চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শাশুড়ির আঘাতে হাসপাতালে সাবারিমালা মন্দিরে প্রবেশ করা নারী

বহু বছরের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে এই মাসের শুরুতে সাবারিমালা মন্দিরে প্রবেশ করা দুজন নারীর একজন শাশুড়ির প্রহারে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তারাই ছিলো প্রথম ঋতুবতী নারী যারা বছরের পর বছর ধরে চলে আসা নিষেধাজ্ঞা ভেঙেছিলো। 

৩৯ বছর বয়সী কনকা দুর্গা ডানপন্থী বিদ্রোহীদের হুমকির কারণে দুই সপ্তাহ আত্মগোপনে থেকে বাড়িতে ফিরতেই শাশুড়ির আঘাতের শিকার হন। শাশুড়ি তার মাথায় আঘাত করেন। তবে তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল। ডাক্তাররা আরো কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে দিয়েছেন।

কনকা দুর্গা ৪০ বছর বয়সী বিন্দু আমমিনির সঙ্গে পাহাড়ের উপরের সাবারিমালা মন্দিরে প্রবেশ করে ৫০ বছরের কম বয়সী নারী হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেন। গত ১৩ দিন ধরে তিনি কচির আশপাশের কোনো গোপন জায়গায় ছিলেন।

কনকা দুর্গা একজন সরকারি চাকরিজীবী এবং বিন্দু আমমিনি কেরালার কান্নুর ইউনিভার্সিটির আইনের প্রভাষক।

মন্দির দর্শন শেষে কনকা দুর্গা এনডিটিভিকে বলেন, আমি জানি আমার জীবন হুমকিতে পড়বে তবুও আমি মন্দিরের ভেতরে যেতে চেয়েছিলাম। আরো যেসব নারীরা মন্দিরের ভেতরে যেতে চায় তাদের পথটা সহজ করতে পেরে আমি গর্বিত।

পরিবার তার সাবারিমালা দর্শনের পুরোপুরি বিপক্ষে জানিয়ে তিনি বলেন, ভক্তির ব্যাপারটাতো আছেই সঙ্গে লিঙ্গসমতার ব্যাপারও আছে। অনেক অনেক মানুষ আমার সফর স্থগিত করতে চেয়েছে, তার মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তা এবং বন্ধুরাও আছে।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কেরালার বিখ্যাত সাবারিমালা মন্দিরে ঋতুমতী নারীর (১০ থেকে ৫০ বছর বয়স) প্রবেশ একেবারেই নিষিদ্ধ ছিল। স্থানীয়দের বিশ্বাস, ওই মন্দিরের উপাস্য দেবী আয়াপ্পা একজন চিরকুমারী এবং ঋতুবতী হওয়ার বয়স হয়েছে এমন সব নারী ‘অপবিত্র’।

এ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের দেয়া রায়ে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত নারী উপাসকদের প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়।

এরপর গত দুই জানুয়ারি সাবারিমালা মন্দিরে প্রবেশ করেন ওই দুই নারী উপাসক। তাদের মন্দির দর্শনের পরই কেরালা জুড়ে প্রবল বিদ্রোহ শুরু হয়ে যায়। দিনব্যাপি ধর্মঘটও চলে।

FacebookTwitterInstagramPinterestLinkedInGoogle+YoutubeRedditDribbbleBehanceGithubCodePenEmail