চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাচ্চা পোলাপানের কাছে বই বেচা যায় নাকি!

শিশুদের কাছে বই বিক্রি করাকে ব্রিবতকর বলেই মনে করেন পাললিক সৌরভের প্রধান
নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাতিঘর সাংস্কৃতিক বিদ্যালয়ের পরিচালক তামান্না
সেতু।

স্কুলের বইমেলায় পাললিক সৌরভের স্টলে শিশুদের কাছে বই বিক্রি নিয়ে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

তামান্না সেতু ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘বই বিক্রির ব্যাবসা হয় না, ধুর! বই বিক্রির জিনিশ হবে কেন? দেশে হাজার হাজার লাইব্রেরি থাকবে, যার যে বই লাগবে নেবে, পড়বে। তারওপর যদি আবার সেই বই বিক্রি করতে হয় শিশুদের কাছে, এর নাম তখন হয় মড়ার ওপর খাড়ার ঘা!

ছোট ছোট বাচ্চারা আসে স্কুলের বই মেলায়, আমাদের পাললিক সৌরভের স্টলে। হাতের মুঠোয় দশ টাকার দু চারটা নোট। বইগুলো দেখে চোখ বড় করে। তারপর মুখটা আমসি করে জিজ্ঞেস করে, “ত্রিশ টাকার ভেতর কোন বই আছে জাফর ইকবালের?’

আমি বিব্রত ভংগীতে এদিক ওদিক তাকাই। তারপর, কোন কিছু না ভেবেই বলি, ‘ কোন বইটা নেবে মা? এখানের সব বইয়ের দাম ত্রিশ টাকা’ মুহুর্তে তাদের চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আমাদের ১০০ বা ১৫০ টাকা বিক্রয় মুল্যের বই থেকে তারা বই বেছে নেয়।

আমি শোয়েব এমনকি আমাদের স্টাফ ছেলেটাও হাসি হাসি মুখে একে অপরের দিকে তাকিয়ে বুঝ দেয়া গলায় একে ওপরকে বলি ‘সব যায়গায় ব্যাবসা করার দরকার নাই, কি বল”।

খুকিদের চাওয়া সেখানেও শেষ হয় না। তারা অন্য বই তুলে নিয়ে বলে “এইটা তো ১০ পাতার বই, তুমি পড়ে শুনিয়ে দাও আন্টি”। আমি বেচা বিক্রি রেখে বই হাতে একটু নির্জনে যাই। গল্প পড়ে শোনানোর আনন্দ বই বেচার তুলনায় হাজারগুন বেশি। আর ব্যাবসা! সে করা যাবে অন্য কোথাও কি বলেন?

লস খেয়ে চাংগে উঠে বাড়ি আসার পথে অনেক্ষন চুপ থেকে আমাদের ভেতর থেকে কেউ একজন আচমকা বলে ওঠে, “ধুত্তারি, ব্যাবসা বাণিজ্য আমাদের দিয়ে হবে না। বাচ্চা পোলাপানের কাছে বই বেচা যায় নাকি! আজাইরা ব্যাবসা”

FacebookTwitterInstagramPinterestLinkedInGoogle+YoutubeRedditDribbbleBehanceGithubCodePenEmail