চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

লাবণ্যকে ধাক্কা দেওয়া কার্ভাড ভ্যানের চালক আটক

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে সড়কে দুর্ঘটনায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফাহমিদা হক লাবণ্য নিহত হওয়ার ঘটনায় কাভার্ড ভ্যান চালককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার তেজগাঁও বিভাগের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার বিষয়টি চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করে বলেন, লাবণ্য যে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় নিহত হয়েছে, সেই গাড়িটি ও তার চালককে আটক করা হয়েছে। রোববার সকালে এ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মুনশি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ঢাকার বাইরে থেকে অভিযান চালিয়ে ঘাতক কাভার্ড ভ্যান চালককে আটক করা হয়েছে। একইসঙ্গে কাভার্ড ভ্যানটিও জব্দ করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ের একটি বাসা থেকে উবার মোটরবাইক চালক সুমন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ওই বাসার নিচতলার গ্যারেজ থেকে লাবণ্যকে বহনে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটিও (ঢাকা মেট্রো হ ৩৬-২৩৫৮) উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক সুমনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কলেজ গেটে অবস্থানকালে তার থেকে পাঁচ মিনিটের দূরত্বে অবস্থানকারী একজন উবার কলার (ফাহমিদা হক লাবণ্য) এর কল পেয়ে সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে সুমন তাকে ফোন দেন।

লাবণ্য খিলগাঁও ছায়াবীথি মসজিদের সামনে যেতে চান জানিয়ে সুমনকে শ্যামলী ৩ নং রোডের ৩১ নং বাসার সামনে আসতে বলেন।

উবার চালক সুমন পুলিশকে বলেন, শ্যামলী ৩ নং রোডের ৩১ নং বাসার সামনে লাবণ্য বাইকে উঠেন। রাস্তায় যানজট ছিলো। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কাছাকাছি পৌঁছামাত্র একজন লোককে বাইকের সামনে দৌড়ে রাস্তা পার হতে দেখে ব্রেক কষেন। ফলে লাবণ্য মোটরবাইকের ডানদিকে পড়ে যান। এ সময় একটি কাভার্ড ভ্যান পিছন থেকে তাকে ধাক্কা দেয়।

বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, বাইকচালক সুমনের বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি চালক হিসেবে তার অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত ভুল ছিলো কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মোটরবাইকটি কেনার সময় এবং উবারচালক হিসেবে রেজিস্ট্রেশনের সময় তিনি যে ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন তা সঠিক ছিলো না।

বুধবার শেরে বাংলা নগরে সড়কে নিহত ফাহমিদা হক লাবণ্য (২১) ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাসা শ্যামলী ৩ নং রোডে।

দুর্ঘটনার পর পথচারীরা লাবণ্যকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।