চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যেখানে শঙ্কার মুখে অসাম্প্রদায়িক ধারা

কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের এই ‘শোকরানা মাহফিলে’ ঢাকায় মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জড়ো করা হয়েছে; ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের ঢাকায় আনা হয়েছে; বলা হচ্ছে সংখ্যায় তা লক্ষাধিক। উদ্দেশ্য শোকরানা মাহফিল, এবং এই মাহফিলের প্রধান দুই মুখ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আল্লামা শফি।

বিজ্ঞাপন

কওমিদের সর্বোচ্চ শিক্ষা দাওরায়ে হাদিসকে (তাকমীল) মাস্টার্সের সমমান দেওয়ায় এই শোকরানা মাহফিলের আয়োজন করে ‘আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’। এই সংগঠনের প্রধান আল্লামা শাহ আহমদ শফি। কওমিপন্থীরা তাদের শিক্ষার স্বীকৃতি পেয়ে আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আল্লামা শফিকে সঙ্গে নিয়ে; এবং শোকরিয়া আদায়ে লক্ষাধিক আলেমের উপস্থিতি ছিল বলে তাদের দাবি। তাদের এই সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। দাবি জানানো হয়েছে আল্লামা শফিকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পদক’ দেওয়ার।

মজার বিষয় হচ্ছে পারলৌকিক সুখ শান্তির জন্যে ইসলামি শিক্ষা ও অনুশীলন বলা হলেও এটা তাদের স্রেফ অপ্রাপ্তির একটা সান্ত্বনা ছিল এতদিন তা প্রমাণ হয়েছে তাকমীলকে মাস্টার্সের সমমান গ্রহণ আর এই শোকরানায়। আলেমরা যে কেবল পারলৌকিক সুখের আশায় ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করে না সেটা প্রমাণ হয় তাদের সাম্প্রতিক অভিব্যক্তি, প্রতিক্রিয়া আর শোকরানা মাহফিলের বিশাল আয়োজনে।

অবশ্য কওমিপন্থীদের সংগঠন হেফাজতে ইসলাম অনেক আগে থেকেই পারলৌকিক সুখ থেকে ইহলৌকিক বিষয়গুলোকেই প্রাধান্য দিয়ে আসছে। নারী নীতির বিরোধিতা, পাঠ্যপুস্তকে পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তনের দাবি, যুদ্ধাপরাধের বিচারের পাকিস্তানপন্থী জামায়াত নেতাদের বিচারের সময়ে ‘নাস্তিক’ ইস্যুতে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ এবং সেখানে চালানো নজিরবিহীন নৈরাজ্য, সুপ্রিম কোর্টের অভ্যন্তরে ‘জাস্টিসিয়া’ ভাস্কর্য অপসারণে সরকারকে বাধ্য করা সহ নানাবিধ দাবি ও আন্দোলন তাদের ইহজাগতিক ব্যাপারে অতি আগ্রহ ছিল লক্ষণীয়। অথচ তারা তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে পারলৌকিক সুখ শান্তির নামে ইমান-আক্বিদার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসছিল। ধর্মের নামে এটা যে ছিল তাদের সাইনবোর্ড সেটা ক্রমে প্রমাণ হচ্ছে।

আরও অনেক ধর্মীয় সংগঠনের মত কওমিপন্থীরাও নারী নেতৃত্বকে ‘হারাম’ মনে করে। অন্যদের মত তারাও নারীদের গৃহ-অভ্যন্তরে রাখতে চায়। নারীদের লেখাপড়ার বিষয় নিয়ে আল্লামা শফির বক্তব্য সারাদেশে তুমুল আলোচিত। নারী দেখলে ‘জিভে লালা ঝরে’ সহ নারীদের তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করে নারীরা ক্লাস ফোর-ফাইভ পর্যন্ত পড়বে বলেও তার মন্তব্য। সেই আল্লামা শফি, সেই হেফাজত আর সেই আলেমরা শোকরিয়া আদায়ের মাঠে ‘নারী প্রধানমন্ত্রী’ শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তাকে ‘কওমি জননী’ আখ্যা দেয়; আবার সেই ‘নারী প্রধানমন্ত্রীর’ কাছে আল্লামা শফিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদক দেওয়ারও দাবি জানায়। এটা তাদের কথিত ইমানের পরীক্ষাও, এবং এই পরীক্ষায় তারা পাস করে নি; ফেল করেছে বলা যায়। এখানে এও উল্লেখের দাবি রাখে, যে কওমিপন্থীরা এতদিন পারলৌকিক ধারায় আচ্ছন্ন থাকা অবস্থায় ছিল তারাও ইহজগতের এক নারীর নেত্রীর কাছে তাদের জন্যে সম্মানের দাবিও করে। অথচ তারা এতদিন ইহজগতের কারও কাছ থেকে এমন সম্মানের জন্যে উন্মুখ হয়নি।

আলেমদের এই দাবি আর কর্মসূচিগুলো তাদের নৈতিকতার ভিতকে দুর্বল করে দেয়, দুর্বলতার প্রমাণ করে। তবু এনিয়ে তারাও ভাবিত নয়। এটা তাদের জন্যে পরাজয় হলেও বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় দেশের জন্যে সুখের। কারণ দেশের একটা বিশাল জনগোষ্ঠী বাস্তবতাকে অস্বীকার করে স্রেফ অলৌকিক কিছু প্রত্যাশায় সারাজীবন কাটিয়ে দেবে সেটা যৌক্তিক নয়। তবে এই ঘটনা যে তাদেরকে অনস্তিত্বের ধারণা থেকে একেবারে বের করে দেবে তাও না, তারা ওখানে কেন্দ্রীভূত থাকবে, এবং এটা যে স্রেফ লেনদেনের ধারাবাহিকতায় একটা সময়ে এসে তাদের ইহজাগতিকতার কাছে সমর্পণ সেটাও তারা ভুলে যাবে অথবা অস্বীকার করবে। ফলে সুখ-বাস্তবতার এই সুফল দেশ উপভোগ করবে না, প্রান্তিক পর্যায়েও প্রসার লাভ করবে না।

কওমি শিক্ষাব্যবস্থা যুগের পর যুগ ধরে চলমান হলেও এটা সরকার-প্রশাসনের নজরদারি, সহায়তা ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। দাওরায়ে হাদিসকে স্বীকৃতির মাধ্যমে এটা মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় নিতে আসতে ওখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে তা বলা না গেলেও এতে তাদের স্বীকৃতি যোগ হয়েছে। এখনও কওমি শিক্ষাব্যবস্থার সিলেবাস প্রণয়নের ক্ষমতায় নেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের, পরীক্ষার সূচি নির্ধারণেও সরকারের কোনোকিছু করার নেই। তারা সবকিছু নির্ধারণ করে কেবল সরকারকে এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন দেবে, এরবেশি কিছু নয়। আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলনের যে আশা সকলের সেটা এখনই পূরণ হওয়ার নয়, কারণ কওমিপন্থীদের শিক্ষার সবকিছু নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারণের ক্ষমতা এখনও সম্পূর্ণভাবে তাদের। ফলে পূর্বপ্রস্তুতি ও পরিকল্পনা ব্যতিরেকে হয়েছে এই স্বীকৃতি। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় তারা যদি আসতে না চায়, বা চলমান ব্যবস্থাকে অব্যাহত রাখতে চাইলে সরকারেরও এখানে কিছু করার নাই। ফলে তাকমীলকে মাস্টার্সের স্বীকৃতি দিলেও সেই পর্যায়ে আসার মত যোগ্যতা তারা কতখানি রাখবে সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

