চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘মেসিকে কাছে পেলে জাপটে ধরবো’

বলছেন ম্যারাডোনা...

মেক্সিকান দ্বিতীয় বিভাগের দল দোরাদোস ডে সিনালোয়ার কোচের দায়িত্ব নিয়ে এখন দেশটিতে আছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। সেখানেই স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার মুখোমুখি হয়ে দিয়েছেন দারুণ এক সাক্ষাৎকার। যাতে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা, লিওনেল মেসি, রোনালদোকে নিয়ে নানা প্রসঙ্গ। ছিল রিয়াল মাদ্রিদ নিয়েও আলোচনা।

বিজ্ঞাপন

তুলে ধরা হল ম্যারাডোনার কথাবার্তা-

আপনি স্পেনে কোচিং করাতে চান?
অবশ্যই, তবে দীর্ঘ মেয়াদে। ডেকে এনে কয়দিন পর বরখাস্ত করা হবে এমন কোচিং করাতে ইচ্ছুক নই। দলটাকে আর্থিকভাবে বেশ ভারী হতে হবে এবং সবসময় জয়ের অভ্যাস থাকতে হবে। একজন কোচ হিসেবে আমার এখনও অনেককিছু শেখার আছে এবং এজন্য ম্যানচেস্টারে যেতে চাই এবং মরিনহোকে (হোসে মরিনহো, ম্যানইউর বর্তমান কোচ) অনেককিছু জিজ্ঞেস করতে চাই।

কেনো মরিনহো?
কারণ সে-ই সেরা।

পেপের (পেপ গার্দিওলা, ম্যানচেস্টার সিটি কোচ) চেয়েও সেরা?
আমার কাছে মউ(মরিনহো) সেরা। আমি বলবো পেপের মেধা ইয়োহান ক্রুইফের কাছ থেকে ধার করা। আরও বলবো টিকি-টাকা গার্দিওলার আবিষ্কার নয়। এটা ছিল ক্রুইফের চিকন চিন্তার ফসল। আর পেপ যেকোনো খেলোয়াড়কে চাইলেই পায়। এই কারণেই টিকি-টাকা খেলা তাদের জন্য সহজ হয়ে যায়।

আপনার মনে হয় না মেসিকে নিয়ে আপনি যা বলেছেন তার প্রভাব অনেকদূর গড়াবে?
আপনি কী নিয়ে কথা বলছেন?

আপনি যে বলেছিলেন মেসি নাকি ম্যাচের আগে ২০বার করে টয়লেটে যান?
সব মিথ্যা!

তাহলে আপনি মেসির সঙ্গে কোনো ঝামেলা চান না?
মেসি আমার খুব ভালো একজন বন্ধু। আর বন্ধুদের সম্পর্কে আমি সবার সামনে খুব একটা মুখ খুলি না। আমাকে যদি এ নিয়ে কথা বলতেই হয়, তাহলে সেটা তার সামনেই বলবো, আলাদা সাক্ষাৎকারে নয়। লিও সম্পর্কে যদি বলি তাহলে বলবো সে সবার থেকে আলাদা। কোনো খেলোয়াড় যদি ২০বার করে টয়লেটে যায়, এরপরও মেসিকে ইঙ্গিত করবো না। উল্টোভাবে, লিও’র কাছে ২০১০ বিশ্বকাপে আমি যা চাইতাম সেটা পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে গেছে। শুধু বলবো লিও’র সঙ্গে আমার সম্পর্কটা শর্তহীন।

বিজ্ঞাপন

তাহলে মেসিকে ভালোবাসেন?
মেসির জন্য ভালোবাসা, স্নেহ, শান্তি সবকিছু। আর মেসির সঙ্গে যদি দেখা হয় তাকে জাপটে ধরবো। কারণ অনেকদিন তার সঙ্গে দেখা হয় না।

আপনি মেসির সঙ্গে এনিয়ে কথা বলেছেন?
মেসি বার্সেলোনাতে যোগ দেয়ার পর থেকে তারা সবসময় আমাদের দুজনের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করতে চেয়েছে।

