চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রিজার্ভ চুরি এবং কর্মকর্তাদের কর্তব্যজ্ঞান

বাংলাদেশ ব্যাংক সূচনালগ্নের পর থেকে বর্তমানে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় ছিল। হঠাৎ করে ঝড়ের তাণ্ডব এই অবস্থায় আঘাত হানে। যিনি রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসছিলেন বিদায়ী গভর্নর ড. আতিউর রহমান, তিনি দেশি বিদেশি চক্রান্তের শিকার হয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সাড়ে সাত বছরে যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন এবং যারা কৌশল নির্ধারণী নেতা হিসেবে বাস্তবায়নে ছিলেন তাদের অন্যতম দিকপাল হচ্ছেন ড. আতিউর রহমান। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এক বিশ্বস্ত সৈনিক। তার পদত্যাগের পর শেখ হাসিনাও বলতে দ্বিধা করেননি যে, ড. আতিউর একজন সত্যিকার দেশপ্রেমিক বীর। ড. আতিউরের পদত্যাগের পর যে দুজন ডেপুটি গভর্নরকে বরখাস্ত করা হয়েছে এটি অর্থমন্ত্রী একটি যুক্তিযুক্ত কাজ করেছেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অপারেশন এবং অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের নির্বাহী পরিচালক এবং মহাব্যবস্থাপকসহ আরো কয়েকজনকে যে বরখাস্ত করা হয়েছে তা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা কর্তৃক যে মামলাটি মতিঝিল থানায় দায়ের করা হয়েছে, সেখানে একজন প্রাক্তন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং সাইবার বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ হিসেবে বেশ কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়ে। যেমন এজহারে জুবায়ের বিন হুদা বলেছেন, সুইফট লেনদেনের নিয়ম অনুযায়ী ৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকালে পূর্বের দিনের সম্পাদিত লেনদেন নিশ্চয়তা বার্তা প্রিন্ট করতে গিয়ে তিনি প্রিন্ট সার্ভারে লগ ইন করতে ব্যর্থ হন এবং প্রিন্ট করতেও ব্যর্থ হন। তার সাথে ছিলেন আরেকজন সহকারী পরিচালক। এই দুইজনের চরম গাফিলতি আসলে কোন ভাষায় বলে শেষ করা যায় না। তাদের অবহেলার কারণে দেশ থেকে এই অর্থ পাচার হতে সক্ষম হয়েছে। কেননা তারা তখন যদি সাথে সাথে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আনতেন তবে নিশ্চয়ই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেয়া হত। এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান জানতে পারলে চিরকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে কথা বলতে পারতেন। এমনকি ৬ জানুয়ারি শনিবার যখন তারা প্রিন্ট করতে সক্ষম হন তখনও কিন্তু তারা কেরানীসুলভ মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন। একজন সত্যিকার কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা রাখেননি। কেননা তারা চ্যানেলের মধ্য দিয়ে ডিজিএম, জিএমকে যেভাবে জানিয়েছেন তাতে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, কর্তব্যে গাফিলতি এবং জাতির প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধের পরিচয় দেননি। তারা সমস্যাটা নিজেরা সমাধান করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। অথচ বিষয়টি হচ্ছে ১১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার শ্রীলঙ্কা-ফিলিপাইন-বেইজিংয়ে চলে যাওয়া। যদিও বানান ভুলের কারণে শ্রীলঙ্কায় চলে যাওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কেরানীমূলক কর্মকর্তাদের কারণে ব্যাকআপ সার্ভর চালু হয় ৮ তারিখ সন্ধ্যা ৬টার পর। অথচ যে কোন চ্যানেলের মাধ্যমে তারা গভর্নরকে জানাতে পারতেন। আমি যতটুকু জানি ড. আতিউর অত্যন্ত সাদাসিদে মানুষ। তার কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে কোন অফিসার সহজেই আলাপ করার ক্ষমতা রাখেন। তাহলে এ ধরনের ঘটনা নাও ঘটতে পারতো।

