চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যান্ত্রিক ত্রুটি জেনেও উড্ডয়ন করে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজ

ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে বিধ্বস্ত লায়ন এয়ারের উড়োজাহাজটিতে একদিন আগেই যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে ছিল বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি।

বিজ্ঞাপন

উড়োজাহাজটির কারিগরি লগ থেকে বিবিসি জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগের দিন রোববার আরেকটি ফ্লাইটে বালি থেকে জাকার্তা যাওয়ার সময় ওই উড়োজাহাজে কিছু কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল।

লগে দেখা যায়, প্লেনের একটি যন্ত্রাংশ সমস্যা করছিল বলে পাইলট ওই সময় প্লেন চালনার দায়িত্ব ফার্স্ট অফিসারের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

কিন্তু সেই ক্রটি ঠিক না করেই অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী ফ্লাইট জেটি-৬১০ সোমবার ভোর ৬টা ২০ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে উড্ডয়ন করে।

এর ১৩ মিনিট পরই হঠাৎ করে উড়োজাহাজটির বেগ খুব দ্রুত বাড়তে থাকে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই গতিবেগ হারিয়ে হঠাৎ করেই সেটি নামতে নামতে জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয়।

উড্ডয়নের ১৩ মিনিট পরেই গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। শেষ যোগাযোগের সময় সমুদ্রের ওপর দিয়ে ১৮৯ জন আরোহী নিয়ে যাচ্ছিল উড়োজাহাজটি।

লায়ন এয়ারের প্রধান নির্বাহী এডওয়ার্ড সিরাইট অবশ্য জানিয়েছেন, উড়োজাহাজটি জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হওয়ার আগে ডেনপাসার থেকে জাকার্তা যায়। সেখানেই ওই যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। নতুন ফ্লাইটে উড্ডয়নের আগে ত্রুটি মেরামতও করা হয়েছিল।ইন্দোনেশিয়া-উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত

বিজ্ঞাপন

তবে কী ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছিল তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

এখন পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছে না ঠিক কোন ত্রুটির কারণে উড্ডয়নের ১৩ মিনিট পর হঠাৎ বিধ্বস্ত হয়ে গেল প্লেনটি। তবে এর ব্ল্যাক বক্সটি খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তাহলে বিধ্বস্তের সময়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

অারোহীদের সবাই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিধ্বস্ত হওয়ার পর উদ্ধারকারীরা অনেক মরদেহ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছে, শিশুদের পায়ের জুতা, নিহতদের মোবাইলের ফ্লিপ কাভার ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে চারপাশে।

উড়োজাহাজটির সর্বশেষ যে অবস্থান জানা আছে সেখানে ও আশপাশে পানির নিচে ড্রোন সোনার মেশিন (শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে চালকবিহীন অনুসন্ধান যন্ত্র) দিয়ে ধ্বংসাবশেষের খাঁজ চলছে বলে টুইটারে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার প্রধান সুতপো পুরয়ো নুগ্রহো।

ন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সির প্রধান মুহাম্মাদ সুইয়াগি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ১০টি মৃতদেহ উদ্ধার করে শনাক্ত করার জন্য জাকার্তায় পাঠানোর প্রস্ততি নেয়া হয়েছে।ইন্দোনেশিয়া-উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত

সংস্থাটির আরেক কর্মকর্তা ইউসুফ লতিফ জানান, এমন দুর্ঘটনার পর কাউকে জীবিত পাওয়া যাওয়াটা অলৌকিক একটা ঘটনা হবে।

বিবিসি জানায়, বিধ্বস্ত হওয়ার আগ মুহূর্তে জাকার্তা বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমে যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানিয়েছিলেন উড়োজাহাজের পাইলট।

এমনকি সে সময় তিনি বিমানবন্দরে ফিরে আসার অনুমতিও চেয়েছিলেন।

দুর্ঘটনার পর থেকেই জাকার্তা বিমানবন্দরে ভিড় করছেন স্বজনরা। নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। একই সাথে তিনি দ্রুত এ দুর্ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।