুধবার সকাল পৌনে সাতটার দিকে ঢাকায় পৌঁছে তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি! জন্মভূমিতে তিনি ফিরলেন, তবে প্রাণহীন!

বিজ্ঞাপন

হ্যাঁ, সিঙ্গাপুর থেকে বুধবার নিথর দেহে ঢাকায় ফিরলেন সুবীর নন্দী। এসময় সঙ্গে ছিলেন তার একমাত্র মেয়ে ফাল্গুনী নন্দী।

বিমান বন্দর থেকে বের হয়ে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গ্রীন রোডের বাসায়। এমনটাই চ্যানেল আই অনলাইনকে জানালেন সুবীর নন্দীর জামাতা রাজেশ শিকদার।

মঙ্গলবার ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন সুবীর নন্দী। তাঁর মৃত্যুতে সংগীত জগতসহ দেশের পুরো সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া। সারা দেশের মানুষ প্রিয় শিল্পীর জন্য চোখের জল ফেলছেন।

এরআগে সুবীর নন্দীকে কোথায় নেয়া হবে, এসব বিষয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে কথা বলেছেন সুবীর নন্দীর জামাতা রাজেশ।

মঙ্গলবার রাতে তিনি জানিয়ে ছিলেন, ঢাকায় পৌঁছানোর পর সরাসরি গ্রীন রোডের বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে সুবীর নন্দীকে। এরপর নয়টার দিকে ঢাকেশ্বরী মন্দির এবং সকাল ১১টায় সব শ্রেণির মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সুবীর নন্দীর মরদেহ রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বেলা ১২টায় এফডিসি ও ১টা ৩০মিনিটে তাঁর মরদেহ রাখা হবে চ্যানেল আই কার্যালয়ের সামনে।

গেল ১৪ এপ্রিল ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় সিএমএইচে চিকিৎসাধীন ছিলেন সুবীর নন্দী। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে সুবীর নন্দীর চিকিৎসার জন্য ৩০ এপ্রিল সকালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়।

এক নজরে সুবীর নন্দী:
সুবীর নন্দী, বাংলা সংগীত জগতের কিংবদন্তি নাম। ১৯৬৩ সালে তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নকালেই তিনি গান করতেন। এরপর ১৯৬৭ সালে তিনি সিলেট বেতারে গান করেন। তার গানের ওস্তাদ ছিলেন গুরু বাবর আলী খান। লোকগানের ওস্তাদ ছিলেন বিদিত লাল দাস। সুবীর নন্দী গানের জগতে আসেন ১৯৭০ সালে ঢাকা রেডিওতে প্রথম রেকর্ডিং এর মধ্য দিয়ে। দরদী কন্ঠের আধুনিক বাংলা গানের অবিস্মরণীয় এ কণ্ঠশিল্পী ৪৩ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গান গেয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি। বেতার থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে গেয়েছেন অসংখ্য গান।

চলচ্চিত্রে প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে। এরপর থেকে তিনি অসংখ্য চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন। ১৯৮১ সালে তার একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ ডিস্কো রেকর্ডিং এর ব্যানারে বাজারে আসে। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে তিনি যুগোস্লাভিয়া, ইংল্যান্ড, সুইডেন, আমেরিকা, আরব আমিরাত, জাপান, নেপাল ও ভারতে সংগীত পরিবেশন করেছেন। চলচ্চিত্রের সংগীতে অবদানের জন্য তিনি চার বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন (মহানায়ক ১৯৮৪, শুভদা ১৯৮৬, শ্রাবণ মেঘের দিন হাজার ১৯৯৯, মেঘের পরে মেঘ ২০০৪)। এছাড়া চার বার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেছেন। শিল্পকলা- সংগীতে গৌরবজনক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সুবীর নন্দীকে ২০১৯ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।