চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

যৌতুক না পেয়ে শিমুরানী বর্মণ নামের এক গৃহবধূকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সুব্রতদাস জগাই ও তার পরিবারের প্রতি। হত্যার ঘটনা ধাপা-চাপা দিতে শিমুর পরিবারকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে দাহের আয়োজন করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ শিমুর পরিবার ও এলাকাবসীর সহায়তায় বুধবার রাতে মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

বিজ্ঞাপন

এই নির্মম ঘটানাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে। মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে নিহত গৃহবধূর বাবা শুভরন বর্মন বাদী হয়ে শিমুর স্বামী সুব্রত দাস জগাই (২৫), কান্টু দাস (৩০), শ্বশুর অতুল দাস (৫৬), কানন রানী (৪৫), সুভাষ দাস (৬০), গৌর দাস (৩০) ও তাপস দাস (২৫), এই সাত জনকে আসামী করে ঘাটাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।

নিহত গৃহবধূর মা বিলাপ করে জানায়, বিয়ের সময় ঘটি-বাটি, গয়নাসহ নগদ টাকা যৌতুক দিয়েছি। কিন্তু তাতেও তাদের মন ভরেনি। আরো ৫ লাখ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণের জন্য শিমুকে প্রতিনিয়তই মারপিট করত। আমরা গরীব মানুষ এতা টাকা সংগ্রহ করার ক্ষমতা আমাদের নাই, তাই মেয়েকে মুখ বুজে সহ্য করতে বলতাম। আমার মেয়ে সব অত্যাচার সহ্য করে মুখ বুজে এখানে পড়ে ছিল। তাই বলে পাষন্ডরা আমার মেয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারতে পারলো! আমার আদরের সন্তানটা মেয়ে জম্মেছিলো, এটাই তার পাপ!

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কামাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পাষন্ড স্বামীকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। মামলার সকল আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলা বিবরণ সূত্রে জানা যায়, জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার গারেরগ্রাম সাকিনের শুভরন চন্দ্র বর্মনের মেয়ে শিমু রানী বর্মন। ২০১৩ সালের এপ্রিলে শিমুর বিয়ে হয় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চরপাড়া গ্রামের অতুল দাসের ছেলে সুব্রতদাস জগাই এর সাথে। 

বিয়ের পর থেকেই ৫ লাখ টাকা এবং ৫ ভরি স্বর্ণের জন্য শিমুকে মাঝে মধ্যেই নির্যাতন করত স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ অক্টোবর বিকালে যৌতুকের দাবিতে ঘরে আটকে রেখে স্বামী, শ্বশুর, শ্বাশুরী ও ননদ মিলে শিমুকে মারধোর করে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তারা শিমুর শরীরে কোরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে সে মারাত্মক দগ্ধ হয়।

খবর পেয়ে শিমুর আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে ওই দিন রাতে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরের দিন সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩ নভেম্বর রাতে শিমু মারা যায়।

স্বামীর বাড়ির লোকজন শিমুর মৃত্যুর খবর তার বাবা-মাকে না জানিয়ে গত ৪ নভেম্বর ঘাটাইলের চরপাড়া নিয়ে এসে তড়িঘড়ি করে দাহ করার উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়টি শিমুর বাবার বাড়ির লোকজন এলাকাবসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশকে জানালে পুলিশ রাতেই শিমুর লাশ ঘাটাইল থানায় নিয়ে আসে।