চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শপথ নিতে চিঠি দেননি ফখরুল

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে স্পিকারকে কোনো চিঠি দেননি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি কোনো চিঠি দিইনি। সময় চাইনি। শপথও নিইনি। এটিও দলীয় সিদ্ধান্ত, দলীয় কৌশল।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আওয়াজ’ নামের একটি সংগঠন আয়োজিত ‘উন্নয়নের মৃত্যকুপে জনজীবন/ নুসরাত একটি প্রতিবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তাকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘গতকাল আমাদের দলীয় বক্তব্য স্পষ্ট করেছি। আমি গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানাই যে বিষয়টি সেভাবে প্রচার করেছে। তবে কিছু গণমাধ্যম কিছু বানোয়াট কথা প্রচার করেছে।’

‘‘আমি শপথ নিতে সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছি বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে। কিন্তু যখন দেখবে যে আমি শপথ নিইনি, তখন এসব গণমাধ্যমের অবস্থা কি হবে? এসব উদ্দেশ্য প্রণোদিত, আবার অজ্ঞতাও।’’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেকে বলেছেন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করছি আমরা। এসবও বানোয়াট সংবাদ। সমঝোতা করলে আরো আগে করতাম। খালেদা জিয়া কখনো নীতির প্রশ্নে আপোস করেননি। করবেনও না। এটি একটি দানব সরকার। দানবকে পরাজিত করার জন্যই আমরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

গতকাল থেকে রাজনীতি গরম হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। এটি নিঃসন্দেহে চমক। ইউটার্ন ছিল। কারণ আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করা। আমরা জনগণের যে ক্ষোভ ছিল তার ধারাবাহিকতায় বলেছিলাম, শপথ নিব না।’

বিজ্ঞাপন

‘‘কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত স্থবির থাকবে তা ঠিক নয়। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা সম্ভব নয়। সংসদে গিয়ে কথা বলার যে ন্যুনতম সুযোগ আছে, তা কাজে লাগানোর জন্য সংসদে গিয়েছি আমরা। এটি আমাদের জন্য খারাপ সিদ্ধান্ত বলে মনে করি না। আমরা সামান্য যে সুযোগ আছে তা কাজে লাগাতে চাচ্ছি। কারণ আমরা দেখছি যে, আমাদের প্রতিবাদ করার, কথা বলার জায়গাগুলো সীমিত হয়ে আসছে। তাই এই সিদ্ধান্ত। সময় বলবে সিদ্ধান্ত ঠিক কিনা। তবে আমরা মনে করি আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক।’’

এসময় বক্তব্য রাখেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, অধ্যাপক ড. শাহিদা রফিক। সভাপতিত্ব করেন সেলিমা রহমান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৮টি আসনে জয়লাভ করেছিল। যার মধ্যে ২টি গণফোরাম এবং ৬টি বিএনপির। তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে তা বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এমনকি নির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেবে না বলেও সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল।

তবে সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই প্রথমে শপথ নেন ঐক্যফ্রন্ট ও গণফোরমের অন্যতম নেতা সুলতান মুহাম্মদ ‍মনসুর। এরপর কিছুদিন পর শপথ নেন গণফোরামের আরেক নেতা মোকাব্বির খান।

বসে থাকেননি বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। গত ২৫ এপ্রিল রাজনীতির মাঠে হৈ-চৈ ফেলে দিয়ে শপথ নেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ। তার ঠিক চার দির পর এক সাথে বিএনপির আরো চারজন সংসদ সদস্য শপথ নেন।

তারা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. হারুনুর রশীদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া এবং বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন।

এখন পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি শপথ নেননি। আর তাই তিনিই এখন নানান আলোচনার কেন্দ্রে।