চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাত জেগে রাস্তা পরিষ্কার

চীনের সঙ্গে বিতর্কিত বন্দী প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে আন্দোনলকারীরা হংকংয়ের রাস্তার আবর্জনা পরিষ্কার করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। প্রায় বিশ লাখ প্রতিবাদকারী সারা রাত ধরে পরিষ্কার অভিযানে অংশ নেন।

হংকংয়ের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় জমায়েত। প্রতিবাদকারীরা সমবেত হয়ে মধ্যরাতে পরিষ্কার অভিযান শুরু করে। তবে রাস্তায় শেষ এক বিন্দু ময়লা থাকা পর্যন্ত এ অভিযান চালান বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের একজন কং সাং গান।

বিজ্ঞাপন

আরেকজন আন্দোলনকারী অ্যানি চান বলেন, আমি সেখানে ছিলাম, আমি দেখেছি সেখানে তরুণরা বিভিন্ন ধরণের ব্যাগ নিয়ে শেষ রাত অবধি রাস্তার ময়লা পরিষ্কার করেছেন। জনগণ অনেক শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু তারা অনেক ক্ষুব্ধ।

প্রতিবাদকারীরা এসময় শিশু ও বৃদ্ধকে বহনকরা অ্যাম্বুলেন্সকে তারা চলে যেতে সাহায্য করেন। ছোট ছোট শিশুদের আন্দোলনকারীদের সাহায্য করতে দেখা যায়।

সাবেক আইনজীবী ও আন্দোলনকারী লি চেয়াক ইয়ান বলেন, ‘ল্যাম আমাদের কথা  না রাখায়  আমরা খুব রাগান্বিত।এখন আমাদের কৌশলগত দিক নিয়ে কথা বলার সময়। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় আবারও রাস্তায় নেমে এসেছে। এ আন্দোলন চলতে থাকবে বলে জানান তিনি।’

আন্দোলনের মুখে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের সঙ্গে বিতর্কিত বন্দী প্রত্যর্পণ বিল স্থগিতের ঘোষণা দেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যাম।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত সপ্তাহে ব্যাপক বিক্ষোভের পরও ল্যাম বিলটি বাতিলের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ল্যাম জানান, বিলটি সমাজে ব্যাপক বিভক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য ‘থেমে একবার ভাবার’ জন্য সরকারের প্রতি বিভিন্ন যে আহ্বান জানাচ্ছিল সেটা শুনেই বিলটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আন্দোলনকারীরা বলেন, আমাদের দাবি সাধারণ, ক্যারি ল্যামকে অবশ্যই অফিস ত্যাগ করতে হবে।বিতর্কিত বন্দী প্রত্যর্পণ বিল বাতিল করতে হবে। সহিংস আক্রমণের জন্য পুলিশকে ক্ষমা চাইতে হবে।

সপ্তাহব্যাপী ওই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ৭২ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাসের তারা আহত হন।

হংকংয়ের পার্লামেন্টে চীনপন্থী হিসেবে পরিচিত ল্যাম ও তার দলীয় আইনপ্রণেতারা বন্দী প্রত্যর্পণ আইন পাসের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রস্তাবিত বিলটিতে পলাতক অপরাধীদের বিচারের জন্য চীনে প্রত্যাবাসনের বিধান রাখা হয়েছিল।

প্রস্তাবিত এই বিল নিয়ে আলোচনা শুরুর পর থেকেই শহরের অর্থনৈতিক কেন্দ্র স্থলটি অচল হয়ে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষও হয়।

হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০৪৭ সালের মধ্যে অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে চীন প্রশাসন৷ ১৯৯৭ সালে হংকংকে চীনের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছিল৷