একজন প্রাক্তন ব্যাংকার হিসেবে সুইফট মেশিনে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং সাইবার বিষয়ক জ্ঞানের আলোকে আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি এটি একটি দূর্ভাগ্যজনক এবং চক্রান্তমূলক কর্মকাণ্ড। এরমধ্যে বর্তমান সরকারকে দেশে বিদেশে ছোট করার প্রয়াস বা চক্রান্ত ফুটে উঠেছে। বিএনপি জামায়াতের গিরগিটির মতো রঙ পাল্টানো লোকেরা কেবল এদেশে না, বিদেশেও সক্রিয়। যতই বলা হোক বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ এ কাজে জড়িত আছে কিনা বলা যাচ্ছে না। কিন্তু সুইফট কোড কখনো অটোমেটিক্যালি কারো সাহায্য ছাড়া জানা সম্ভব না যদি কেউ ভেতর থেকে এ কাজে সাহায্য না করেন। এবং যিনি এজাহার করেছেন তাকেই ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। পাশাপাশি বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত ডেপুটি গভর্নর আল রাজি হাসানের একটি ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য টিভিতে নিজের কানে শোনার সৌভাগ্য হয়েছে। দেশের এত বড় বিপর্যয়ে আল রাজি হাসান বলছেন, উনি কোথাও নির্দেশনা পাননি যে, এতো বড় ঘটনা অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। তিনি আরও বলেছেন, তবে লাইন মিনিস্ট্রি হিসেবে জানানো যেত। তার এই ঔদ্ধত্যপূর্র্ণ বক্তব্যের জন্যই তাকেও সাসপেন্ড করা জরুরি দরকার ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ঘটনার পর এক মাসেও সরকার প্রধান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে না জানানোটা অত্যন্ত দূর্ভাগ্যজনক এই কারণে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক পুরো স্বায়ত্ত্বশাসিত নয়। এবং তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের কাস্টডিয়ান অথচ এই টাকার মালিক বাংলাদেশের জনগণ। সেই জনগণের পক্ষে সরকারের এটি দেখভাল করার কথা। যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা গাফিলতি না করতেন তাহলে ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের মহিলা ব্যবস্থাপক চক্রান্ত করার এত বড় সাহস পেতেন না। কেননা ওই ব্যবস্থাপক অত্যন্ত সুচতুর এবং একজন দাগী আসামির মতো তাদের দেশের সিনেটে বিস্তারিত বক্তব্য রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফিলিপাইনের সিনেটে রিজাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্টকেও তলব করা হয়েছিল।

আসলে চায়না ও ফিলিপাইনে এবং হংকংভিত্তিক যে সমস্ত দুষ্কৃতিকারী দল আছে তাদের সাথে বাংলাদেশের ঘাপটি মেরে থাকা দেশদ্রোহী এবং নব্য রাজাকাররা এক জোট হয়ে এই ধরনের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। আর তাদের এই অপকর্মের বলি হলেন একজন দক্ষ এবং বাংলাদেশের সেরা ব্যাংকার ড. আতিউর রহমান। যিনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৯ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। এদেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা যেসমস্ত কর্মকর্তা মধ্যম এবং নিম্ন পর্যায়ে আছেন তারা কাজে কর্মে সব সময় গাফিলতি করেন। কাজটিকে দায়িত্ব হিসেবে না দেখে কোনমতে সময় কাটানোর প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেন। এই ধরনের মন মানসিকতা যতদিন থাকবে ততদিন যতই ডিজিটাল বাংলাদেশ করার চিন্তাভাবনা করা হোক তা শেষ পর্যন্ত কোনো কাজে আসে না।

বিজ্ঞাপন

সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে ডিজিটাল করতে সক্ষম হচ্ছি। এটি আমাদের গর্বের বিষয়। কিন্তু ডিজিটাল করলেও প্রতিটি কর্মকাণ্ডের পেছনে উদ্ভাবনী ও ধীশক্তিসম্পন্ন মানুষের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে যে কমিটিটি হয়েছে আশা করব তা যেন বিশ্ব ব্যাংকের ফর্মুলায় করে প্রধানমন্ত্রীকে সমস্যায় না ফেলেন। কেননা ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন ইতোমধ্যে অষ্টম বেতন স্কেল করে ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারকে নানা সমস্যায় ফেলেছেন। তার জানা উচিত ছিল যখন কাউকে কোন বেনিফিট দেওয়া হয় তখন হুট করে তা বন্ধ করা যায় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তখন আতিউরের মত নিঃস্বার্থ লোকদের বড় বেশি দরকার ছিল যারা তথাকথিত নব্য আওয়ামী লীগার নয়।

যখন আতিউর পদত্যাগ করেন তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চোখে ছিল জল। আসলে প্রধানমন্ত্রী এদেশকে বড় ভালোবাসেন। প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাপারে আরো সতর্ক হতে হবে। ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উনার একক সিদ্ধান্তই যেন এখানে কাজ করে। কে কি বলল কে নিজের সুবিধা আদায়ের জন্য কি বলল তা যেন না শুনেন বরং তার প্রজ্ঞা ও নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তি দ্বারা উনি যেভাবে দেশ পরিচালনা করছেন ঠিক সেভাবেই যেন সিদ্ধান্ত নেন। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২১ সালে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকে শুধু মুদ্রানীতি পরিচালনা নয়, বঙ্গবন্ধুর যে আদর্শ এবং শেখ হাসিনার যে আদর্শ দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি তথা আর্থিক খাতে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের অন্তর্ভূক্তিকরণ সে ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা ড. আতিউর রেখে গেছেন। এ পর্যায়ে আর কেউ তা করতে পারতেন না। যদিও বর্তমানে যিনি নতুন গভর্নর হচ্ছেন ফজলে কবির সাহেব তাকে আমি চিনি তিনি অত্যন্ত যোগ্য এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন দক্ষ কর্মকর্তা। বাংলাদেশ ব্যাংককে পুনর্গঠন করা দরকার। যে কথাটি আমি সব সময় বলে আসছি বাংলাদেশ ব্যাংকের চারটি ডেপুটি গভর্নর পদের মধ্যে অন্তত একটি ডেপুটি গভর্নর পদ বাণিজ্যিক ব্যাংকিংয়ে দীর্ঘ ২৫/৩০ বছর কাজ করেছেন যার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের ৭/৮ বছর এমডি ছিলেন এবং দুর্নীতিতে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এমন কাউকে ডেপুটি গভর্নর করা উচিত। আরেকটি ডেপুটি গভর্নর পদে বাণিজ্যিক ব্যাংকের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রযুক্তিজ্ঞানে খুবই দক্ষ হওয়া উচিত। বাইরে থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে তথাকথিত বিশেষজ্ঞ এনে এদেশের কোন লাভ নেই। এদেশের সমস্যা সমাধান করতে হলে এদেশের দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও অসাম্প্রদায়িকতার নীতিতে বিশ্বাসী দেশি অথবা প্রবাসী বাংলাদেশি যোগ্য্ ব্যক্তি দ্বারা প্রয়োজনে বিদেশি বিশেষজ্ঞ সমপরিমাণ টাকায় দেশের প্রতি দরদি যোগ্য এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশিকে এ পদে নিয়োগ করা যেতে পারে। আজকে বাংলাদেশ ব্যাংক যে উচ্চতায় এসেছে সেটা কেবলমাত্র ড. আতিউর রহমানের দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্বের কারণে। তবে উনি বন্ধুবৎসল ছিলেন, বন্ধুদের বড় ভালোবাসতেন এবং মানুষকে বিশ্বাস করেছেন। এখানেই তার সমস্যা। একজন যোগ্য নেতা মানুষকে বিশ্বাস করে যে ঠকতে পারে সেটা তিনি প্রমাণ করে গেলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এত বড় জালিয়াতি বা হ্যাকিংয়ে নিশ্চয়ই দেশে এবং বিদেশে চক্র রয়েছে। যেটি একমাত্র আমাদের দেশে গোয়েন্দা বাহিনী তাদের যোগ্যতাগুনে খুঁজে বের করতে পারবেন বলে আমি আশা করি। আমরা কিছু হলেই বিদেশীদের কাছেই আমাদের ডাটা দিয়ে দেই কিন্তু ভবিষ্যতে এটি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ আমাদের ডাটার সিকিউরিটিটা নিশ্চিত করা দরকার। যদিও যে কোন ডাটাই সুচতুর ব্যক্তিরা ডিক্রিপশন থেকে এনক্রিপশন করতে পারে।

যদি আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী ৫ তারিখে এই খবরটি পেত, গভর্নরের কাছে কর্মকর্তারা জানাতেন তাহলে তৎকালীন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সরাসরি ফিলিপাইনের গভর্নরের সাথে কথা বলে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে পারতেন। এই যে দীর্ঘ সময় কালক্ষেপণ তার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরে যদি কোন কুচক্রী চক্র থেকে থাকে তারা অনেক ক্ষেত্রেই আলামত নষ্ট করতে সক্ষম হবে। আসলে আতিউর সাহেব একদিক দিয়ে ঠিক বলেছেন, এ জিনিসটা জনসমক্ষে আসলে হয়তো জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যেতো। কিন্তু উনি জানার সাথে সাথে যদি অর্থমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করতেন গোপনে তাহলেও একটি ভাল কাজ হতো। কেননা একটি রাষ্ট্রের সবকিছুই যে জনগণের স্বার্থে তৎক্ষনাৎ জানাতে হবে তা নয়। বরং গোপনে যদি গোয়েন্দারা তদন্তে মাঠে নামতেন এবং ক্লাসিফাইড করে রাখা হতো প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশে যে এ তথ্য অত্যন্ত সংরক্ষিত ও গোপনীয় তাহলে দেশের টাকাটা আরো বেশি ফেরত আনার সুযোগ থাকত।

একজন প্রাক্তন ব্যাংকার হিসেবে আমি বলব রিজাল ব্যাংক যে শাখা ব্যবস্থাপক টাকা দেওয়ার আগ মুহুর্তে যেহেতু পেমেন্ট বন্ধ করার নির্দেশ পেয়েছিলেন এবং উনি গাফিলতি করেছেন সেহেতু এটা সুনিশ্চিত যে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তার কঠোর শাস্তি হতে পারে। কিন্তু আমাদের টাকা ফেরত আনার জন্য আরো পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যেটা দরকার সেটি হচ্ছে চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধারের জন্য বিশ্ব আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একইসাথে এত বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটার পর কম্পট্রোলার জেনারেল অব অ্যাকাউন্স এর নেতৃত্বে একটি সরকারি অডিট টিম জরুরি ভিত্তিতে নিরবিচ্ছিন্ন অডিট পালন করা উচিত। এই অডিটের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ঠিক আছে কিনা তা তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখা উচিত। তথাকথিত সিএ ফার্ম দিয়ে আর যাই হোক সত্যিকার চিত্র কখনো দেশে আসে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই দূরবস্থা কাটিয়ে উঠতেই হবে। একই সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকে সামনের দিকে জনকল্যাণমূলক কাজ মুদ্রানীতির সঠিক বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। কেননা দেশকে নতুন দিনের সন্ধানে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর যে উদ্যোগ সে উদ্যোগ সফল করতেই হবে। নতুন গভর্নর ফজলে কবির সাহেবের প্রতি থাকল আন্তরিক মোবারকবাদ একই সাথে আশা করব তিনি ন্যায়নিষ্ঠভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার মান উন্নত করবেন এবং ব্যাংকিং খাতে বিরাজমান দুর্নীতির যে বিশাল থাবা এবং সাম্প্রতিক সময়ে যে এটিএম কার্ডে দুর্নীতি হচ্ছে এগুলোর ক্ষেত্রেও সত্যিকার অর্থে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা করবেন। বিদেশে গিয়ে পাচারকৃত অর্থ আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সর্বাগ্রে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে গ্রহণ করতে হবে। কেননা ইতোমধ্যে অনেক সময় পার হয়ে গেছে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)