চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘বিদেশী দলগুলোও তো বাংলাদেশে এসে মাথা চুলকায়’

নিজ দেশে বাঘ, বিদেশে বিড়াল! স্টিভ রোডসের কথা মানলে এরপরও বর্তমানে ঠিক অবস্থানেই বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ছে টাইগাররা। আবার ভিন দেশে খেলতে গিয়ে স্বাভাবিক খেলাটাই যেন ভুলে যাচ্ছে পুরো দল।

বিজ্ঞাপন

নিউজিল্যান্ডে চলা বর্তমান সিরিজটাই যার জলজ্যান্ত উদাহরণ। ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর হ্যামিল্টন টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই ক্লান্ত-বিধ্বস্ত এক বাংলাদেশ দলের ছবি। তাতে খোঁচা দিচ্ছে পুরনো এক জিজ্ঞাসা, বাংলাদেশ বিদেশে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার মতো দল হয়ে উঠবে কবে?

পাঁচ দিনের টেস্টে মাত্র দ্বিতীয় দিন পার হয়েছে। ছয় সেশনে নিউজিল্যান্ড এমন অবস্থানে পৌঁছে গেছে, ম্যাচের ফলাফলটা এখনই তাদের দিকে ঝুলে বলে দেয়া যায়। শুরুতে দুই সেশনে বাংলাদেশকে ২৩৪ অলআউট করেছে স্বাগতিকরা। পরে চার সেশনে লিড নিয়ে গেছে ২১৭ রানে। ৯৩ রানে অপরাজিত অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনসহ হাতে ছয় উইকেট অক্ষত। লিডটা আরও কতদূর নিয়ে থামবে কিউইরা সেটাই প্রশ্ন।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা টেস্টটা টেস্টের মতো করে খেলতে পারলে ম্যাচের চিত্র দ্বিতীয় দিনে অন্যরকমও হতে পারত। তামিম ইকবাল স্বপ্নের শুরু এনে দিয়েছিলেন সেঞ্চুরি করে, বাকিরা সেই স্বপ্নকে টেনে নামান মাটিতে। দুর্বলতা জেনেও কিউই পেসারদের পাতা শর্ট বলের ফাঁদে পা দিয়ে আউট হন বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান।

বিজ্ঞাপন

অবস্থা বেগতিক! জয় তো দূরের কথা, ড্রয়ের চিন্তাও এখন মাথাতে আনতে পারছেন না স্টিভ রোডস। টাইগার কোচ দুদিনেই পথ হারানো ম্যাচ কোনরকমে পাঁচদিন পর্যন্ত টানতে পারলেই দেখছেন মন্দের ভালো, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানদের শর্ট বলে মানিয়ে নেয়া শিখতে হবে। তামিম কিন্তু দেখিয়েছে এটা সম্ভব। আমরা ম্যাচটাকে পাঁচদিনে নেয়ার জন্য চেষ্টা করবো।’

দুই দিনেই বাংলাদেশের যা অবস্থা, দেখে বোঝার উপায় নেই এই দলটাই সবশেষ টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। সেটা অবশ্য ঘরের মাঠে। নিজেদের ঘূর্ণি উইকেটকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে হাবুডুবু খাওয়ানো এখন অভ্যাস করে ফেলেছে টাইগাররা। কিন্তু বিরুদ্ধ কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে পারছে না।

রোডস মনে করিয়ে দিলেন, সব দলই এখন নিজ নিজ কন্ডিশনকে কাজে লাগায়। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়। আবার সব দলই অন্য দেশে গিয়ে ঠোকর খায়, বাংলাদেশও আলাদা হতে পারছে না।

‘বাংলাদেশে গিয়ে অনেক দলই এখন জয়ের রাস্তা খুঁজতে যেয়ে মাথা চুলকায়। আর কেবল আমরাই কিন্তু বিদেশে গিয়ে সংগ্রাম করি না। আমাদের নিজস্ব একটা সূত্র আছে, যেটা আছে দেশের মাটিতে খুব ভালো কাজ করে। অন্যেরা কিন্তু সেই সূত্র না বুঝেও বিপদে পড়ে।’

ঘরে ভালো, আবার বিদেশের মাটিতেও ভালো খেলা যায়, তার সবশেষ উদাহরণ শ্রীলঙ্কা। গত অক্টোবরের পর তিন ফরম্যাটের একটি ম্যাচও জিততে না পারা লঙ্কানরা প্রথম এশিয়ান দলে হিসেবে টেস্ট সিরিজে সাউথ আফ্রিকাকে তাদের মাটিতেই হোয়াইটওয়াশ করেছে। কদিন আগে প্রথম এশিয়ান দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ জিতেছে ভারত। লর্ডসে টেস্ট জেতার কীর্তি আছে পাকিস্তানের। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা এখনো হারিয়ে যায়নি বাংলাদেশের। এখন কেবল টেস্টটা টেস্টের মতো করে খেলতে শেখা!