চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক অস্থিরতার জন্য ইমরানকে দায়ী করল বিরোধী দল

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন সৃষ্ট কূটনৈতিক অস্থিরতার জন্য পাকিস্তানের নবগঠিত তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকারকেই দায়ী করছে দেশটির প্রধান বিরোধী দুই দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভারতের সঙ্গে তাড়াহুড়ো করে সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ভারত-পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের জন্য পাকিস্তানের প্রস্তাব ভারত নাকচ করে দেয়। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে চলছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে ইমরান খান ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সংলাপ আবারও শুরু করার আহ্বান জানান। ২০১৫ সালের পর থেকে এই আলোচনা বন্ধ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইমরান চিঠিতে বলেন, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

অবশ্য ভারত এখন সংলাপ পুনরুজ্জীবিত করার কথা ভাবছে না বলে ওই সময় সরকারি সূত্র থেকে জানিয়েছিল এনডিটিভি। ভারত সরকারের ভাষ্য: ‘আলোচনা ও সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না।’

এর সঙ্গেই তাল মিলিয়ে শনিবার ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এখন সময় এসেছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও জম্মু-কাশ্মিরের সন্ত্রাসীদের বর্বরতার উচিত জবাব দেয়ার।

ওই দিনই এর কড়া উত্তর দিয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র। পাকিস্তান আইএসপিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসিফ গফুর পাকিস্তানের দুনিয়া টিভি’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের জন্য তৈরি আছি। কিন্তু পাকিস্তান, এর প্রতিবেশী এবং পুরো অঞ্চলের মানুষদের স্বার্থে শান্তির পথ বেছে নিয়েছি।’

এই পরিস্থিতি তৈরির জন্য ইমরান খান ও তার সরকারকে দায়ী করে পিএমএল-এন এবং পিপিপির নেতারা বলেছেন, ভারতকে এভাবে বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর আগে সরকার যথেষ্ট হোমওয়ার্ক করেনি। এভাবে যথেষ্ট চিন্তাভাবনা ছাড়া তাড়াহুড়ো করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়ে আলোচনার আহ্বান জানানোকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ‘ভুল পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন তারা।

পিএমএল-এন প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরীফ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভারতীয় সেনাপ্রধানের এহেন ‘অন্ধ জাতীয়তাবাদী’ ও ‘আপত্তিকর’ বক্তব্যের দিকে দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, নয়াদিল্লির যে কোনো আগ্রাসন প্রতিহত করার ক্ষমতা পাকিস্তানের আছে।