চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাজশাহী সফরে ব্যস্ত সময় কাটালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার গত ২৭ থেকে ২৯ মার্চ রাজশাহী সফরে এসে নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়, অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয় এগিয়ে নেওয়াই ছিল তার এ সফরের লক্ষ্য।

রাষ্ট্রদূত মিলার এ সফরের সময় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন আমেরিকান সেন্টারের উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া তিনি বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় পরিচালিত সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ কর্মকাণ্ড দেখেন এবং ইংলিশ অ্যাকসেস মাইক্রোস্কলারশিপ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে নির্মিত চলচ্চিত্রও দেখেন। সহিষ্ণুতা, অহিংসা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণকে অনুপ্রাণিত করতেই এসব চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আমেরিকান কর্নারে যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের অ্যালামনাইদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এসব অ্যালামনাই সাংবাদিকতা, ইংরেজি শিক্ষা, সুশীল সমাজ, জীববিজ্ঞানের গবেষণাসহ বিভিন্ন বিষয়ে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি রেডিও ‘পদ্মা’য় গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত ‘আমেরিকান ইংলিশ রেডিও প্রোগ্রাম’ নিয়ে আলোচনা করেন।

স্থাপত্য ও প্রদর্শনী বিষয়ক সংস্কার এবং সংরক্ষণের কিছু কাজ দেখতে রাষ্ট্রদূত মিলার রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এ কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ‘ইউএস অ্যামব্যাসেডর’স ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন’ তহবিলের আওতায় মোট এক লাখ ৯৩ হাজার ডলারের (১ কোটি ৬২ লক্ষ ১২ হাজার টাকা) তিনটি মঞ্জুরি সহায়তা দিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে চার হাজারেরও বেশি বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং পুলিশ সদস্যের মধ্যে অনেকের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ওই কয়েকহাজার শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে ২০১৬ সাল থেকে চলমান একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। ওই কর্মসূচিতে তারা স্থানীয় মানুষ ও এলাকার বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা লাভ করেন।

রাষ্ট্রদূত মিলার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি পরিদর্শনেও যান। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত আইন–প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অগ্রগতি দেখেন। এতে ১৩ হাজার ৭৭০ জন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রদূত মিলার বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের পরদিন রাজশাহীতে পৌঁছেছিলেন। রাষ্ট্রদূতকে সেখানে স্বাগত জানান রাজশাহীর মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মিলার শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া তিনি রাজশাহীতে বসবাস ও কর্মরত আমেরিকানদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

পরিদর্শন ও সাক্ষাতের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত মিলার রস কদম, কমলা ভোগ এবং পেড়া সন্দেশের জন্য একটি স্থানীয় মিষ্টির দোকানে যান। রাজশাহীর ঐতিহ্য বলে পরিচিত কলাই রুটি খান তিনি। এছাড়া পদ্মা নদীর পাড়ের টি বাঁধে হাঁটা ছাড়াও পুঠিয়া প্রাসাদ ও রাজশাহী কলেজসহ কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করে সফর শেষ করেন রাষ্ট্রদূত।

FacebookTwitterInstagramPinterestLinkedInGoogle+YoutubeRedditDribbbleBehanceGithubCodePenEmail