চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিএসটিআইকে সত্যিই আর ম্যানেজ করা যাবে না?

দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলোর খাদ্যপণ্যে ভেজালের খবর নিয়ে উচ্চ আদালত থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যখন তুমুল আলোচনা, ঠিক সেই সময় সাহসী এক উচ্চারণ করলেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। সোমবার এক অনুষ্ঠানে জাতিকে অভয় দিয়ে তিনি বললেন, নিম্নমানের বা ভোজাল পণ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) ‘ম্যানেজ’ করে পার পাওয়ার দিন এখন আর নেই।’

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর তেজগাঁয়ের ওই অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেছেন, ‘বিএসটিআইয়ের কার্যক্রম এরই মধ্যে জনগণের বিবেককে নাড়া দিয়েছে, সাধারণ মানুষরে অনেকেই জানতো না নিম্নমানের সামগ্রীতে এতো এতো ভেজাল রয়েছে, তারা কিন্তু এখন নড়েচড়ে বসেছে।’

বিজ্ঞাপন

এটা ঠিক, উচ্চ আদালতের নির্দেশে বিএসটিআইয়ের মানের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ বিভিন্ন কোম্পানির ৫২টি খাদ্যপণ্য বিক্রি ও উৎপাদন বন্ধের বিষয়টি অনেকেরই চোখ খুলে দিয়েছে। যেসব ভোক্তা চোখ বন্ধ করে ওইসব কোম্পানির ওপর আস্থা রেখে পণ্য কিনতেন, এখন তারা সংশয় আর শঙ্কায় বাছ-বিচার করছেন।

তবে আমরা অনেকেই জানি, শিল্পমন্ত্রী আজ যে প্রতিষ্ঠানটির কথা গর্ব করে বলছেন; সেই প্রতিষ্ঠানেরই কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারির সঙ্গে যোগসাজশে বছরের পর বছর ধরে কিছু কোম্পানি তাদের মানহীন-ভেজাল পণ্য মানুষের পেটে ঢুকিয়ে দিয়েছে। তাদেরকে ম্যানেজ করা গিয়েছে বলে, এই কুকর্মটি এত এত বছর ধরে চলেছে, হয়তো চলছেও কিংবা ভবিষ্যতেও চলবে।

প্রকৃত বিষয় হলো, জাতীয় মান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএসটিআইকে তার প্রকৃত ভূমিকা এবং দায়িত্ব পালন করতেই হবে। তা না হলে জাতির মুক্তি নেই। কেননা হঠাৎ হঠাৎ উচ্চ আদালতের নির্দেশে দু’একটি ক্ষেত্রে ‘সঠিক দায়িত্ব পালন’ করা ভেজাল বন্ধে কোনো স্থায়ী সমাধান না। নৈতিকতা, পেশাগত দক্ষতা আর সততা থাকলেই নিম্নমানের ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে আসল হাতিয়ার।

আমরা মনে করি, বিএসটিআই নিজে ঠিক না হলে, ভেজালের সঙ্গে জড়িত কোম্পানিকে ঠিক করা সম্ভব না। কেননা দিন শেষে তাদের কাছে মুনাফাই আসল কথা, তা যে কোনো উপায়েই হোক না কেন।