চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিজিএমইএ বলছে, পোশাকের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে

গত ৪ বছরে তৈরি পোশাক খাতে আগের চেয়ে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি করেছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে আন্তর্জাতিক অ্যাপারেল ফাউন্ডেশন (আইএএফ) নেতাদের সাথে বৈঠক করেন পোশাক ব্যবসায়ীরা। এরপর সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানান বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

বৈঠকে আইএএফ’র সভাপতি বেকি এবং মহাসচিব মেথিজ ক্রিটি অংশ নেন। পোশাক শিল্প বিষয়ে বিজিএমইএর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে করতে দুদিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন তারা।

বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, তৈরি পোশাক খাতে প্রতিবছর উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। গত ৪ বছরেই বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। এছাড়া সম্প্রতি শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো হয়েছে ৫১ শতাংশ; যা ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার কথা রয়েছে। ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত মজুরি বাড়ানো হয়েছে ৩৮১ শতাংশ। এর ফলে এই খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে অনেক বেশি।

পোশাক খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গত সাড়ে ৫ বছরে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পোশাক কারখানাগুলো ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু দু:খের বিষয় হলো- ক্রেতারা পণ্যের দাম না বাড়িয়ে বরং কমিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, একটি টেকসই শিল্প প্রতিষ্ঠা করতে পণ্যের টেকসই মূল্যের বিকল্প নেই। এই বিষয়টি পশ্চিমা ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরতে এবং তাঁদের মনযোগ আকর্ষন করতে আইএএফ ও বিজিএমইএ একসাথে কাজ করবে।

ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ভাবমূর্তি উজ্জল করতে বিজিএমইএ অনেক উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে এই পোশাক ব্যবসায়ী বলেন, সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের ভাবমূর্তিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা ফিরিয়ে আনার জন্য গত সাড়ে ৫ বছরে পোশাক খাতে ব্যাপক অগ্রগতি আনা হয়েছে।

কিন্তু এরপরও পশ্চিমা মিডিয়াগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক খাতের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয় না। আর এই সুযোগে কিছু কিছু এনজিও ক্রেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উভয় পক্ষের বৈঠকের বিষয়ে বিজিএমইএর সভাপতি জানান, আইএএফ’র সভাপতি বাংলাদেশের পোশাক কারখানার অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং তিনি মনে করেন, এই শিল্পে বাংলাদেশের অগ্রগতি পশ্চিমা বিশ্বে যথাযথভাবে প্রচার করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বিজিএমইএ ও আইএএফ একসাথে কাজ করবে। বিশেষ করে ইউরোপ ও ঢাকায় আলাদা অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে পোশাক শিল্পের অগ্রগতিগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। ২০২০ সালে বাংলাদেশে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করারে বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে আইএফ।

জিএসপির বিষয়ে সিদ্দিকুর জানান, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে, ফলে জিএসপি প্লাস বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এছাড়াও ব্রেক্সিটের কারণে যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারন যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। এসব বিষয়ে আইএএফ তথ্য, পরামর্শ ও অন্যান্য সহযোগিতা দিবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মঈনউদ্দিন আহমেদ (মিন্টু), সহ-সভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাছির প্রমুখ।