চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তারপরও জেরুজালেমেই যাবে মার্কিন দূতাবাস

জাতিসংঘে ভোটের মাধ্যমে জেরুজালেমের ইসরায়েলের রাজধানী হওয়া ঠেকানোর পাশাপাশি কোনো দেশের দূতাবাস না সরানোর আহ্বানের পরও আবার দূতাবাস নিয়ে আগের সিদ্ধান্তই জানাল যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জানিয়েছেন, ২০১৯ সাল শেষ হওয়ার আগেই মার্কিন দূতাবাস ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করা হবে।

ইসরায়েলি পার্লামেন্টে দেয়া এক ভাষণে এ ঘোষণা দেন পেন্স।

বাইবেলের সূত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেরুজালেম ইসরায়েলের রাজধানী। আর এ কারণেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পররাষ্ট্র বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করা হয়। তখনই পেন্স প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী বছর শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমে দূতাবাস খুলবে।

বিবিসি জানায়, এ ঘোষণা দেয়ার সময় পেন্সকে বাধা দেন পার্লামেন্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত আরব এমপিরা। ‘জেরুজালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী’ লেখা ব্যানার উঁচিয়ে তারা প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এর জবাবে মাইক পেন্স মৃদু হেসে বলেন, এমন একটি সক্রিয় গণতন্ত্রের সামনে দাঁড়াতে পেরে তিনি ধন্য।

এ ঘটনার পর সাথে সাথে ফিলিস্তিনপন্থি ওই এমপিদের পার্লামেন্ট কক্ষ থেকে জোর করে সরিয়ে নেয়া হয়।

মাইক পেন্সের এ ঘোষণার প্রতিবাদ করছে ফিলিস্তিনিরা। এ বিষয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে প্রধান আলোচক সায়েব ইরাকাত বলেছেন, পেন্সের বক্তব্য আবারও প্রমাণ করল মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটে সমস্যার অংশ, সমাধানের নয়।

এ ক্ষোভ থেকেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করার বদলে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অনুরোধ জানানোর উদ্দেশ্যে ব্রাসেলস গেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

জেরুজালেম-রাজধানী-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র-মার্কিন দূতাবাস
মাইক পেন্সের ঘোষণার পর পার্লামেন্টের ভেতরেও অস্থিরতার সৃষ্টি হয়

গত ৭ ডিসেম্বর নিজ দেশসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে সমালোচনার মুখেও তেল আবিবের বদলে জেরুজালেম শহরকে একপক্ষীয়ভাবে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার পর ২১ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বিশাল ভোটের ব্যবধানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে।

সাধারণ পরিষদে জেরুজালেমকে রাজধানী স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা বাতিল করার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১২৮টি রাষ্ট্র, ভোটদান থেকে বিরত থাকে ৩৫টি রাষ্ট্র, আর বিপক্ষে ভোট দেয় মাত্র ৯টি রাষ্ট্র। গুয়াতেমালা ছিল ঐ ৯টি রাষ্ট্রের একটি।

এর আগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও একইরকম একটি প্রস্তাবের পক্ষে ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪টি রাষ্ট্র ভোট দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে তা বাতিল হয়ে যায়।

ইসরায়েল সমগ্র জেরুজালেমকে নিজেদের অধিকারভুক্ত বলে দাবি করে। কিন্তু জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের এ দাবি স্বীকার করে না।

জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেম, যেখানে আল-আকসা মসজিদসহ বৃহত্তম হারাম শরিফ অবস্থিত। ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের পর থেকে তা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।