চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘মিনি পাকিস্তানে’ নৌকার জয়ের গল্প

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার একটি ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন। সেখানে স্বাধীনতার পর ‘প্রথমবারের মতো’ নৌকা মার্কার প্রার্থী ২১০০ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। পোস্টে ওই এলাকাকে স্বাধীন বাংলাদেশের মধ্যে এক মিনি পাকিস্তান হিসেবে মন্তব্য করেছেন তিনি।

পোস্টে তিনি লিখেন, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ন। স্বাধীনতার সময় থেকেই ব্যঙ্গ করে এই ইউনিয়নকে আশে পাশের মানুষজন মিনি পাকিস্তান এবং রাজাকার ইউনিয়ন বলতো। কারণ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তুমুল জোয়ারের সময়ও বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এই ইউনিয়ন থেকে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। কাপাসিয়া উপজেলা তুলনামূলকভাবে আওয়ামী অধ্যুষিত এলাকা হওয়া সত্বেও দুর্গাপুর ইউনিয়নটি একেবারেই ব্যতিক্রম।

এরপর আশরাফুল আলম খোকন আরো লিখেন, আমার জন্ম এবং বেড়ে উঠা ঐখানেই। স্কুলে পড়ার সময়ই যখন আমরা দলীয় মিছিল কিংবা কর্মসূচিতে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কাপাসিয়া সদরে যেতাম তখনই আমাদেরকে সদর ও অন্যান্য ইউনিয়নের লোকজন ব্যঙ্গ করে সংখ্যালঘু বলতো। এমনকি আমাদের ইউনিয়নের ভোট তারা গণনায় ধরে না এমন কথাও বলতো কেউ কেউ। আর আমাদের ইউনিয়নের একসময়ের ৮০ শতাংশ জামায়াতের ৭০ শতাংশই রূপান্তরিত বিএনপি হয়ে যায়।

দুর্গাপুর ইউনিয়নের তারাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি হিসাবে আমি বন্ধুদের নিয়ে যখন ১৪/১৫ জনের মিছিল বের করতাম তখন আশে পাশের দোকানপাট ও বাড়িঘর থেকে মানুষজন উঁকি দিয়ে দেখতো আর হাসতো। ভাবটা এমন যে, এই চিড়িয়াগুলো আবার কোত্থেকে এলো! জাতীয় নির্বাচনে আমাদের ইউনিয়ন থেকে জামায়াত – বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী যা ভোট পেত তা পূরণ করতেই চার/পাচটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ভালো ভোটের ব্যবধানে জিততে হতো।

মজার বিষয় হচ্ছে আমাদের এই ইউনিয়নে ২/৩ টি মহল্লায় আওয়ামী লীগ বরাবরই খুবই শক্তিশালী এবং ভোটারদের প্রায় সবাই কর্মী। তবে তা প্রয়োজনীয় ভোটের তুলনায় খুবই নগণ্য। ঠাট্টা ছলে আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ কর্মী হিসাবে উপাধি দিলেও এইখানে সংগঠনকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ ২০০০ সালের আগে কখনই কেউ নেননি।

এরপরে ২০০১ সালের নির্বাচনের কথা টেনে তিনি লিখেন, ২০০১ এর নির্বাচনের সময় থেকেই এই ইউনিয়নের কিছু তরুণ কর্মীর সংগ্রাম শুরু হয় অসাধ্য সাধন করার। এদের একজন হয়ে আজ নিজেকে গর্বিত একজন মনে হচ্ছে। কারণ কাপাসিয়ার আরো ১০টি ইউনিয়নের তুলনায় বর্তমানে তরুণ কর্মীর সংখ্যা তুলনামূলক আমাদের ইউনিয়নেই বেশি। ধীরে ধীরে সংগঠন শক্তিশালী হলেও ভোটের সংখ্যা খুব একটা বৃদ্ধি পায়নি। তাই বিভিন্ন কর্মসূচিতে আমাদের অংশগ্রহণ বেশি থাকলেও শুধু ভোটের কারণে আমরা অবহেলিতই থেকেছি। 

এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও তার প্রমাণ। নির্বাচনের আগে কাপাসিয়ার দলের একজন নেতাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম মনোনয়ন কাকে দিচ্ছেন ? উত্তরে বলেছিল, যাকে দিব সে ই তো ফেল করবে, সুতরাং একজনকে দিয়ে দিলেই হবে।

সবশেষে তিনি লিখেন, যাই হোক সর্বসম্মতিক্রমে মনোনয়ন পেলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাফফার ভাই। ভদ্রলোক মানুষ তিনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এই অবস্থায়ও ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া নামক একটি জায়গায় আমাদের প্রাণের প্রতীক নৌকায় আগুন দিয়েছে বিএনপি – জামায়াত। এর কোনো প্রতিকার চেয়েও পায়নি গাফফার ভাই ও দলীয় কর্মীরা। এমনকি কিছু এলাকায় সংখ্যালঘুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়েছে জামাত বিএনপির ক্যাডার’রা। এমন পরিস্থিতিতে সিনিয়র নেতারা হতাশ হয়ে পরলেও আমরা তরুণরা কেউ হাল ছাড়িনি। এমনকি সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সরকারী দলের কোনো প্রভাব ব্যবহার করিনি। পাল্টা হুমকি ধামকি কিংবা প্রশাসনকে ব্যবহার করিনি। কোনো প্রকারের ভোট কারচুপি হয়েছে এই অভিযোগ বিএনপি জামায়াত করতে পারেনি। সম্পূর্ণ অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে মিনি পাকিস্তান বলে খ্যাত দুর্গাপুর ইউনিয়ন থেকে এই ‘প্রথমবারের মতো’ নৌকা মার্কার প্রার্থী ২১০০ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই ফলাফলে বিএনপি-জামায়াতের চেয়ে বেশি অবাক হয়েছে আমাদেরকে ব্যঙ্গ করা দলের নেতারা।

এখন অনেকেই বলতে পারেন জিতলাম কিভাবে? প্রথম হলো কর্মীদের সাহস এবং মনোবল তুঙ্গে রেখেছি আর প্রতি মহল্লায় গিয়ে গিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের চিত্র ভোটারদের সামনে তুলে ধরেছি। এর চেয়ে বড় কোনো ম্যাজিক আমাদের ছিলনা। ধন্যবাদ আমাদের তরুণ কর্মী এবং দুর্গাপুর ইউনিয়ন বাসীকে। আশাকরি এইবার অন্তত আমাদের অপবাদ ঘুচবে। জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয়তু শেখ হাসিনা।

FacebookTwitterInstagramPinterestLinkedInGoogle+YoutubeRedditDribbbleBehanceGithubCodePenEmail