চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মিশা-জায়েদের নেতৃত্বে এক বছরে কী করেছে শিল্পী সমিতি?

গেল বছরের ৬ মে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান প্যানেল। এরপর এই প্যানেলে শপথ গ্রহণ করে একই মাসের ২৪ মে মিশা-জায়েদের নির্বাচনে জয়ী প্যানেল শপথ গ্রহণ করে দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর কেটে গেছে একটি বছর। ৬ মে মিশা-জায়েদের প্যানেলের একবছর পূর্ণ হলো।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন থেকে পুরো একটি বছর চলচ্চিত্রাঙ্গন ছিল উত্তাল। নানা ইস্যুতে মিশা-জায়েদের প্যানেলের নেতৃত্বে এই কমিটি ছিল তৎপর। বিশেষ করে তারা নির্বাচনে আগে ২১ দফা যে ইশতেহার দিয়েছিলেন সেটি পূরণে ছিলেন বদ্ধপরিকর। এই এক বছরে মিশা-জায়েদের নেতৃত্বে কী করেছে শিল্পী সমিতি? তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন জায়েদ খান নিজেই।

চ্যানেল আই অনালাইনকে জায়েদ বলেন, ২১ টি নির্বাচনী ইশতেহার ছিল, তার মধ্যে প্রায় ২০ টি নির্বাচনী ইশতেহার আমরা পূরণ করেছি। তিনি বলেন, অসচ্ছল শিল্পীদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলাম। এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আগামী ঈদের পর এটি পূরণ করতে পারবো বলে আশা রাখছি।

জায়েদ খান বলেন, যৌথ প্রযোজনার নামে অনিয়ম করে প্রতারণা বন্ধ করেছি। এখন একটি সঠিক নীতিমালায় ছবি হচ্ছে। বিদেশি চলচ্চিত্র ও শিল্পী দিয়ে দেশীয় বাজার দখলের অপচেষ্টা ঠেকাতে তৎপর আছি। এরই মধ্যে অনেকটা সফলও হয়েছি আমরা। বিদেশি শিল্পীদের ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ করা বন্ধ করেছি।

আগে সিনিয়র শিল্পীদের এফডিসিতে আনাগোনা ছিলনা বললেই চলে। কিন্তু এখন সিনিয়র-জুনিয়র সবাই এফডিসিতে আসছেন উল্লেখ করে জায়েদ খান বলেন, সব সিনিয়র জুনিয়র শিল্পীদের নিয়ে আমরা শিল্পী সমিতি চালাতে চেয়েছি। তার প্রমাণ দিয়েছি। সিনিয়র শিল্পী যারা আছেন- হাসান ইমাম, চিত্রনায়ক ফারুক, ইলিয়াস কাঞ্চন, উজ্জল, মাসুম বাবুল থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজন্মের তারকা শিল্পীরাই এখন চলচ্চিত্রের খোঁজ-খবর নিয়মিত রাখেন।

তারা এফডিসিতে আবারও আগের মতো যাতায়াত করেন। তাদের অনেককে নিয়ে আমরা শক্তিশালী একটি উপদেষ্টা কমিটিও গঠন করেছি। শিল্পীর সমিতির অফিসে আগে ভুতুড়ে অবস্থা বিরাজ করতো। পুরো অফিস সংস্কার করেছি। ফুল দিয়ে সাজিয়েছি, রাতে ঝলমলে বাতির ব্যবস্থা করেছি। সমিতির অফিসে বাথরুম তৈরি করেছি। শিল্পী সমিতি সংলগ্ন রাস্তা মেরামত করেছি, এখন আর বৃষ্টিতে পানি জমে না। এটা এফডিসির দায়িত্ব। তারপরেও নিজেদের তাগিদ থেকেই করেছি।

জায়েদ খান বলেন, আগে শিল্পী সমিতির সদস্য হতে গেলে ২৫ হাজার টাকা লাগতো। সেটি কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করেছি। শিল্পীদের মাসিক চাঁদা ১০০ টাকা ধার্য্য করা হয়েছে। :তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী শিল্পী সমিতির নিবন্ধিত শিল্পী তৈরি করা হচ্ছে। যারা বাদ যাবেন তাদেরকে পরবর্তীতে কাজের মান ও সংখ্যার বিচারে সদস্য করা হবে।

এছাড়া স্বাস্থ্য সেবার জন্য একটি হাসাপাতালের সঙ্গে চুক্তি করেছি। এখানে আমাদের শিল্পীদের ৫০% ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। সাথে সাথে শিল্পীদের ডিজিটাল পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করেছি। সর্বোপরি আমরা সিনেমার সমস্যা দূর করতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সাহেবের সঙ্গেও দেখা করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আমাদের উন্নয়নে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। খুব শিগগিরই আমাদের সিনেমা নির্মাণেও পরিবর্তন আসবে। এরই মধ্যে এসেছেও। আর ভালো গল্প, ভালো নির্মাণে দর্শক মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র পাবেন।’

আগামী এক বছরে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতেকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জায়েদ খান।