চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মাশরাফী বিশ্বকাপের সেরা অধিনায়ক: আশরাফুল

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানের সাবেক গতিদানব শোয়েব আখতার বলেছেন, এবার বিশ্বকাপে বিশ্বের সেরা অধিনায়ক নিয়ে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। টাইগার অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে সেরার আসনে বসিয়েছেন রাওয়ালাপিন্ডি এক্সপ্রেস। সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান মোহাম্মদ আশরাফুলের চোখেও সবার সেরা মাশরাফী।

শনিবার মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে একসময়ের সতীর্থের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আশরাফুল। তার মতে, বোলিং বিভাগে যে ঘাটতি আছে সেটা মাশরাফীর নেতৃত্বগুণেই কাটিয়ে উঠবে বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ডের মাটিতে ব্যাটিংয়ে সফল হওয়া আশরাফুল নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, ‘যে ধরনের উইকেটে খেলা হবে এবং আমাদের বোলারদের যে গতি… এই জায়গায় মনে হয় আমরা একটু পিছিয়ে থাকব। আমাদের বেশিভাগ বোলারই, শুধু রুবেল ১৪০ গতিতে বল করতে পারে, বাকিরা ১৩০-১৩৫ এইরকম। তারপরও দেড় মাস সময় আছে। আমাদের একটা সুবিধা থাকবে যে মাশরাফী অধিনায়ক। কারণ সে সেরা অধিনায়ক।’

‘ভালো একটা নেতা থাকলে এইসব ছোটখাট জিনিসগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবে। সিনিয়ররা যদি সেরাটা দিতে পারে এবং জুনিয়ররা যদি ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে পারে, তাহলে ভালো কিছু আশা করতে পারি। কিন্তু ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করলে একটু কঠিন। ওই ধরনের কন্ডিশনে আমাদের থেকে বাকি দলগুলো একটু ভালো।’

ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে পেস বোলারদের ভূমিকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পেস ইউনিট চোটজর্জর হয়ে পড়ায় চিন্তার ভাজ পড়েছে টাইগার স্কোয়াডে। সাইড স্ট্রেইনে চোট থাকায় বোলিং করতে পারছেন না রুবেল হোসেন। গোড়ালিতে চোট পেয়ে মোস্তাফিজুর রহমানও বল হাতে নিচ্ছেন না। সোমবার মিরপুরে অনুশীলন ক্যাম্পের প্রথমদিনে তারা করেছেন কেবল ব্যাটিং অনুশীলন।

লম্বা সময় ধরে কনুইয়ের উপরে খানিকটা জায়গাজুড়ে ব্যথা নিয়েই প্রিমিয়ার লিগ খেলে যাচ্ছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ডাক্তারি ভাষায় যে চোটকে টেনিস এলবো বলে। অন্যদিকে বিশ্বকাপ দল ঘোষণার একদিন পরই ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে চোট পান আবু জায়েদ রাহি। পাঁচের মধ্যে চার পেসারই চোটে থাকায় স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ওপর আশাটা বেশি আশরাফুলের, আমি মনে করি, আমাদের ব্যাটসম্যানদের ভালো করার সুযোগ থাকবে। মুশফিক, সাকিব, তামিম, মাহমুদউল্লাহ… ওরা কিন্তু এটা নিয়ে চারটা বিশ্বকাপ খেলবে। তারা সেরা সময় অতিবাহিত করছে। এটা একটা সুবিধা। ওরা যদি সেরাটা দিতে পারে, কারণ ওদের দিনে একাই ম্যাচ জেতাতে পারে ওরা। ওরা যদি সেরাটা দিতে পারে বিভিন্ন দিনে, বাকিরা যদি অবদান রাখে তাহলে আমি মনে করি, যেকোনো দলের বিপক্ষে আমরা জিততে পারব।’

‘বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডে আমাদের বোলাররা অতটা ভালো করতে পারেনি। সম্প্রতি ইনজুরির কারণে সবাই শতভাগ ফিট না। এদিকটা যদি একটু কাটিয়ে উঠতে পারি, বোলিং ইউনিট যদি একসাথে ভালো করে, মাশরাফীর লিডারশিপ খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে এখানে। সে যদি বোলারদের নিয়ে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারে, ম্যাচ বাই ম্যাচ, আমরা যেমন শুরুর দিকে সাউথ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সাথে খেলব। সেখানে আমার মনে হয় স্পিন নিয়ে অ্যাটাক করা উচিত। কারণ পেস আক্রমণ নিয়ে ওদের অতটা ভীত করা যাবে না, যতটা স্পিনে হবে। প্রতিটা ম্যাচ বাই ম্যাচ যদি খেলি, তাহলে ভালো করা সম্ভব। তবে কঠিন হবে।’

এবার বিশ্বকাপটা বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফীর জন্য চতুর্থ বিশ্বকাপ। তবে এটি তার পঞ্চম বিশ্বকাপও হতে পারতো। ঘরের মাঠে ২০১১ বিশ্বকাপে বিতর্কিতভাবে তাকে বাদ দেয়া হয়েছিল। তারপরও এবারের আসরে অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় নড়াইল এক্সপ্রেস। ২০০৩ বিশ্বকাপেও খেলার অভিজ্ঞতা থাকা আরেক ক্রিকেটার ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল।

মাশরাফীর নেতৃত্ব গত চার বছর ওয়ানডেতে ৫১ শতাংশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারে ৭৩ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জয় এনে দিয়েছেন ৪০টিতে। হার ৩১ ম্যাচে। গত বিশ্বকাপে মাশরাফীর নেতৃত্বেই কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছ বাংলাদেশ। যেটা নিজেদের ইতিহাসে সেরা সাফল্য।