চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শিষ্য সাকিবের বিকল্প দেখেন না গুরু মানজিত

সেই বিকেএসপির দিনগুলো থেকে সাকিবের কোচ ছিলেন মানজিত সিং। পুরনো এই শিষ্য সম্পর্কে কথা বলতে যেয়ে স্মৃতিবিজড়িত মানজিত বললেন, ‘যে যেভাবেই দেখুন না কেন, বাস্তবতা হলো বাংলাদেশ দলে সাকিবের বিকল্প পাওয়া কঠিন।’

সাকিব যে বছর (২০০২) বিকেএসপিতে ভর্তি হন সে বছরই কোচ হিসেবে আসেন মানজিত। ভারতের প্রসিদ্ধ এই স্পিন বোলিং কোচের ছায়ায় বেড়ে ওঠেন তিনি। দুই মেয়াদে বিকেএসপির কোচ হিসেবে কাজ করে মানজিত ২০১১ সালে চলে যান নিজ দেশে। মেয়েদের প্রিমিয়ার লিগের দল রুপালি ব্যাংক ক্রীড়া পরিষদের কোচ হিসেবে এসেছেন ঢাকায়। মিরপুরে রুমানা-শুকতারাদের অনুশীলন করিয়ে মুখোমুখি হন চ্যানেল আই অনলাইনের। আলাপের বড় অংশ জুড়ে ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট ও তার শিষ্য সাকিব।

বিজ্ঞাপন

সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে পচেফস্ট্রমে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে সাকিবকে ছাড়া প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। মানজিত মনে করেন, ‘‘সাকিব না থাকায় অন্যদের বাড়তি কষ্ট করতে হবে। সত্যিকার অর্থে সাকিব বাংলাদেশ টিমের সম্পদ। যেমন বোলার, যেমন ব্যাটসম্যান, তেমন ফিল্ডার। সে মাঠে থাকা মানে অনেক কিছু, সে মাঠে থাকলে ফিল হবে ‘টাইগার’ তো আছে। তরুণরা তাকে দেখে উদ্দীপ্ত হয়। সাকিব না থাকায় অন্যদের দায়িত্ব বেড়ে গেল।’

বিজ্ঞাপন

মানজিতের ক্লাসে মেয়েরা

২০০২ সাল থেকে ২০০৫ প্রথম মেয়াদে এই তিন বছর বিকেএসপির কোচ হিসেবে কাজ করেন মানজিত। তিন বছরের বিরতি দিয়ে ২০০৮ সালে আবার ফিরে আসেন পুরনো কর্মস্থলে। দ্বিতীয় দফায় ৩ বছর কাজ করে ২০১১ সালে ফিরে যান ভারতে। ২০১৫ সালে প্রথমবার মেয়েদের প্রিমিয়ার লিগে ওঠা রুপালি ব্যাংকের কোচ হিসেবে আসেন মানজিত। দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে কাজ করায় সব ক্রিকেটারেরই খোঁজ রাখেন পাঞ্জাবের এই প্রবীণ কোচ। যেখানেই বাংলাদেশ দল সাফল্য পান, গর্বে বুকটা ফুলে ওঠে তার।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্যের কথা মনে করে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ হারালো অস্ট্রেলিয়াকে। ঢাকায় দারুণ একটা জয় পেল বাংলাদেশ। যদিও চট্টগ্রামে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। এই দলটির সবাই এখন পরিণত। যেকোনো দলকেই তারা হারাতে পারে। আমার ছাত্র মুশফিক এখন টেস্ট দলের অধিনায়ক, সাকিব তো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সৌম্য-লিটনরাও নিজেদের মেলে ধরার চেষ্টা করছে। আসল কথা হল, ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। জয়-পরাজয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। টেস্টে যদি টানা ৩-৪টা সিরিজ জিততে পারে বাংলাদেশ, তাহলে অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে মূল্যায়ন পাবে, খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসও তাতে বাড়বে।’