কারা? কেনো?
আমি জানি না কেনো যে লিও আর আমাকে নিয়ে সবার একটা সন্দেহ থাকেই। যেমন উদাহরণ দেই- লিও’কে রোনালদিনহোর সঙ্গে তুলনা করা হয়। বার্সেলোনায় রোনালদিনহোর অবদান থাকা সত্ত্বেও কেনো জানি সবাই ওকে ভুলে গেছে। বার্সেলোনার জন্য অবশ্য এটাই স্বাভাবিক। কারণ তারা তাদের কিংবদন্তিদের খুব সহজে ভুলে যায়। রিভালদোর কথা ধরুন, সে যে অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে মাঝ মাঠ থেকে গোল করল কিংবা ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে মাথার উপর দিয়ে লাথি মেরে গোল করল, কেউ কী তাকে মনে রেখেছে? আপনি জানেন বার্সার সংবাদমাধ্যম কেমন। তারা সবসময় লিও আর আমার মাঝে ঝগড়া লাগানোর পাঁয়তারা করতেই থাকে। তবে আমি আর মেসি একসঙ্গে খাবো, একসঙ্গে ফুটবল-টেনিস খেলবো এবং আমরা খুশি থাকবো।

আচ্ছা, এ বিষয়টা নিয়ে শেষে যদি বলি আপনি হয়তো টয়লেট বিষয়টা দিয়ে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে আগের প্রজন্মের মতো মেসির নেতৃত্বগুণ নেই?
এটা সম্পূর্ণ অর্থহীন যে, একজন খেলোয়াড়কে খেলার ধরণ পরিবর্তন করতে বলা। লিও’কে ধরুন বলা হল যে, রাইট ব্যাকে খেলতে। তারপর তাকে দেখা যে সে কয়টা বল মিস করল। আমি তাকে ভালোবাসি। ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে হারের পর তাকে ড্রেসিংরুমে কাঁদতে দেখেছি। খেলোয়াড়রা অনেকেই আর্জেন্টিনার টিকিট আগেই কেটে রেখেছিল। কিন্তু লিও সেটা করেনি। সে সঠিক কাজটাই করেছিল। সে জন্যই আমি তাকে গোসলের সময় কাঁদতে দেখেছি।

আপনার কী মনে হয় মেসি আবারও জাতীয় দলে ফিরবেন?
আমার মনে হয় সে ফিরবে। আমরা জানি, আমরা সেই ধরনের খেলোয়াড়, যারা খেপে গিয়ে ওয়ালে ঘুষি মারি না।

আপনি স্কোলনিকে আর্জেন্টিনার কোচ করায় তার সমালোচনা করে বলেছিলেন যে, তার অভিজ্ঞতা কম। আপনার কী মনে হয় না সোলারিকে কোচ করে রিয়াল একই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে?
আমি কেবলমাত্র উভয় ক্ষেত্রেই বলব যে, তাদের পেছনে যথেষ্ট সমর্থন নেই। যাইহোক, তারা কেবল আর্জেন্টিনা ফেডারেশন সভাপতি ও রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতির সমর্থন পেয়েছে। তবে মনে করি না তারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে থাকতে পারবে। প্রত্যেক কোচেরই একটি সময়-কাল আছে এবং তারা বেশিদিন টিকতে পারবে না।

তাহলে জিদান সম্পর্কে কী বলবেন?
কোচের মেয়াদকাল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যদি জিদানের সঙ্গে স্কোলনি এবং সোলারির তুলনা করেন তাহলে তো হবে না। জিদানের বিষয়টা ব্যতিক্রম।

ম্যারাডোনা সম্পর্কে কী বলবেন? তার কী রিয়ালে কোচ হওয়ার সম্ভাবনা আছে?
এমনটা হলে আমারই ভালো লাগবে। দায়িত্ব নেয়ার মত বড় কাঁধ আছে আমার। তবে সবসময় তা কাজে লাগে না আরকি। দোরাদোসে আমি বেশ সুখী। এখানে বেঞ্জামিনের দেখা পাই(ম্যারাডোনার নাতি ও সার্জিও আগুয়েরোর ছেলে)। আগুয়েরোর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক আছে। সে একজন ভালো বাবা এবং ভালো একজন মানুষ।

রোনালদোর দল পরিবর্তন নিয়ে কী বলবেন?
আমার মনে হয় ক্রিস্টিয়ানো ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে মাদ্রিদকে তার সবটা দিয়েছে। আর এখান সে উপভোগ করতে পারছিল না, যেমনটা সে এখন ইতালিতে করছে। আর ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের(রিয়াল সভাপতি) কিছু না কিছু পরিকল্পনা থাকেই। সে রোনালদোকে গোলমেশিন ছাড়া কিছুই ভাবেনি।