চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভারতের জিএসপি সুবিধা বাতিলে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কতটুকু?

আগামী ৫ জুন থেকে পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতকে দেয়া অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা (জিএসপি) বাতিল করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী ও পোশাক খাত নিয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন: এতে বাংলাদেশ স্বল্পমেয়াদে লাভবান হতে পারে। কিন্তু এ জন্য বাংলাদেশকে অনেক অপেক্ষা করতে হবে।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: টেক্সটাইলসহ দুই হাজার রকমের পণ্য ভারত থেকে যুক্ররাষ্ট্রে রপ্তানি হয়। প্রায় ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে ভারত। এসব পণ্যে এতদিন জিএসপি সুবিধা পেত। কিন্তু এবার বন্ধ হচ্ছে সেই রাস্তা। তিনি আরও বলেন: ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা বাতিল করলো। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পোশাক খাত কিছুটা লাভবান হতে পারে। তবে সে পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: এর ফলে ভারতের বায়ার (বিদেশি ক্রেতা) যারা, তারা তাদের আত্মবিশ্বাস হারাবেন। জিএসপি সুবিধা থাকুক আর না থাকুক, এতে ভারত থেকে পণ্য নেয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না তা ও দেখতে হবে।

তিনি যোগ করেন: এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছুটা সুবিধা হয়তো পাবে। তবে সেটা দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা না-ও হতে পারে। স্বল্পমেয়াদি হতে পারে।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন: তবে দেখতে হবে ভারতের যে ধরনের পোশাকে জিএসপি সুবিধা পেত সে ধরনের পোশাক বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে কি না। এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এতদিন ভারত এই বিশেষ মর্যাদা পেত। আগামী ৫ জুন থেকে এই সুবিধা বাতিলের ঘোষণা দেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জিএসপি যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া সবচেয়ে পুরোনো এবং বড় বাণিজ্য সুবিধা। এর মাধ্যমে উন্নয়শীল অর্থনীতির দেশগুলোকে বিনা শুল্কে শত শত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢোকার অনুমতি দেয়া হয়।

জিএসপি ব্যবস্থাপনার সুবিধা যে কয়েকটি দেশ পেত, তার মধ্যে ভারতের উপকার হতো সবচেয়ে বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০১৭ সালে সাড়ে ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায় ভারত। কিন্তু এবার সে সুবিধা বন্ধ হলো। ২০১৭ সালে তুরস্ক ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম বৃহত্তম সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ।