চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মন খারাপের গাড়ির যাত্রি না চালক?

একজন মানুষ ছিলেন। মেধাবী, সৃষ্টিশীল, আবেগী আর খেয়ালি। সুদর্শন, ব্যক্তিত্বের ধরনে আর দশজনের চেয়ে আলাদা। রসবোধ-প্রজ্ঞা-উদারতায় বন্ধুদের মধ্য মনি হয়েও কখনও কখনও সবার মাঝে একা এক মানুষ। কখনও অভিমান আর কখনও আত্মানুসন্ধান। জীবনকে প্রচণ্ড ভালোবাসা, সীমাহীন কৌতূহল নিয়ে জীবনকে দেখা, উপভোগ করা আর জীবন নিয়ে খেলার স্বভাব।

মাহবুবুল হক শাকিল এর শরীরী উপস্থিতি নেই এক বছর হয়ে গেল। ১৯৬৮ সালের ডিসেস্বরে জন্ম নেয়া শাকিল চলে যান ২০১৬’র ৬ ডিসেম্বর। ৪৮ বছরের এক টুকরো জীবন, কিন্তু কী বর্ণাঢ্য!

পৈত্রিক নিবাস ময়মনসিংহে হলেও শাকিলের জন্ম টাঙ্গাইলে। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসহ স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

কলেজ জীবন থেকে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত শাকিল ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরে সিনিযর সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ৯০’র ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। ২০০১ এ অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সেল সিআরআই গঠন হলে শাকিল তা পরিচালনার দায়িত্ব পান।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। চার বছর পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর (মিডিয়া) দায়িত্ব পান। ২০১৪ সাল থেকে অতিরিক্ত সচিব পদ-মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবুল হক শাকিল।

মাহবুবুল হক শাকিল এর পড়ার অভ্যাস ছিলো বহুমাত্রিক। শিল্প-সাহিত্য-সমাজ-সংস্কৃতির সব বিষয়ে তার আগ্রহ ছিলো সমান। দেশি-বিদেশি কত বই যে পড়তেন! আর স্মরণশক্তি ছিলো বিস্ময়কর। দেশ-বিদেশ ভ্রমণও তাকে ঋদ্ধ করেছে।

কবি মাহবুবুল হক শাকিল আজও পাঠকপ্রিয়। তার প্রকাশিত বই ‘খেরোখাতার পাতা থেকে’ এবং ‘মন খারাপের গাড়ি।’

অজানা গন্তব্যের মন খারাপের গাড়িতে স্বজনদের তুলে দিয়ে চলে গেছেন মাবুবুল হক শাকিল। ময়মনসিংহের শান্ত নিরিবিলি ভাটিকাশর কবরস্থানে ঘুমিয়ে আছেন তিনি।

শাকিল নেই, প্রিয়জনদের মনে তবু সেই হাসিমুখ, সেই মিছিলের মুখ, সেই কাব্যে পাওয়া অস্থির-অভিমানী প্রেমিক; পিতা-সন্তান-ভাই-বন্ধু…।