চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাস টার্মিনালে এখন গন্তব্যে ফেরা মানুষের অপেক্ষা

বিনা নোটিশের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর আবারও ঘুরছে বাসের চাকা। বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে রাস্তার দুপাশে দাঁড় করানো দূরপাল্লার বাসগুলো ধুয়ে-মুছে রাস্তায় নামানোর ব্যস্ততা চলছে। ইতোমধ্যে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রী নিয়ে রওনা শুরু করেছে বেশ কিছু দূরপাল্লারবাস।

একইসঙ্গে সড়কে লোকাল বাসের সংখ্যাও বাড়ছে বিকাল ৩ টার পর থেকে। রাজধানীর মহাখালী রেল ক্রসিং এলাকায় লোকাল বাসের জন্য অপেক্ষা করা যাত্রীদের ভিড় এখন পাতলা হতে দেখা গেছে।

বাস টার্মিনালগুলোতে বসে থাকা দূরের যাত্রীরা আছেন স্বল্প সময়ের অপেক্ষায়। গতকালের মতো আর নেই দুশ্চিন্তা। দুদিনের ভোগান্তি ভুলে এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন বলে আনন্দিত তারা। ‘মা,টিকেট পেয়েছি,একটু পরেই বাস ছাড়বে’, ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে এনা পরিবহনের কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইলফোনে মায়ের দুশ্চিন্তা দূর করছিলেন সজল।

চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘একটি কনফারেন্সে যোগ দিতে ফেনী থেকে ঢাকায় এসেছিলাম। গতকাল ফেরার কথা থাকলেও হঠাৎ জানলাম বাস চলছে না। এভাবে কোনো কিছু না জানিয়ে এরকম সিদ্ধান্তে বাধ্য হয়েই ঢাকায় থাকতে হলো। এখন ফেরার টিকেট পেয়েছি, বাস একটু পরই ছাড়বে ভেবেই ভালো লাগছে।’

‘বাচ্চাটা আমাকে না পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করেছে সে। কাজে এসে এভাবে বিপদে পড়বো বুঝিনি’, বাসে উঠতে উঠতে এই কথাগুলো বললেন বগুড়া থেকে ঢাকায় এসে আটকে পড়া এনজিও কর্মী রিতা বেগম।

 

চালকের আসনে বসে চাবি ঘোরাতে প্রস্তুত জলসিড়ি পরিবহনের চালক মো.শামসু। মালিকপক্ষ এবং পরিবহন নেতাদের সিদ্ধান্তে তাকেও দুইদিন শূন্য পকেটে বসে থাকতে হয়েছে। তাই ইঞ্জিন চালু করার সুযোগ পেয়ে তিনিও স্বস্তি পাচ্ছেন।

চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘আমাদের বেতন দেয়া হয় দিন হিসেবে। একদিন গাড়ি চালালে পাই ১ হাজার কিংবা ১৫’শ টাকা। ধর্মঘটে দুই দিন গাড়ি বসে থাকায় এই দুই দিনের টাকা আমি পাবো না।’

নিজেদের ধর্মঘটে নিজে ভুক্তভোগী এই চালক স্বীকার করলেন তাদের জন্য অসংখ্য সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছে।চিকিৎসাসহ অন্যান্য জরুরি প্রয়োজন মেটাতে স্বল্প আয়ের মানুষের সীমাহীন বিড়ম্বনার কথাও তিনি মানেন।

তবে শ্রমিক সংগঠনের সিদ্ধান্তে বাস না চালানো এই চালক বলেন, ‘ দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। সাইকেল-রিকশাতেও তো দুর্ঘটনা হয়। কিন্তু তাই বলে জেল-ফাঁসি এসব সরকারের বাড়াবাড়ি।’

ছবি: ওবায়দুল হক তুহিন