চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মহাজগত থেকে আসছে রহস্যজনক বেতার তরঙ্গ!

মহাজগতের বহুদূরের একটি ছায়াপথ থেকে আসা রহস্যজনক সংকেত ধরতে পেরেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। কানাডার একটি টেলিস্কোপে ওই সংকেত ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়, তবে এই সংকেতের অর্থ কোন সূত্র থেকে এসেছে ,তা এখনো বিজ্ঞানীরা বের করতে পারেননি।

এর মধ্যে ১৩টি দ্রুত গতির বিস্ফোরণের মতো বেতার শব্দ রয়েছে, যেটি বারবার ঘুরে ঘুরে আসছে। যেটিকে এফআরবি বলে বিজ্ঞানীরা বর্ণনা করছেন। এই শব্দটি প্রায় দেড় হাজার আলোকবর্ষ দূরের কোন উৎস থেকে আসছে।

এ ধরণের ঘটনা অতীতে আরো একবার ঘটেছে, সেটি আরেকটি টেলিস্কোপের মাধ্যমে জানা গিয়েছিল।

ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইনগ্রিড স্টেয়ারর্স বলছেন, ‘এটা জানার পর আরো একবার এই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, মহাবিশ্বের অন্য কোথাও কিছু রয়েছে।’

এ ধরণের শব্দ আরো পাওয়া গেছে এবং গবেষণার জন্য আরো উৎসের সন্ধান মিললে, আমরা হয়তো এই সৃষ্টি সংক্রান্ত রহস্য বুঝতে শুরু করবো- এটি কোথা থেকে আসছে আর কি কারণে সেটির উৎপন্ন হচ্ছে।”

বিজ্ঞাপন

ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ওকানাগান উপত্যকায় চারটি একশো মিটার লম্বা অ্যান্টেনা নিয়ে শাইমি গবেষণাগারটি অবস্থিত, যেখানে এই সংকেত ধরা পড়েছে। এই গবেষণাগার থেকে প্রতিদিন আকাশে অনুসন্ধান চালানো হয়।

গত বছর এই টেলিস্কোপটি কাজ শুরু করার পর মহাবিশ্বের ১৩টি মহাজাগতিক বিস্ফোরণের শব্দ পেয়েছে, যার মধ্যে একটি কয়েকবার ফিরে ফিরে এসেছে।

আমরা দ্বিতীয় বারের মতো একটি সংকেতের পুনরাবৃত্তি পেয়েছি, দ্বিতীয় সংকেতটি একেবারে প্রথমটির মতোই ছিল বলে জানিয়েছেন ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রীহর্ষ তেন্ডুলকার।

এফআরবি মানে সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ বেতার তরঙ্গ, যা হয়তো মহাবিশ্বের আরেক প্রান্ত থেকে পৃথিবীতে এসে পৌঁছচ্ছে।

এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এরকম ৬০টি একক, দ্রুত গতির বিস্ফোরণের বেতার তরঙ্গ সনাক্ত করতে পেরেছেন, যার মধ্যে দুইটির পুনরাবৃত্তি হয়েছে। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, প্রতিদিন আকাশে এরকম সহস্রাধিক বেতার তরঙ্গ ঘুরে বেড়াচ্ছে।

কী কারণে এরকম বেতার তরঙ্গ তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে অনেক আলোচনা চালু আছে।

এসব ধারণার মধ্যে আছে: শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র নিয়ে কোন নিউট্রন তারকার খুব দ্রুত ঘূর্ণন, দুইটি নিউট্রন তারকার একত্রে মিশে যাওয়া আর অল্প কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, ভিনগ্রহের প্রাণীর মহাকাশযান থেকে আসা তরঙ্গ।