চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাজেট যেন মধ্যবিত্তের চাপের কারণ না হয়

বাজেটে উচ্চ আয়ের মানুষকে অনেক বেশি সুযোগ দেয়া হয়েছে। অল্প আয়ের মানুষের জন্য প্রান্তিকভাবে একধরনের একটা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত, বিশেষ করে বিকাশমান মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত এটা থেকে খুব বেশি উপকৃত হবে না।

বিজ্ঞাপন

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পরদিন শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এছাড়া দেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার সবচেয়ে বড় এই বাজেট বাস্তবায়নেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

তাই বাজেট বাস্তবায়নে মূল্যনীতি এবং ভর্তুকির মধ্যে সামঞ্জস্যের আহ্বান জানিয়েছেন সিপিডি’র বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন: ভর্তুকির কারণে গ্যাস ও বিদ্যুতের খুচরা মূল্য নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন। না হলে মধ্যবিত্তের ওপর চাপ পড়বে।

বিজ্ঞাপন

সিপিডি তাদের পর্যবেক্ষণে আরও বলছে: নতুন বাজেটে কৃষককে ধানের লোকসান বাবদ প্রণোদনা দেয়া হয়নি। সাধারণ মানুষের করমুক্ত আয়সীমাও বাড়ানো হয়নি। কিন্তু সম্পদের সারচার্জের সীমায় ছাড় দেওয়া হয়েছে। ধনীরা ফ্ল্যাট কিনতেও কর ছাড় পেয়েছে। পোশাক রপ্তানিকারকেরাও নগদ ভর্তুকি পেয়েছে।

সংগঠনটি মনে করছে, ‘উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে যাওয়া নির্ভর করছে বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের জন্য আমরা কী করতে পারব, তার ওপর। বিকাশমান মধ্যবিত্তই হলো চালিকাশক্তি। চিন্তা–চেতনা, উপার্জন, বুদ্ধিমত্তা—সব ক্ষেত্রে এটি হলো চালিকা শক্তি। সেই চালিকা শক্তিকে যদি বাদ দেওয়া হয়, তাহলে তা ইশতেহারের চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’

বাজেটে সামগ্রিকভাবে গরিব ও উচ্চবিত্তকে বেশি মূল্যায়ন করা হয়েছে। আর মধ্যবিত্তদের মূল্যায়ন তেমন নেই। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কণ্ঠস্বর না থাকায় বিকাশমান অর্থনীতিতে তাদের মূল্যায়ন কম হচ্ছে।

তবে এটা ঠিক যে, অর্থমন্ত্রী এবার অনেক লক্ষ্যের ক্ষেত্রেই বাস্তবমুখী হয়েছেন। ফলে আগের দু’য়েক বছরের তুলনায় রাজস্ব ও বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা কম। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিষয়ে কঠোর বার্তা, কর–বহির্ভূত আয় বাড়ানোর উদ্যোগ, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে উন্নয়ন ব্যয় ৭ শতাংশ রাখা, শত শত নতুন প্রকল্প না নেওয়াসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। এছাড়া পুঁজিবাজারে নেওয়া পদক্ষেপসহ ভ্যাট আইনে জরুরি সেবা ও পণ্যে ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও ঠিকই আছে বলে উল্লেখ করেন সিপিডি’র এই বিশেষ ফেলো।

আমরা আশা করি, এবারের বাজেট সাধারণ মানুষের জন্য কষ্ট বয়ে না এনে দেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবে।