চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শঙ্কায় শেষ ক্লান্তির দিন

চট্টগ্রাম থেকে: চা-বিরতির পর টানা দুই ওভারে উইকেট নিলেন তাইজুল। ইনিংসের ২০০তম ওভারে ২০০ রানের লিড নিয়ে থামল শ্রীলঙ্কা। উইকেট অবশ্য একটি অবশিষ্ট ছিল, কিন্তু মৃতপ্রায় ২২ গজে ধুলো উড়তে দেখে বল হাতে নেয়ার অপেক্ষা বাড়ায়নি সফরকারীরা। পরে সেই একই পিচকে জীবন্ত করে তুললেন লঙ্কান স্পিনাররা। তাতে ৩ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করে একরাশ শঙ্কা নিয়েই ঘুমাতে গেছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

জহুর আহমেদে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে তোলা ৫১৩ রানের জবাবে শনিবার ৯ উইকেটে ৭১৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা। নিয়ে ২০০ রানের লিড। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬.৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৮১ রান তুলে দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা। এখনো পিয়ে আছে ১১৯ রানে। ৭ উইকেট নিয়ে পঞ্চম দিনের পুরোটা লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ।

সফরকারীদের সাফল্য এসেছে বাংলাদেশ দলীয় ফিফটি পেরিয়ে গেলে। অফস্পিনার দিলরুয়ানের বল লেন্থ বিচার না করেই সুইপ করতে গিয়ে শর্টলেগে ক্যাচ দেন ইমরুল (১৯)। অন্য ওপেনার তামিম ফিরেছেন ৪১ রানে। সান্দাকানের বলে উইকেটরক্ষক ডিকেভেল্লার গ্লাভসে ধরা পড়েছেন।

জোড়া ধাক্কার পর দিনের শেষ ওভারে বিপদ বাড়ে বাংলাদেশের। মুশফিক ২ রানে হেরাথের শিকার হলে চট্টগ্রাম টেস্ট বাঁচানো শঙ্কার হয়ে দাঁড়িয়েছে টাইগারদের। মুমিনুল ১৮ রানে অপরাজিত আছেন।

শ্রীলঙ্কা ইনিংস ঘোষণা করতেই স্টেডিয়ামের জায়ান্টস্ক্রিনে ভেসে উঠল কয়েকটি সংখ্যা। চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের ঘাম ঝরানো পরিশ্রম প্রতিফলিত তাতে। লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা ৭১৩ রানের সংগ্রহ গড়েছে ১৯৯.৩ ওভার খেলে। উইকেটে ৮৩৩ মিনিট কাটিয়ে। বাংলাদেশ বল ছুঁড়েছে ১১৯৯টি। এতটা পরিশ্রম অতীতে কখনই করতে হয়নি বাংলাদেশকে। সর্বোচ্চ ওভার বোলিংয়ের বিস্মৃতি ছিল ২০১৪ সালে, এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই মিরপুরে। বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ ৭৩০ রানের সংগ্রহ গড়ার পথে ১৮৭.৫ ওভার খেলেছিল লঙ্কানরা।

মূর্তিকারিগর

সকালে ৯ রানে পিছিয়ে থেকে শুরু করেছিল সফরকারীরা। পরে তৃতীয় ওভারেই শ্রীলঙ্কা ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশকে। ৮৩ রানে অপরাজিত থেকে শুরু করা রোশন সিলভা সাজঘরে ফেরেন মিরাজের বলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি (১০৯) তুলে।

সকালের সেশনে বাংলাদেশের সাফল্য এই একটিই। ৩০ ওভার ব্যাট করে সফরকারীরা যোগ করে ১০৮ রান। দ্বিতীয় সেশনে কয়েকটি উইকেট পায় স্বাগতিকরা। আর সফরকারীরা লিডের চাকা ঘুরিয়ে নেয় দ্রুত। চান্দিমাল ৮৭, ডিকেভেল্লা ৬২, পেরেরা ৩২, হেরাথ ২৪ রান তুলে লিড দুইশতে নেন।

বিজ্ঞাপন

টাইগারদের হয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ইনিংস সেরা তাইজুল। ৩টি উইকেট মিরাজের। সানজামুল পেয়েছেন প্রথম টেস্ট উইকেটের দেখে। বাকিটি মোস্তাফিজের।

চার উইকেট পেলেও তাইজুল গড়েছেন লজ্জার রেকর্ড। রান দেয়ার ডাবল সেঞ্চুরি ছুঁয়ে লজ্জার রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছেন। দ্বিতীয় সেশনে ডাবল হয়েছে তার। তার করা ৬৪তম ওভারে একটি রান নিয়ে রেকর্ডে ঢুকিয়ে দিয়েছেন দিলরুয়ান পেরেরা। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে এক ইনিংসে দুইশ রান খরচের প্রথম নামটিও এখন এ বাঁহাতি স্পিনারের।

টাইগারদের হয়ে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রান খরচের আগের রেকর্ডটি ছিল যৌথ মালিকানায়, মোহাম্মদ রফিক ও সোহাগ গাজীর। রফিক ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ১৮১ রান খরচ করেছিলেন ৪৮ ওভার হাত ঘুরিয়ে। আর গাজী ২০১৪ সালে এই জহুর আহমেদেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সমান রান বিলিয়েছিলেন ৪৫ ওভার বল করে।

তাইজুলের আগের সর্বোচ্চ খরচের খাতা ছিল ২০১৫ সালে। মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭৯ রান দিয়েছিলেন ৫১ ওভারে। সবশেষ সাউথ আফ্রিকা সফরে পচেফস্ট্রম টেস্টে মেহেদী হাসান মিরাজ ৫৬ ওভার বল করে ১৭৮ দিয়েছিলেন। এদিন ৪৯ ওভারে ১৭৪ রান দিয়ে নিজের সেই রেকর্ডের খুব কাছে থেমেছেন মিরাজ।

তাইজুল আরও একটি রেকর্ড গড়েছেন। ক্লান্তিকর রেকর্ড! বাংলাদেশের হয়ে যেখানে শীর্ষে ছিলেন সাকিব, শনিবারের পর সেখানে এক ইনিংসে তারচেয়ে বেশি ওভার বল করার ক্লান্তিময় পথচলার রেকর্ডটি এখন তাইজুলের।

চা বিরতির পর নিজের ৬৭তম ওভারটি করতে আসেন তাইজুল। সেটি দিয়েই টপকে যান সাকিবকে। পরে তার ৬৭.৩ ওভারের সময় ইনিংস ঘোষণা করে লঙ্কানরা। তাইজুলের যে পথে খরচ ২১৯ রান।

আগে বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ওভার বোলিংয়ের রেকর্ডটি সাকিব গড়েছিলেন ২০১০ সালে। মিরপুর টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৬ ওভার হাত ঘুরিয়েছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। রান দিয়েছিলেন মাত্র ১২৪। লম্বা সময় বল করা আর বড় বান বিলানোর সব রেকর্ডের দিনে ব্যাটসম্যানরা দ্রুত সাজঘরে ফিরে বোলারদের ক্লান্তিটা যেন আরও বাড়িয়ে দিলেন।