চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬০ রুশ কূটনীতিক বহিষ্কার

সিয়াটলে রাশিয়ান কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ

সাবেক রুশ গুপ্তচর ও তার মেয়েকে হত্যা চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্বের দুই পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ক। ওই ঘটনার জের ধরে এবার ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্ক থেকে ৬০ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে সিয়াটলে রাশিয়ান কনস্যুলেট বন্ধ করারও ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

এর আগে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি ইউরোপিয়ানের কয়েকটি দেশও রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। যাদের মধ্যে রয়েছে; জার্মানি, ফ্রান্স ও ইউক্রেন।

তিন সপ্তাহ আগে ব্রিটেনে একজন সাবেক ডাবল এজেন্ট সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার মেয়ের ওপর নার্ভ এজেন্ট আক্রমণের প্রতিক্রিয়াতেই এমন পদক্ষেপ।  বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এ দুজনের অবস্থা গুরুতর হলেও স্থিতিশীল।

ঘটনার পর যুক্তরাজ্য ২৩ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করে। জবাবে রাশিয়াও দেশটিতে যুক্তরাজ্যের একই সংখ্যক কূটনীতিককে বহিষ্কার করে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ এর দেশগুলোর এমন পদক্ষেপের পর রাশিয়ার পক্ষ থেকেও ঘোষণা এসেছে এর ‘আনুপাতিক’ জবাব দেওয়ার।

সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার মেয়ের উপর হামলার কথা অস্বীকার করেছে রাশিয়া।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা যুক্তরাজ্যের সাথে ‘সংহতির বিকৃত ব্যাখ্যার জন্য’ ইইউ এর নিন্দা জানিয়েছে।

নার্ভ অ্যাজেন্ট প্রয়োগের সাথে রাশিয়ার জড়িত থাকার জোড়ালো সম্ভাবনার সাথে গত সপ্তাহে একমত হয় ইইউ নেতারা।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, ইইউ এর ১৪ টি দেশ রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  সলসবেরিতে নার্ভ অ্যাজেন্ট প্রয়োগ বিষয়ে গত সপ্তাহের বৈঠকের সরাসরি পদক্ষেপ হিসেবে একে অভিহিত করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আগামী দিনগুলোতে সাধারণ ইইউ ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে আরও বহিষ্কারসহ রাশিয়ার বিরুদ্ধে অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের সাথে সংহতি জানিয়ে সোমবার বেশ কয়েকটি দেশ রুশ কূটনীতিক বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করে।  দেশগুলো হলো-

যুক্তরাষ্ট্র- ৬০ জন কূটনীতিক, ইউক্রেন- ১৩ জন কূটনীতিক, পোল্যান্ড- ৪ জন কূটনীতিক, ফ্রান্স- ৪ জন কূটনীতিক, জার্মানি- ৪ কূটনীতিক, কানাডা- ৪ কূটনীতিক, চেক রিপাবলিক- ৩ কূটনীতিক, লিথুয়ানিয়া- ৩ কূটনীতিক, নেদারল্যান্ডস- ২ কূটনীতিক, ইতালি – ২ কূটনীতিক,  ডেনমার্ক- ২ কূটনীতিক, এস্তোনিয়া- ১ কূটনীতিক, লাটভিয়া- ১ কূটনীতিক, ক্রোয়েশিয়া- ১ কূটনীতিক,  ফিনল্যান্ড- ১ কূটনীতিক এবং রোমানিয়া- ১ জন কূটনীতিক।

ওয়াশিংটনের রাশিয়ান দূতাবাস থেকে ৪৮ জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করে যুক্তরাষ্ট্র।  বহিষ্কৃত অন্যান্যরা হলেন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কূটনীতিক।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, মার্চের ৪ তারিখ, সলসবাড়িতে একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং তার মেয়েকে হত্যার জন্য একটি মিলিটারি-গ্রেড নার্ভ অ্যাজেন্ট ব্যবহার করে রাশিয়া।

“আমাদের মিত্র যুক্তরাজ্যের উপর এই হামলা অসংখ্য নির্দোষ জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে এবং এর ফলে তিনজন গুরুতর আহত হয়, যার মধ্যে একজন পুলিশ অফিসার।”

এই হামলাকে রাসায়নিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতিনীতির ভয়াবহ লঙ্ঘণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘণ বলে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেনকো ১৩ জন কূটনীতিকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানান।  একে তারা “ব্রিটিশ পার্টনার এবং ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক মিত্রের সাথে সংহতি এবং ইইউ দেশগুলোর সাথে সমন্বয়ের উদ্যোগ” বলে জানান।

সোমবারের শুরুতে, বেশ কয়েকটি ইউরোপিয়ান দেশ- যেমন লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া এবং পোল্যান্ড তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রুশ রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠিয়েছে।

গত ৪ মার্চ সাবেক রুশ গোয়েন্দা সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়েকে ব্রিটেনের সলসবেরি শহরের রাস্তার পাশে এক বেঞ্চে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ দু’জনের অবস্থা এখনও সংকটজনক, তবে স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। তাদের শরীরে ‘নোভিচক’ নামে একটি ‘নার্ভ এজেন্ট’ ব্যবহার করা হয় বলে জানায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

সের্গেই স্ক্রিপাল রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্নেল ছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে ব্রিটেনের এম১৬ গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে রুশ গোয়েন্দা এজেন্টদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এরপর ২০১০ সালে লন্ডন ও মস্কোর মধ্যে গোয়েন্দা বিনিময় চুক্তির আওতায় সের্গেই স্ক্রিপাল ব্রিটেনে গিয়েছিলেন।