চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যেসব কারণে সোনাগাজীর ওসিকে প্রত্যাহার

সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে জানিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। তারা বলছে, ফেনীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনার পর সোনাগাজী থানার ওসির কোনো গাফিলতি ছিল কিনা সেটাও তদন্ত করে দেখা হবে।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ফেনীর এই ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বাদী পক্ষের অভিযোগ, তারা ওসির কাছ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা পাচ্ছেন না।

স্থানীয় পর্যায়ে ঘটনাটির তদন্ত করতে হলে ওসি বিষয়টিতে জড়িত থাকবেন। তাই বাদী পক্ষের অভিযোগটি আমলে নিয়ে এবং ন্যূনতম ঝুঁকি না নিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে

এরআগে বুধবার দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহা-পরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) মো. সোহেল রানা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেছিলেন, সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় মামলাটি ইতোমধ্যে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন জানান, পুলিশ আটক সাতজনের মধ্যে ছয়জনকে ফেনী জেলা জজ আদালতে পাঠিয়ে প্রত্যেকের সাতদিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন তারা।

মঙ্গলবার বিকেলে শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালত চারজনকে পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তারা হলেন- নুর হোসেন, কেফায়েত উল্যাহ, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও সাহিদুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

আটক বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদর জন্য সোনাগাজী মডেল থানায় রাখা হয়েছে।

এ মামলায় যাদের আটক দেখানো হয়েছে তাদের মধ্যে শুধুমাত্র একজন এজাহারভুক্ত আসামি। তিনি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ইংরেজি প্রভাষক আবছার উদ্দিন।

সোমবার নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের আগের দেওয়া এজাহার পরিবর্তন করে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ দৌলাকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া বোরকা পরিহিত আরো চার নারীসহ অজ্ঞাত আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে।

আসামিরা হলেন: মামলার প্রধান আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ এস এম সিরাজ উদদৌলা, ইংরেজি প্রভাষক আবছার উদ্দিন, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম মাকসুদ, ছাত্র শাহদাৎ হোসেন শামীম, সাবেক ছাত্র নুর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন। পরীক্ষার আধঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হন অধ্যক্ষ। সেই মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষের লোকজন ওই ছাত্রীর গায়ে আগুন দেয়।

গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে গেলে নুসরাত জাহানকে ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নেয়ার চাপ দেয় মুখোশধারী ৪/৫ জন। কিন্তু অস্বীকৃতি জানালে মেয়েটির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

দুর্বৃত্তের আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতের অবস্থা অবনতি হওয়ায় সোমবার তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।