চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যশোর রোডের একেকটি গাছ যেন শরণার্থীদের পদচিহ্নের সৌধ

বিজ্ঞাপন

মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ‘যশোর রোড’, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দু’ পাশে প্রায় দু’শ বছর ধরে ছায়া দিয়ে চলছে প্রায় আড়াই হাজার গাছ। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নারকীয় হামলার পরে এই পথ ধরেই লাখ লাখ বাংলাদেশি শরণার্থী নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে হেটেছে বহুদূর। যশোর রোডের একেকটি গাছ যেন একেকজন শরণার্থীর পদচিহ্নের সৌধ। যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে দু’ পাশের প্রায় আড়াই হাজার গাছ কাটা পড়বে বলে সাম্প্রতিক সময়ে মত দিয়েছেন সড়ক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা। এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ককে সংযুক্ত করতে ওই পদক্ষেপ। স্থানীয় প্রশাসন উন্নয়নের স্বার্থে ও দেশের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত বলে জানালেও গাছগুলো নিয়ে ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তোলপাড় চলছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিমাখা ওই সড়কের গাছগুলো রক্ষা করতে মুক্তিযুদ্ধের সন্তান, পরিবেশবাদী ও সাধারণ মানুষ নানা পর্যায়ে দাবি ও বিচ্ছিন্ন আন্দোলনও করছে। বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিতেও এনেছেন একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। এক লিগ্যাল নোটিশে সড়ক ও জনপথ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খুলনার ডিসি ও যশোরের পুলিশ সুপারকে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে হয়তো বিষয়টির একটি সুরাহা হবে, কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বর্তমান সরকার যশোর রোডের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিশেষ বিবেচনায় রেখে পদক্ষেপ নেবে। এমনিতেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নানা কারণে বিকৃতি ও হুমকির মুখে, সেই অবস্থায় ওই স্মৃতিবিজড়িত স্থানে এতগুলো গাছ কাটা হলে তা বর্তমান ও ভবিষ্যত তরুণ প্রজন্মকে ভুল বার্তা দেবে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিগুলো নীরবে ও প্রকাশ্যে নানা অপব্যাখ্যাসহ উল্লাস করবে। বিষয়টি আমাদের ভাবাচ্ছে। এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যেমন আমাদের জন্য জরুরি, তেমনি যশোর রোডের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রক্ষাও জরুরি। প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি যোগাযোগ-অবকাঠামো পরিকল্পনাকারীদের দিয়ে ওই বিষয়ে বিকল্প কী করা যায়, তা ভাবা যেতে পারে। যশোর রোডের গাছগুলো মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকুক।