চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যে জ্বালানিগুলো টাইগারদের আত্মবিশ্বাসী রাখবে

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হচ্ছে কয়েকঘণ্টা পরই। গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা লাল-সবুজদের স্বপ্ন এবার আকাশছোঁয়া। সেই স্বপ্নের পথচলা শুরু হবে সাউথ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে। মাশরাফী-সাকিব-তামিমদের কাঁধে ভর করে বাংলাদেশ দারুণ কিছু করবে এমন প্রত্যাশায় রয়েছে গোটা দেশ।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে তারা সঠিক পথেই আছে। তিন জাতি সিরিজের পারফরম্যান্স টাইগার দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। গত কয়েক বছরের ভালো পারফরম্যান্স স্মৃতি তো সঙ্গী হচ্ছেই।

বড় মঞ্চে বাংলাদেশ কতদূর যাবে সাউথ আফ্রিকা ম্যাচে তার বড় একটা বড় পরীক্ষাই হয়ে যাবে। ইংল্যান্ডের আসরে বাংলাদেশের সঙ্গী থাকবে জ্বালানি জোগানো যে আত্মবিশ্বাসগুলো, তেমন ৭টি বিষয় নিয়েই এ আয়োজন।

টপ-অর্ডারের রানক্ষুধা: টপঅর্ডারে তামিম ও সৌম্য সরকার নিয়মিত রান পাচ্ছেন। সৌম্য ব্যর্থ হলে ব্যাক-আপ ওপেনার হিসেবে রয়েছেন লিটন দাস। তামিমের ওপেনিং সঙ্গী হতে সৌম্য ও লিটনের মধ্যে চলছে প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতা দুজনের রানক্ষুধাও বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি দলের জন্য ইতিবাচক। তিনে সাকিব আল হাসানও থাকছেন ধারাবাহিক।

বিজ্ঞাপন

অভিজ্ঞ মিডলঅর্ডার: বাংলাদেশের মিডঅলর্ডার বেশ শক্তিশালী। মুশফিক টানা চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলছেন। মাহমুদউল্লাহর এটি তৃতীয় বিশ্বকাপ। মিঠুন প্রথম হলেও আস্থা রাখার মতো পারফর্ম করেছেন। টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা ভালো শুরু দিতে পারলে, মিডলঅর্ডার অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর রাখতে পারলে, ইতিবাচক ফলাফলই মিলবে।

ব্যাটিং গভীরতা: বাংলাদেশের ব্যাটিং গভীরতাও চোখে পড়ার মতো। ব্যাটিংয়ে জ্বলে ওঠার সামর্থ্য রাখা মাশরাফি ৯ নম্বর পজিশনে ক্রিজে আসেন, এটিই টিম বাংলাদেশের ব্যাটিং-গভীরতা নির্দেশ করে। তামিম, সাকিব, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, মিঠুন, সাব্বির, মোসাদ্দেক ও মিরাজ- ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেল বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। যাতে নতুন সংযোজন ঝড় তুলতে পারা সাইফউদ্দিন। সবাই একসঙ্গে জ্বলে উঠলে এবং পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা থাকলে দ্বাদশ বিশ্বকাপে অবিস্মরণীয় কিছুই করে দেখাতে পারে বাংলাদেশ।

টিম ইউনিট: বাংলাদেশের শক্তির সবচেয়ে বড় জায়গা হল টিম ইউনিট। আবু জায়েদ রাহি চমক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন। অন্যদিকে গত বিশ্বকাপে খেলা ইমরুল কায়েস, তাসকিন আহমেদ ও শফিউল ইসলাম ছাড়া সবাই রয়েছেন দ্বাদশ বিশ্বকাপের দলে। দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলায় দারুণ এক ইউনিট গড়ে উঠেছে টিমের মধ্যে। ভালো বোঝাপড়া ভালো কিছুই আনে।

শক্তিশালী স্পিন আক্রমণ: সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের পরীক্ষিত স্পিনার। এই ফরম্যাটে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। মেহেদী হাসান মিরাজ যদি একাদশে জায়গা পান তবে শক্তিশালী স্পিন অ্যাটাকই পাবে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের সিমিং কন্ডিশনেও স্পিনাররা বেশ সুবিধা পাচ্ছেন। সাকিব-মিরাজের সঙ্গে মোসাদ্দেক-রিয়াদ, প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন স্পিনাররা।

পেস-ব্যাটারির সক্ষমতা: মাশরাফীর নতুন করে প্রমাণের কিছু নেই। রুবেল তার পরেই অভিজ্ঞদের একজন। ফর্মেও আছেন। মোস্তাফিজ ছন্দ না হারালে যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই ভয়ঙ্কর। নবীন সাইফউদ্দিন ওপেনিং থেকে ডেথ, সমান কার্যকরী প্রমাণ করছেন নিজেকে। তাতে যেকোনো প্রতিপক্ষের দিকেই হুঙ্কার ছুঁড়তে সক্ষম টাইগার পেস অ্যাটাক। মারকুটে প্রতিপক্ষের সামনে এই আক্রমণ আত্মবিশ্বাসী রাখবে দলকে।

‘আহত’ প্রোটিয়া শিবির: বিশ্বকাপে ভালো করতে হলে প্রথম ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ সাউথ আফ্রিকা নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে বেশ চাপের মুখে রয়েছে। চাপের মুখে প্রোটিয়াদের ভেঙে পড়ার ইতিহাস বেশ পুরনো। এই সুযোগ বাংলাদেশ পুরোপুরি লুফে নিতে পারলে দুর্দান্ত সূচনাই পাবে টাইগাররা।