চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মায়ের গর্ভেই দুই শিশুর মেরুদণ্ডে সফল অস্ত্রোপচার

জন্মের কয়েক সপ্তাহ আগেই মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় দুই শিশুর দেহে অস্ত্রোপচার করে তাদের ত্রুটিযুক্ত মেরুদণ্ড মেরামতে সফল হয়েছেন লন্ডনের একদল চিকিৎসক।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যে এ ধরনের অপারেশন এটাই প্রথম। লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ হসপিটালে (ইউসিএল) ৩০ জন সার্জনের একটি দলের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন হয়।

সম্প্রতি পরিচালিত এই সার্জারি করা হয়েছিল ‘স্পিনা বিফিডা’ জটিলতায় আক্রান্ত দু’টি শিশুর ওপর। এই জন্মগত ত্রুটিতে গর্ভে থাকা শিশুর মেরুদণ্ড পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত হতে পারে না, ফলে মেরুদণ্ডের মাঝে ফাঁক থেকে যায়।

এই ত্রুটির চিকিৎসা সাধারণত শিশুর জন্মের পর করা হয়। তবে যত আগে চিকিৎসা করা হবে, শিশুর স্বাস্থ্য ও চলৎশক্তি তত বেশি স্বাভাবিক হবে।

তাই এবার জন্মের পর না, জন্মের আগেই চিকিৎসার চেষ্টা করলেন ডাক্তাররা। এ প্রক্রিয়ায় মায়ের জরায়ু কেটে তার ভেতরে থাকা অবস্থায়ই বাচ্চার মেরুদণ্ডের ফাঁকা অংশটি সেলাই করে জোড়া দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রক্রিয়াটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কেননা এর ফলে যে কোনো সময় প্রিম্যাচিউর (সময়ের আগে) লেবার শুরু হয়ে যেতে পারত। কিন্তু তারপরও এ ঝুঁকি নিয়েছেন চিকিৎসকরা। গর্ভধারণের স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যতটা সম্ভব কম হস্তক্ষেপ করে তারা কাজটি করেছেন এবং এক্ষেত্রে কি-হোল প্রক্রিয়া (ছোট ফুটো করে অস্ত্রোপচার) প্রয়োগ করেছেন।

ইউসিএলের অধ্যাপক অ্যান ডেভিড বলেন, ‘শান্ত রাখার জন্য মাকে ওই সময় আমরা কিছু ওষুধ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারপরও যথেষ্ট ঝুঁকি ছিল।’ সার্জারি প্রক্রিয়াটি যুক্তরাজ্যে শুরু করার জন্য গত তিন বছর ধরে কাজ করে আসছেন তিনি।

এর আগে এ ধরনের জটিলতাধারী শিশুর ব্রিটিশ মায়েদের এই সার্জারির জন্য যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম বা সুইজারল্যান্ডে যেতে হতো। কিন্তু এখন তারা দেশেই কাজটি করাতে পারবেন, তুলনামূলক কম খরচে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা শাইনের তথ্য মতে, প্রতি বছর দেশটিতে ২শ’রও বেশি শিশু স্পিনা বিফিডা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস জানিয়েছে, ভ্রূণের বেড়ে ওঠার প্রথম দিকের সময়টায় তার নিউরাল টিউব কোনো কারণে ঠিকঠাকভাবে বেড়ে গঠিত হতে না পারলে সেখান থেকে মস্তিষ্ক আর মেরুদণ্ডের গঠনে জটিলতা দেখা দেয়। এর ফলে মেরুদণ্ডের মেরুরজ্জু ও কশেরুকার (মেরুদণ্ডের ছোট ছোট হাড়) মাঝে অস্বাভাবিক ফাঁক বা ত্রুটির সৃষ্টি হয়।

সার্জারির মাধ্যমে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ফাঁকগুলো সারিয়ে দেয়া সম্ভব। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, অপারেশনটি করার আগেই শিশুর স্নায়ুতন্ত্র এতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়ে থাকে যে, চিকিৎসা করলেও সমস্যা সম্পূর্ণ এড়ানো যায় না। পরবর্তীকালে কারও প্যারালাইসিস, কারও স্বাভাবিক চলাফেরায় সমস্যা, এমনকি অবধারণ ক্ষমতায়ও সমস্যা দেখা দেয়।