চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মানবসেবায় ব্রত হবার স্বপ্ন দেখা কয়েকজন পথশিশু

রহিমা, সুমি, বৃষ্টি, আরাফাত, রাজিবসহ কয়েকজন পথশিশু। তাদের বসবাস উত্তরার আশেপাশেই। গড়পরতায় তাদের বয়স হবে ৮ থেকে ১২ বছর।পথশিশু রহিমা, বৃষ্টি জানায় পড়াশুনা করে তারা বড় হয়ে চিকিৎসক হয়ে  মানুষের সেবা করতে চায় আর সুমি কি হতে চায় তা বলতে না পারলেও তারও ইচ্ছা মানুষের সেবা করার।রাজিব আর আরাফাত পুলিশ হয়ে নিজেদেরকে দেশ সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে চান ।

১১ মার্চ বিকেলে উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টেরে নারী উদ্যোক্তাদের আয়োজিত মেলায় তাদের সাথে দেখা হয়ে যায়। উদ্যোক্তারাই পরিচয় করিয়ে দিলেন তাদের সাথে। কথা বলতেই জানা গেল এই শিশুদের কারও কারও মা থাকলেও বাবা নেই একজনেরও। তাই খুব ছোট বয়স থেকেই জীবন জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা উত্তরার অলি গলিতে। বিক্রি করে তাদের বানানো বেলুন, ফুল আর পুতির মালা। এমননিভাবে তাদের পরিচয় হয় নারী উদ্যোক্তাদের সাথে। তাদের মেলায় ওই শিশুদের পথকলি স্টোর নামে একটি স্টল বরাদ্দ দেন। এতে কথা হয় তাদের সাথে।  তবে রাজিব আর আরাফাতের গল্পটা একটু ভিন্ন। তারা একসময় পড়ালেখা করলেও এখন করছে না। অভিযোগ আছে সিগারেট খাওয়ার, স্বীকারও করলো তারা। এসব ছেড়ে দিয়ে আবারও পড়াশুনা করতে চায়, হতে চায় পুলিশ। এরকম আরও কয়েকজন পথশিশু আছে সেখানে যাদের জীবন সংগ্রামের গল্পগুলো প্রায় একই রকম।

কঠিন জীবন সংগ্রামের মধ্যে বেড়ে উঠলেও তারা স্বপ্ন দেখে মানব কল্যাণের। এসব জেনেই তাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে উত্তরার নারী উদ্যোক্ততারা। তাদের একজন কানিজ ফাতিমা মিমি। তিনি জানালেন, মেলার আয়োজন করতে গিয়ে এই পথশিশুদের সাথে তাদের পরিচয়। এই শিশুরা নাচ গানে পারদর্শী সে কথাও বলতে ভুল করেননি তিনি।

পথশিশুদের মধ্যে মেয়েশিশুরা যেকোন সময় নির্যাতনের শিকার হতে পারে এমন ভাবনার কথা জানিয়ে তারা বলেছেন এখানে থাকা সব পথশিশুদের জন্য স্থায়ী কিছু করতে চান। তবে এক্ষেত্রে বড় অন্তরায় স্থানীয় অভিভাবকরা। তারপরও হাল ছেড়ে দিতে রাজি নন তারা, সেইসব অভিভাবকদের বুঝিয়ে একদিন ভালো কিছু করার আশা নারী উদ্যোক্তাদের। তাদের দেখানো পথে হয়ত এই শিশুরা পাবে আলোকিত পথের সন্ধান। মানব সেবায় রাখবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।