চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিএনপিকেও সহিংসতা এড়াতে হবে

নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পর থেকে নানা ধরনের সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় বিব্রত বোধ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেছেন: নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই সহিংসতায় নোয়াখালীতে একজন নিহত এবং বিএনপি মহাসচিবের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় নির্বাচন কমিশন বিব্রত এবং মর্মাহত।

তিনি বলেছেন: নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা, সহিংসতা এবং রক্তপাত বন্ধে সব রাজনৈতিক দলগুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে। এমনকি রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে আরও ধৈর্য্যশীল হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই উপলব্ধি এবং সকল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এমন উদাত্ত আহ্বান অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এমন সহিংসতার প্রেক্ষাপটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই আহ্বান কতোটা কাজে দেবে? আদৌ কি কোনো কাজে দেবে এমন অসহায় আহ্বান? রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মী, সমর্থকরা কি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাধু-সন্নাসী হয়ে যাবে?

এসব প্রশ্নের একমাত্র ‘না’। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই আহ্বানে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মী, সমর্থকরা কোনো সাড়া দেবে না। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা এ আহ্বানে পাত্তা দেয়নি, দেবে বলেও মনে হয় না।

নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতা

তাহলে এখন করণীয় কী? তবে কি রাজনৈতিক দলগুলোর এই না মানার প্রবণতার ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে? না, এমনটা কখনোই কাম্য নয়। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে শুধু বিব্রত হলেই চলবে না, ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষায় আসলে অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে। সিইসি’র সাথে সাক্ষাত শেষে এমনটাই অভিযোগ করেছেন বিএনপির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান।

বিএনপি অবশ্য শুরু থেকেই অভিযোগ কিংবা পাল্টা অভিযোগের পন্থাকেই বেছে নিয়েছে ‘রাজনীতি’ হিসেবে। তারা এসব সহিংসতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় আওয়ামী লীগের নেতকর্মী, সমর্থকরাই নিহত হয়েছেন। বিএনপির কেউ এখানে হতাহত হয়নি। বিএনপি বা অন্য দলের কেউ নিহত হোক তা না চাইলেও বিএনপি যে সহিংসতায় জড়িয়ে যাচ্ছে সেটাও তাদের বিবেচনায় থাকা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে কথাগুলো বলেছেন তা অবশ্যই যৌক্তিক। তার ভাষায় বলতে গেলে- নির্বাচনী সহিংসতা শুধু এক দলকে বর্জন করলেই হবে না, বরং সবাইকে এ বিষয়ে ধৈর্যশীল হতে হবে। ক্ষমতাসীন দলকে এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টসহ সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে ভোটযুদ্ধ অস্ত্র বা পেশি শক্তির যুদ্ধ নয়। এ যুদ্ধ হচ্ছে জনগণের মন জয় করার যুদ্ধ।

এসব নীতিকথায় যদি রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা বিশ্বাসী না হয়, তাহলে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের কার্যকর নির্দেশনা দিতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জন্য এটা অপরিহার্য।

মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা

প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চাইছেন তাও উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমের খবরে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিইসি বলছেন: আমি চেষ্টা করছি। কিন্তু পুলিশ বলছে আগে থেকে যাদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে, তাদের আমরা ধরছি। পুলিশ বলছে, তাদের নামে সুনির্দিষ্ট কেইস আছে। সেই সুনির্দিষ্ট কেইস কী সেটা আমি কিভাবে জানব। আমি চেষ্টা করছি, আমি চেষ্টা করব।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ, নির্বাচনের মাঠে কেউ যেন বাড়তি সুবিধা না পায়, এটা নির্বাচন কমিশনকেই নিশ্চিত করতে হবে। আবার একইভাবে রাজনৈতিক দলগুলোও জনগণের ওপর আস্থার বদলে পেশি শক্তির ব্যবহারের দিকে মনোযোগী হবে না বলেই আশা করি। তাহলেই অনির্বাচিত সরকারের বদলে দলীয় সরকারের অধীনে হওয়া একাদশ জাতীয় নির্বাচন ইতিহাসে ইতিবাচকভাবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

এর বিপরীতে এবারকার নির্বাচন ইতিহাসের কালো অধ্যায় হয়ে থাকুক তা নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং জনগণ কারোরই কাম্য হতে পারে না।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)