দাওরায়ে হাদিসকে (তাকমীল) মাস্টার্সের সমমান দেওয়ার স্বীকৃতি, এবং সাম্প্রতিক সময়ে আলেমওলামাদের আন্দোলনের হুমকি সমেত নানা দাবির মুখে সরকারের নমনীয় ভাব কিংবা মেনে নেওয়া পর শোকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সবচেয়ে বড় যে শঙ্কা মাথাচাড়া দিচ্ছে সেটা হচ্ছে আওয়ামী লীগের অসাম্প্রদায়িক রূপ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিনা! এটা আরও বেশি করে উচ্চারিত হচ্ছে কারণ কওমিপন্থীদের বড় সংগঠন অতিমাত্রায় কট্টরপন্থী। তাদের চিন্তাচেতনা ও দাবি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার পথে প্রতিবন্ধকতা রূপ। হেফাজতে ইসলামকে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল ও জোটের বাইরে রাখতে আগে থেকেই নানাবিধ সুবিধা দিয়ে এসেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আর নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে তাদেরকে ঢাকায় এনে বড় সমাবেশ করে আওয়ামী লীগের সাথে ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর গভীর সম্পর্কের বিষয় প্রমাণের একটা চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের উদ্যোগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে কতখানি লাভবান হবে সেটা এখনও প্রমাণসাপেক্ষ, তবে এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের অসাম্প্রদায়িক আদর্শ ও চরিত্রের গায়ে কালি লাগল নিঃসন্দেহে। অদূর ভবিষ্যতে এতে তারা লাভবান হলেও (যদিও এটা প্রমাণিত নয়) ক্ষতিগ্রস্ত হবে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার চিন্তাচেতনা।

স্রেফ ভোটের জন্যে আওয়ামী লীগ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার নজির নতুন নয়। গত শতকের মধ্য নব্বইয়ে খেলাফত মজলিসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের এমন এক চুক্তি হয়েছিল, যেখানে সিলেটের এক বা একাধিক আসন ধর্মভিত্তিক ওই রাজনৈতিক দলকেও ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছিল। পরে সেটা বাতিল হয়; এবং এই বাতিলের পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন আওয়ামী লীগ ও দলটির সমর্থকদের মধ্যকার বুদ্ধিবৃত্তিক এক আন্দোলন। আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ ওই সময়ে ধর্মভিত্তিক দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সেই যোগকে মেনে নিতে পারেন নি, প্রতিবাদ করেছিল। এবং প্রতিবাদটা এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল যে শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তি বাতিল হয়েছিল; এমনকি আওয়ামী লীগকে বলতেও হয়েছিল তারা এমন কোন চুক্তিতে যায় নি। দুই দশক আগের আওয়ামী লীগের সেই চরিত্র এখন আর নাই, দুই দশক আগের আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক অনুশীলনও এখন আর নাই। এখন ক্ষমতার বৃত্তে যেমন আবর্তিত হচ্ছে আওয়ামী লীগের রাজনীতি, একইভাবে ক্ষমতার বৃত্তে আবর্তিত হচ্ছে আওয়ামী-বুদ্ধিবৃত্তিক সেই চর্চাও।

পাকিস্তান জন্মের ইতিহাসে ধর্মের যোগ। ধর্মকে উপলক্ষ করে গঠিত হওয়া এই রাষ্ট্র বিকলাঙ্গ রাষ্ট্রে পরিণত হতে বেশি সময় লাগেনি। বাংলাদেশের জন্ম পরিক্রমার দীর্ঘ মুক্তির সংগ্রাম, স্বাধীনতা যুদ্ধকেও বিরোধিতা করতে গিয়ে ধর্মের বৃত্তে আবর্ত করার একটা প্রবণতা ছিল পাকিস্তানিদের। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত অমিত সংগ্রামী বাঙালিরা ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতা, স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তান কালের রাজনীতিতে ধর্মের যোগ, ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর উল্লম্ফনের নেতিবাচকতা উপলব্ধি করা বঙ্গবন্ধুও ধর্মের রাজনীতিকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অনেকগুলো বক্তৃতায় সে প্রমাণও মেলে।

