চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘মিশন এক্সট্রিম’-এ কেন নেই দীপন, জানালেন সানী

২০১৭ সালের সবচেয়ে আলোচিত পুলিশি অ্যাকশন থ্রিলার ছবি ‘ঢাকা অ্যাটাক’। বছর ঘুরে নির্মিত হচ্ছে ছবির সিক্যুয়াল। নাম ‘মিশন এক্সট্রিম’। প্রথম ছবি নির্মাণ করে তুমুলভাবে আলোচিত হয়েছিলেন দীপঙ্কর দীপন। বলা হতো, ছবির সাফল্যের নেপথ্যে দীপনের অবদানই ছিল বেশি! এও শোনা যেত, ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সফল হয়েছিল দীপনের নির্মাণ মুন্সিয়ানায়! কিন্তু পরের কিস্তিতে ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর বেশিরভাগ সদস্য থাকলেও পরিচালক হিসেবে নেই দীপঙ্কর দীপন। এটা অনেকের মনে ‘বার্নিং কোয়েশ্চেন’!

‘মিশন এক্সট্রিম’-এর ‘ক্যাপ্টেন অব দ্য শিপ’ হচ্ছেন ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর চিত্রনাট্যকার সানী সানোয়ার ও প্রধান সহকারি ফয়সাল আহমেদ। এই ছবিতে দীপঙ্কর দীপন কেন নেই? অনেকের এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সানী সানোয়ার।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবির সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে তিনি বলেন, মিডিয়াতে কাজের ক্ষেত্রে ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই যে একটা প্রজেক্টে যারা কাজ করবে, তারা সবাই আবার দ্বিতীয় প্রজেক্টে কাজ করবে। এই না করার পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকে। যে থাকলো না তারও ইচ্ছের কিছু বিষয় থাকে। আবার এমনও হতে পারে, দ্বিতীয় প্রজেক্টে সিংক হচ্ছে না।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তা সানী সানোয়ার মনে করেন, এছাড়া আরও অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। এগুলো খোলাখুলি আলোচনা করার মতো না। তিনি বলেন, শুধু দীপঙ্কর দীপন কেন, ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এ মাহিয়া মাহি, এবিএম সুমন ছিল। তাদের চরিত্র ছিল প্রমিনেট। আগের শতভাগ লোক দ্বিতীয় প্রজেক্টে কেন, পৃথিবীর কোনো প্রজেক্টেই নেই। নট অ্যা সিঙ্গেল প্রজেক্ট! আমি মনে করি, ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর পরে ‘মিশন এক্সট্রিম’-এ যে পরিবর্তন হয়েছে যেমন পরিচালক, কয়েকজন শিল্পী, সহকারি পরিচালক, এটা একটা ইউজুয়াল বিষয়। বহুবিধ বিষয় এরমধ্যে জড়িত থাকে।

সানী সানোয়ার আরও বলেন, আমি যে বিষয়গুলো লিখি সেগুলো আমার দেখা। যে ভাষা ও শব্দ ব্যবহার করি, শারীরিক গড়ন যেভাবে তুলে ধরি, আবেগ প্রকাশ করি সেগুলো অনেক সময় লেখায় ফুটিয়ে তোলা যায়না। চিত্রনাট্য করার পর অন্যজনকে যদি পরিচালনা করতে দেই তাহলে সে তার মতো ভার্সন করবে। হতে পারে সে আরও ভালো করে করবে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে আমি যেহেতু পুলিশ এখানে কিছু গ্রামাটিক্যাল বিষয় চলে আসে।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমায় বোমের যে কাজগুলো ছিল, বোম সম্পর্কিত যতগুলো শব্দ উচ্চারিত হয়েছিল সেখানে আবিদ চরিত্রটি যে হ্যান্ড এন্ট্রি করেছে, বোম রিফিউজ করেছে- এই প্রতিটি প্রজেক্ট বাংলাদেশের বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী , সেনাবাহিনী, পুলিশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দূতাবাসে যে মানুষগুলো বোম সম্পর্কে কাজ করে জানেন প্রতিটি মানুষ ‘ঢাকা অ্যাটাক’ দেখেছে, আমার ভুল ধরার জন্য। তারা চেষ্টা করেছেন, কোথাও আমার গ্রামাটিক্যাল ভুল আছে! কিন্তু আমি এটা হতে দেইনি। এজন্য প্রত্যেকেই আমাকে অ্যাপ্রিসিয়েট করেছেন।

তারা বলেছেন, সিনেমা বানিয়েছেন সেখানে ক্লাইম্যাক্স হয়েছে কিন্তু কোনো গ্রামাটিক্যাল ভুল ধরতে পারিনি। সারাবিশ্বে যেভাবে বোম নিষ্ক্রিয় করা হয় সেভাবেই করা হয়েছে। খুব গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন, কিন্তু মানুষ যেটা থেকে কিছু শিখতে পারেনি। এই বিষয়টা আমি পুরোপুরি চিত্রনাট্যে লিখতে পারিনি। শুটিংয়ের সময় সেখানে উপস্থিত থেকে আয়োজন করে শিল্পীদের সাথে আলাপ করে, ক্যামেরা ও পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলতে হয়েছে।

সানী মনে করেন, আগের সিনেমায় বিভিন্ন কারণে কিছু ভুল ত্রুটি হয়েছে! সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমার মনে হয়েছে, আমার লেখা গল্প ও চিত্রনাট্য সেটা যদি আমার পরিচালনায় হয় তবে তার ভালোটুকু আমার, মন্দ টুকুও আমার। আমি দুটোই নিতে রাজি। সেই চিন্তা থেকেই মূলত নির্মাণে এসেছি। আমি চাই, ‘মিশন এক্সট্রিম’ আমার মনের মতো হোক। দর্শক দেখুক, সেটা দিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা করুক।

সানী সানোয়ারের মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবির নায়ক আরিফিন শুভ বলেন, আমি আমার দুটো ব্লকবাস্টার হিট ছবির নাম বলতে পারবো। এই দুটো ছবির পরের একটাতেও আমি ছিলাম না। এর মানে এই নয় যে, আমার অযোগ্যতা ছিল বা তাদের অযোগ্যতা ছিল। এভাবে ইন্ডাস্ট্রি রান করে না। ‘মিশন এক্সট্রিম’ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কপ ক্রিয়েশনের দ্বিতীয় ছবি। তৃতীয় ছবিতে যে আমিই থাকবো এরকম কোনো গ্যারান্টি নেই। কপ ক্রিয়েশন থাকবে, কিন্তু শিল্পী পরিচালক কে থাকবে এর কোনো ঠিক নেই। ঠিক তেমনিভাবে ‘মিশন এক্সট্রিম’-এ দীপন দাদা নেই এখানে তার কোনো অযোগ্যতা বা অপরাগতার জন্য নয়।

‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ, তাসকিন রহমান, ঐশী, সাদিয়া নাবিলা, ইরেশ যাকের, মাজনুন মিজান, সুষমা সরকার, দীপু ইমাম, শতাব্দী ওয়াদুদ, আরেফ, মনোজ, সুমিত, ইমরান, সুদীপ্ত, নাজমুস সাকিব, তারিক আনাম খানসহ অনেকেই।

হাইভোল্টেজ ঢাকা অ্যাটাকের সাফল্যের পর ‘মিশন এক্সট্রিম’ দেশের দ্বিতীয় পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা। নির্মাতাদ্বয়ের ইচ্ছে, চলতি বছরের শেষের দিকে ছবিটি দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেয়া।