চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোহিতের ব্যাটে চূর্ণ ক্যারিবীয়রা

প্রথম তিন ম্যাচে যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দেখা গিয়েছিল চতুর্থ ম্যাচে সেই দলকে দেখাই গেল না। ভারতীয় বোলারদের সামনে কোনো রকম প্রতিরোধই করতে পারল না তারা। পুরোপুরি নেতিয়ে গিয়ে ক্যারিবীয়রা অলআউট হয় ১৫৩ রানে। ভারত ম্যাচ জেতে ২২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে।

বিজ্ঞাপন

মুম্বাইয়ে খেলা হলে সাধারণত ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামেই হয়। কিন্তু এ দিন খেলা হয় ব্রেবোর্ন স্টেডিয়ামে। রোহিত শর্মা ১৬২ রান করেন। সেঞ্চুরি করেন আম্বাতি রায়ডুও। তার ব্যাট থেকে আসে ঠিক ১০০ রান। রোহিত-রায়ডুর জোড়া সেঞ্চুরির সুবাদে ভারত পাঁচ উইকেট হারিয়ে তোলে ৩৭৭ রান। জবাবে ৩৬ ওভার ২ বলে ১৫৩ রানেই ‍গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা।

এদিন ক্রিকেটপ্রেমীরা তাকিয়ে ছিলেন বিরাট কোহলির ব্যাটের দিকে। এই ম্যাচে সেঞ্চুরি করলে টানা চার ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করতেন তিনি। স্পর্শ করতেন শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারার রেকর্ডকে। কিন্তু তিনি ফেরেন ১৬ রানে। সেই আক্ষেপ অবশ্য পুষিয়ে দেন রোহিত-রায়ডু। তৃতীয় উইকেটে দু’জনে যোগ করেন ২১১ রান।

রোহিত শর্মা অবশ্য যেভাবে খেলছিলেন, তাতে ওয়ানডে ফরম্যাটে আরও একবার ডাবল সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখছিলেন দর্শকরা। এর আগে তিনবার ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। কিন্তু অ্যাশলে নার্সের বলে ফুটওয়ার্ক ছাড়াই মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন শর্ট থার্ডম্যানে। তবে সাতবার দেড়শোর বেশি রান করলেন তিনি। যা রেকর্ড। এই সিরিজেই প্রথম ম্যাচে ১৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন রোহিত।

বিজ্ঞাপন

৬০ বলে পঞ্চাশের পর রোহিত সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে নেন আর ৩৮ বল। দেড়শোয় পৌঁছাতে নেন আর ৩৩ বল। ক্রমশ মারমুখী হয়ে উঠছিলেন তিনি। ৩৩ ওভারে ক্যারিয়ারের ২১তম সেঞ্চুরি করায় চতুর্থ দ্বিশতরানে পৌঁছানোর জন্য হাতে ওভারও ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত থামেন ১৬২ রানে। ১৩৭ বলের ইনিংসে মারেন ২০টি বাউন্ডারি ও চারটি ওভার বাউন্ডারি।

চার নম্বরে নেমে ৮০ বলে সেঞ্চুরি করেন রায়ডু। ২০১৭ সালের জানুয়ারির পর এই প্রথম চার নম্বর বা তার নীচে নেমে কোনও ভারতীয় ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করলেন। ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরির ইনিংসে রায়ডু মারেন আটটি চার ও চারটি ছয়। পাঁচে নেমে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি ১৫ বলে ২৩, ঋষভ পান্টের জায়গায় নেমে কেদার যাদব সাত বলে অপরাজিত থাকেন ১৬ রানে। রবীন্দ্র জাডেজাও চার বলে সাত রানে অপরাজিত থাকেন।

সফরকারীদের হয়ে কেমার রোচ নেন দুটি উইকেট।

রানের পাহাড় টপকাতে গিয়ে শুরুতেই হোঁচট খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্কোর বোর্ড ৫০’র ঘর ছোঁয়ার আগেই সাজঘরে ফেরেন পাঁচ ব্যাটসম্যান। দলীয় সর্বোচ্চ ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। অন্য কোনো ব্যাটসম্যান কুড়ির ঘরে যেতে পারেননি।

ভারতের হয়ে খলিল আহমেদ ও কুলদ্বীপ যাদব নেন ৩টি করে উইকেট। রবীন্দ্র জাদেজা ও ভুবনেশ্বর কুমারের পকেটে গেছে একটি করে উইকেট।

পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এখন ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। প্রথম ম্যাচে জিতেছিল ভারত। টাই হয় দ্বিতীয় ম্যাচ। তৃতীয় ম্যাচে জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজ অমীমাংসিত রেখে দেয়ার সুযোগ এখনও ক্যারিবিয়ানদের কাছে রয়েছে। তবে চতুর্থ ম্যাচে তাদের যে পারফরম্যান্স, তাতে পঞ্চম ম্যাচে আশঙ্কাই থেকে যাচ্ছে।