যে রেসকোর্সে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ধর্মভিত্তিক সংগঠনের দেওয়া উপাধি ‘কওমি জননী’ নিলেন সেখানেই ১৯৭২ সালের ৭ জুন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “বাংলাদেশ হবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। ধর্মনিরপেক্ষ মানে ধর্মহীনতা নয়। মুসলমান মুসলমানের ধর্ম পালন করবে। হিন্দু তার ধর্ম পালন করবে। খ্রিস্টান তার ধর্ম পালন করবে। বৌদ্ধও তার নিজের ধর্ম পালন করবে। এ মাটিতে ধর্মহীনতা নাই, ধর্মনিরপেক্ষতা আছে। এর একটা মানে আছে। এখানে ধর্মের নামে ব্যবসা চলবে না। ধর্মের নামে মানুষকে লুট করে খাওয়া চলবে না। ধর্মের নামে রাজনীতি করে রাজাকার, আলবদর পয়দা করা বাংলার বুকে আর চলবে না। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না”। একই জায়গায় এরআগে ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরেই বলেছিলেন, “সকলে জেনে রাখুন, বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে। আর তার ভিত্তি কোনো বিশেষ ধর্মীয় ভিত্তিক হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা”।

কেবল বক্তৃতায়ই সীমাবদ্ধ ছিল না বঙ্গবন্ধুর ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে অবস্থান। তিনি জামায়াতে ইসলামি, মুসলিম লিগ সহ ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন দল ও সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। পরবর্তীতে তার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর এদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর ধর্মীয় রাজনীতি বৈধতা পেয়ে যায়। এরপর বঙ্গবন্ধু বেঁচে না থাকলেও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও ধর্মভিত্তিক সংগঠন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর বুদ্ধিবৃত্তিক সমর্থক অংশ সেই আদর্শকে ধরে রেখেছিল, কিন্তু বেশ কবছর ধরে সেখানে বড় ধরনের বিচ্যুতি লক্ষণীয়। অবশ্য এরআগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার রাজনীতিতে অবস্থান সংহত করতে ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ঝুঁকলেও তার প্রগতিশীল সমর্থক অংশ এর বিরোধিতা করেছে। কিন্তু এই বিষয়টি হারিয়ে যেতে বসেছে। তরিকত ফেডারেশন, জাকের পার্টিসহ একাধিক দলের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক; হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে লেনদেনের সম্পর্ক; তবু নির্বাক প্রগতিশীল বুদ্ধিবৃত্তিক অংশ।

কওমিপ্রগতিশীল রাজনীতি আর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে প্রত্যয়ী রাজনৈতিক দলের অভাব বাংলাদেশে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দেশে বড় দুই দল, কিন্তু বিএনপি জন্ম মুহূর্ত থেকেই ডানপন্থার এবং ধর্মীয় রাজনীতিতে অভ্যস্ত। পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের আদলে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ স্লোগানের আদলে তারা ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতেই আগ্রহী। এতদিন এর বিপরীতে আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থান নিলেও এখন সে অবস্থান নড়বড়ে, এখন তারাও প্রবলভাবে ঝুঁকছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে। এরবাইরে বামপন্থী দলগুলোর যে অবস্থান সেখানে অনেক বাম দলও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির হাল ধরার অপেক্ষায়। বামদের যারা আবার ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরোধী তাদের কণ্ঠও উচ্চে তুলে ধরার অবস্থায় নেই। ফলে বিএনপির ধর্মাশ্রিত রাজনীতিকে টেক্কা দিতে ধর্মভিত্তিক দল ও সংগঠনের আশ্রয় খুঁজছে আওয়ামী লীগও। এতে তারা কতখানি লাভবান হবে তারচেয়ে বড় কথা এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক চিন্তাচেতনা।

আওয়ামী লীগের এই প্রবণতা দেশের অসাম্প্রদায়িক ধারার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া; এ ক্ষতি অপূরণীয় এবং অতি-অবশ্যই সুদূরপ্রসারী আর উদ্বেগের!

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)