চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ব্রিটেন সফরে চ্যালেঞ্জের মুখে মোদি

দেশে বড় অংকের বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে প্রথমবারের মতো ব্রিটেন সফরে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লন্ডনে মোদি ও ক্যামেরন বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতে ৯শ’ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

বিনিয়োগ সম্ভাবনা অনেকটা সফল হলেও ব্রিটেন সফরে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

ভারতে ‘ক্রমবর্ধমান ভয়ের পরিবেশ’ নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা করতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের অন্তত দুইশ’ লেখক। এ ছাড়া মোদির ব্রিটেন সফরের প্রতিবাদে লন্ডনে ব্যাপক বিক্ষোভও হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মোদি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভাষণ দেন। ব্রিটেনের সঙ্গে বেসামরিক পরমাণু চুক্তি হয় ভারতের। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে (ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন) মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ডেভিড ক্যামেরন বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্রিটেনই ভারতের এক নম্বর সহযোগী হতে চলেছে।

বিজ্ঞাপন

ভারতের চলতি অসহিষ্ণুতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোদি বলেন, গণতান্ত্রিক ভারতে সরকার বাকস্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেখানে অসহিষ্ণুতার কোনো স্থান নেই।

সাম্প্রতিক কিছু অসহিষ্ণুতার কথা স্বীকার করে মোদি বলেন, ভারত অসহিষ্ণুতা সহ্য করবে না। ভারতের সংবিধান প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মুক্তির অধিকার দেয়া আছে। ভারতকে গান্ধী ও বুদ্ধের ভূমি হিসেবে উল্লেখ করেন মোদি।

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানে একটি খোলা চিঠিতে বিশ্বের খ্যাতিমান দুইশ’ লেখক-সাহিত্যিক ভারতে লেখক-শিল্পীদের সুরক্ষা ও নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়েও মোদির পদক্ষেপ দাবি করতে ক্যামেরনের প্রতি আহ্বান জানান।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছে সালমান রুশদি, নীল মুখার্জি ও ম্যাগি গিবসনের মতো খ্যাতিমান লেখকরা। লেখকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে চিঠিটি প্রকাশিত হয়েছে।

মোদির তিন দিনের সফরে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রসঙ্গ যাতে তোলা হয়, সে দাবি জানিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আনা একটি প্রস্তাবে অন্তত ৪৬ এমপিও স্বাক্ষর করেছেন।

এ ছাড়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে ‘আওয়াজ নেটওয়ার্কে’র ব্যানারে কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভ করেছে। যেখানে কাশ্মির, নেপালে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীতা করা হয়। আর হিন্দু উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরোধীতা করে মিছিল করে ভারতী বংশীয় শিখ সম্প্রদায়। বিভিন্ন কাশ্মীরি সংগঠনও আজ (শুক্রবার) ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম অভিমুখে মিছিল করবে।