চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মায়ের স্বপ্নের ‘শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল’ পাকিস্তান চান বিলাওয়াল

পাকিস্তান পিপল’স পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি জানিয়েছেন, ‘শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক পাকিস্তানের যে স্বপ্ন তার মা দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের জন্য’ নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিবিসি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটি জানান পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়াল। ২০০৭ সালে এক সমাবেশে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন বেনজির।

আগামী ২৫ জুলাই পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যাতে প্রথমবারের মতো নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন বিলাওয়াল। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিপিপি’র জনপ্রিয়তা কমেছে।

বেনজিরের মৃত্যুর পর তাৎক্ষণিকভাবে বিলাওয়াল ও তার বাবা আসিফ আলি জারদারিকে পিপিপি’র যৌথ নেতৃত্ব দেওয়া হয়।

পরিবারের মধ্যে তৃতীয় প্রজন্মের রাজনীতিবিদ বিলাওয়াল। সত্তরের দশকে তার নানা জুলফিকার আলী ভুট্টো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউল হকের শাসনামলে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাসে রক্তের দাগ থাকলেও বিলওয়াল জানান, ‘নেতৃত্বাস্থানীয় রাজনৈতিক দায়িত্ব নিতে তিনি ভীত নন। সাম্যবাদী পাকিস্তান নির্মাণ হচ্ছে আমার নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তি…। যেখানে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠের জনগণের লাভের জন্য কাজ করবো, মুষ্টিমেয় লোকের জন্য নয়।’

বর্তমান জনমত জরিপ অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে পিপিপি তৃতীয় স্থান লাভ করবে। এগিয়ে রয়েছেন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন দল পাকিস্তান তেহরিক-ই- ইনসাফ (পিটিআই) এবং অযোগ্য ঘোষিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লিগ- নওয়াজ (পিএমএল-এন)।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুকারাব আকবর বিবিসিকে বলেন, গ্রামীণ জনগণের মাঝে এখনও জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে পিপিপি। বিশেষ করে সিন্ধ প্রদেশ হচ্ছে তাদের শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবের অনেক ভোটার মনে করেন, পিপিপি তাদের শেষ শাসনামলে সন্তোষজনক অবদান রাখেনি। তাই অনেকেই পিটিআই’য়ের দিকে ঝুঁকেছে।

পিপিপি’র প্রেসিডেন্ট এবং বিলাওয়ালের বাবা আসিফ আলী জারদারির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। এই সপ্তাহের শুরুর দিকে, সুপ্রিম কোর্ট এক তদন্তের জন্য তাকে দেশত্যাগ না করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিলাওয়ালের দাবি, তার দল অনেক দিন ধরেই অপপ্রচারের শিকার।

অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, নির্বাচনের পড়ে জোট গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দল হয়ে উঠতে পারে পিপিপি। তবে সেক্ষেত্রে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট অবস্থার সৃষ্টি হতে হবে, যেখানে কোন দলই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না।

গত সপ্তাহে একটি দুর্নীতিবিরোধী আদালত নওয়াজ শরিফকে দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে, যা এখন নির্বাচনী প্রচারণায় সবচেয়ে আলোচিত। তার সমর্থকদের দাবি, সেনাবাহিনী তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে দুর্নীতির অভিযোগ ব্যবহার করেছে। কিন্তু সামরিক বাহিনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের বিষয় অস্বীকার করেছে।

বিলাওয়াল বলেন, নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান হয়েছে, তা আমি বিশ্বাস করি না। তবে নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। পাকিস্তানের মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং প্রচারণা চালানোর স্বাধীনতা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। সংসদই এসব সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে ভালো স্থান। এ কারণে আমি সংসদীয় নির্বাচনের জন্য লড়ছি।

বিলাওয়াল তার জীবনের শুরুর দিকের অধিকাংশ সময়ই কাটিয়েছেন পাকিস্তানের বাইরে। প্রথমে তার মায়ের স্বেচ্ছা নির্বাসনের সময়ে এবং পরে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়।

প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, আমার বয়স বা বাচনভঙ্গি নিয়েই সমালোচনায় লিপ্ত হয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে আমাকে হারাতে পারবে না।