চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যে পাইলট বাঁচালেন ১৭১ জনের জীবন

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণে বাধ্য হওয়া ইউএস বাংলা এয়ার লাইন্সের ফ্লাইট বিএস-ওয়ান ফোর ওয়ান এর পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন জাকারিয়া। তার দক্ষতা আর সাহসিকতায় রক্ষা পেয়েছে ১৬৪ যাত্রীসহ ১৭১ আরোহীর জীবন। যাত্রীদের মধ্যে শিশু ছিল ১১ জন।

বিজ্ঞাপন

দুপুরে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণের আগে এয়ারক্রাফটটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে ফ্লাইটটির গতিপথ পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। এ ঘটনায় ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি রানওয়ে স্পর্শ করার সাথে সাথে উড়োজাহাজটির পেছনে ছুটতে শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি গাড়ীসহ উদ্ধারকারী দল। এক পর্যায়ে ফ্লাইটি রানওয়েতে থেমে গেলে বড় কোন দুর্ঘটনা ছাড়া ইমারজেন্সি ডোর দিয়ে যাত্রীরা একে এক বের হয়ে আসেন।

এভাবে এতো মানুষের জীবন রক্ষায় নিজের দক্ষতা ও সাহসিকতার প্রমাণ রেখেছেন ইউ এস বাংলা এয়ারলাইন্সের পাইলট ক্যাপ্টেন জাকারিয়া।

বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমান বন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে উড়েছিলেন তিনি। দুপুর সাড়ে ১২টায় কক্সবাজারে পৌঁছানোর কথা ছিলো ফ্লাইটটির। কিন্তু, অবতরণের আগে পাইলট ফ্লাইটের সামনের চাকায় যান্ত্রিক ত্রুটি টের পান। নোজ হুইল না নামায় ক্যাপ্টেন একের পর এক সব জরুরি ব্যবস্থা নিতে থাকেন। ব্যর্থ হয়ে হয়ে টাওয়ারের সাথে কথা বলেন পাইলট। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে শাহ আমানতে সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি থাকায় কক্সবাজারের পরিবর্তে চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন ক্যাপটেন জাকারিয়া।

ততোক্ষণে জরুরি অবতরণের ফায়ার এলার্টসহ সবধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। জরুরি অবতরণের পর ১১ শিশুসহ ১৬৪ জন যাত্রীর মধ্যে দু’জনকে বিমান বাহিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্য কয়েকজনকে বিমানবন্দরেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

চলতি বছর নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ৫১ জনের মৃত্যুর ঘটনা মাথায় রেখে চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণের সময় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়। শাহ আমানতে অবতরণের আগে পাইলট জাকারিয়া আরো একবার নোজ হুইল নামানোর চেষ্টা করেছিলেন। সব চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে নোজ হুইল ছাড়াই চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণ করেন তিনি।