চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ম্যাচটা হোক, খুব করে চাইছে বাংলাদেশ

ব্রিস্টল থেকে: ইংল্যান্ডে তিনটি জিনিসের কোনো নিশ্চয়তা নেই। ওয়েদার, ওমেন, ওয়ার্ক। ইংলিশরা সহজে বোঝাতে এটিকে বলে ‘থ্রি ডব্লিউ’। এখানে মানুষের চাকরি বদলায় হুট করেই, মেয়েদের বয়ফ্রেন্ডের ক্ষেত্রেও তাই! সবচেয়ে বেশি বদল ঘটে আবহাওয়ার। হুটহাট চলে রোদ-বৃষ্টির খেলা।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ব্রিস্টলের কাউন্টি গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে দাপট দেখাবে বৃষ্টি। তার কিছুটা নমুনা দেখা গেছে ম্যাচের আগেরদিন সোমবার ভেন্যুতে পা রাখতেই। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর ঠাণ্ডা বাতাসের মাঝেই অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। দুপুরে শ্রীলঙ্কা দল অনুশীলনে নামার পর শুরু হয় ঝিরঝিরে বৃষ্টি। মঙ্গলবার ম্যাচের দিন বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা আরও বেশি, ৯০ শতাংশ।

নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের কাছে হেরে ব্রিস্টলে আসা বাংলাদেশ দলের প্রধান প্রতিপক্ষ এখন বৃষ্টি। এই মাঠেই পাকিস্তানের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে। শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়দের জন্যও তাই প্রতিপক্ষ বেরসিক বৃষ্টিই।

শ্রীলঙ্কা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের পেছনে। দলটির বিপক্ষে নিকট অতীতে টাইগাররা পেয়েছে অসাধারণ সব সাফল্য। বিশ্বকাপেও লঙ্কানদের হারানোর ছক কষেছে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল। অধিনায়ক তাইতো খুব করে চাইছেন খেলাটা হোক।

বিজ্ঞাপন

‘ম্যাচটা না হলে আমাদের জন্য সমীকরণ অনেক কঠিন হয়ে যাবে। ম্যাচটা অবশ্যই হওয়া খুবই প্রয়োজন। শেষ ‍দুটি ম্যাচের একটিতে জিততে পারলে অনেক বেশি প্রয়োজন নাও হতে পারত। কিন্তু এখন খুবই প্রয়োজন। আমরা অবশ্যই চাচ্ছি ম্যাচটা যেন হয়।’

বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ ছিল এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, যারা ইংলিশ কন্ডিশনে খেলে অভ্যস্ত। টাইগারদের চতুর্থ ম্যাচের প্রতিপক্ষ উপমহাদেশের দল শ্রীলঙ্কা। কন্ডিশন বোঝায় তাই এক কাতারে দল দুটি। এটিতে অবশ্য আলাদা করে স্বস্তির আবহ নেই। মাশরাফী ভালো করেই জানেন জিততে হলে খেলতে হবে সেরা ক্রিকেটটাই।

‘বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচে স্বস্তির কোনো সুযোগ নেই। প্রত্যেকটি ম্যাচই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম থেকেই এটা (শ্রীলঙ্কা) আমরা হিসাব-নিকাশে রেখেছি। প্রথম তিনটি ম্যাচ এমন টিমের সঙ্গে খেলেছি যারা শুরু থেকেই সেট। আমাদের হয়ত আরেকটু সময় লাগবে।’

‘প্রথম ম্যাচ জেতায় মনে হয়েছে আরেকটা ম্যাচ জিতে যদি বের হয়ে যেতে পারি তাহলে আমাদের জন্য সমীকরণ (সেমিফাইনাল) হয়ত খুব সহজ হবে। দুর্ভাগ্য আমরা পারিনি, কেউ কেউ সেরা জায়গায় সেরাটা দিতে পারিনি। এশিয়ার দুইটা দেশ যখন খেলছি, দুই দলই ভাবছে এখান থেকে হয়ত ২ পয়েন্ট নিতে পারি। এটা সত্যি সমান অবস্থায় দুটি দল আছে। দিনশেষে যারা ভালো খেলবে তারাই জিতবে।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়ের অভিজ্ঞতা হয়েছিল ২০১০ সালে। সেই ম্যাচটির ভেন্যুতে ৯ বছর পর টাইগাররা আবার যখন খেলতে নামছে, তখন একদমই ভিন্ন চ্যালেঞ্জ- বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা।