চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দেশে মাতৃমৃত্যু বাড়ছে কেন?

দেশে মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর দু’টি বড় কারণ খিঁচুনি এবং প্রসব পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন: জন্ডিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং শ্বাসকষ্টের মতো পরোক্ষ কারণেও মায়েদের বড় অংশের মৃত্যু হচ্ছে। অসংক্রামক নানা রোগও এজন্য দায়ী। 

এ কারণে মাতৃমৃত্যু রোধে গর্ভকালীন সেবা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালে দক্ষ হাতে প্রসব বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দ্বিতীয়বারে মতো মা হচ্ছেন নুরজাহান আকতার রানি। আট মাসের গর্ভাবস্থায় যমজ সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে গত সপ্তাহে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গর্ভের সন্তানের নড়াচড়া কমে গেছে। মায়ের শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, জন্ডিসের মতো পরোক্ষ কারণে এ মা গর্ভাবস্থায় সবচেয়ে জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার করছেন।

২০১৬ সালের মাতৃত্বকালীন মা মৃত্যু জরিপ অনুয়াযী, দেশে কর্মক্ষম ১৩ শতাংশ মায়ের মাতৃত্বকালীন মৃত্যু হয়। মাতৃমৃত্যুর ৫৫ শতাংশ ঘটে রক্তক্ষয় এবং খিঁচুনিতে। ২০ শতাংশ মায়ের মৃত্যু হয় উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ এবং জন্ডিসে। অসংক্রামক রোগে ১৩ থেকে ১৮ শতাংশ মায়ের মৃত্যু হয়।

গত বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি মায়েদের ৭০ শতাংশই ছিলেন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ১শ’ ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যারা হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ বা হেপাটাইটিসে ভুগছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে এখনও ৬২ ভাগ মা-ই বাড়িতে অদক্ষ হাতে সন্তান জন্ম দিচ্ছেন।

দেশে বর্তমানে প্রতি লাখ জীবিত জন্মে ১শ’ ৭৬ মায়ের মাতৃত্বকালীন জটিলতায় মৃত্যু হচ্ছে। ২০৩০ সাল নাগাদ দেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করতে হলে এ মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে হবে।

বিস্তারিত দেখুন ভিডিও রিপোর্টে:

FacebookTwitterInstagramPinterestLinkedInGoogle+YoutubeRedditDribbbleBehanceGithubCodePenEmail