চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাংলা ভাষায় নতুন শব্দ: ‘গর্বোধ’ এবং ‘আর্বোধ’

এই শব্দটির প্রকৃত জনক একজন বাক্যবাগীশ রাজনীতিওয়ালা। অবশ্য যদি সেনাদূর্গের কতিপয় জেনারেল ক্ষমতাদ হাতে না নিতে পারতেন তাহলে এমন ‘মার্শাল-ব্রিড মহা-হাইব্রিড’ রাজনীতিবিদ গণ্ডায়-গণ্ডায় দেখার সৌভাগ্য থেকে বঙ্গদেশের পূর্ব প্রান্তে আমরা বঞ্চিত থাকতাম। আজ বেশি কথা না ফেঁদে বলেই ফেলি এই বাজাদ-রত্নের নাম । তা ‘বাজাদ’ মানে কী? না, বলেই ফেলি। ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ সংক্ষেপে বাজাদ। ক’দিন বাদেই যার জাতীয় কাউন্সিল হবার কথা। বাগীশ সাহেবের নামটাতো জম্পেশ— গয়েশ্বর রায়।

বিজ্ঞাপন

দলীয় কাউন্সিল আসলেই এদেশে দেখা যায় মূল কান্ডারী-ভান্ডারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কিছু বাক্য লম্ফঝম্ফ চলে। আজকের আলোচ্য দলটিতে ‘মহারাণী’ আছেন, আর আছেন ‘যুবরাজ’। যে সেনাদূর্গের ঔরসে এই দলটির জন্ম, সেই দূর্গের কয়েকজন বড় বড় রুই-কাতল-চিতল জেনারেল ঐ উদীয়মান ‘যুবরাজ’ এর রাজনীতিতে আপত্তি বোধ করেননি। বরং বিপত্তি বোধ করেছেন ‘যুবরাজ’ এর ‘উদ্ধত্য’ আর ‘বেয়াদবি’ নামক ব্যবহারিক অলংকার-এর জন্য।

২০০৬ সনে বাজাদ পুনঃক্ষমতাসীন হলে সেনাদূর্গ আর ব্যবসায়ী মহলের যেসব ওচাঁ ওচাঁ ব্যক্তিবর্গ বিপন্ন বোধ করছিলেন, তাদের প্রয়োজনেই দেশে নেমে এলো এক/এগারো। মহারাণীর তখনও বেঁচে থাকা খোদ ভ্রাতা ছিলেন এক এগারোর জরুরি জেনারেলদের প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের একজন, ‘বেয়াদ্দপ ভাইগনাকে’ শিক্ষা প্রদানের কাজ হাতে নেওয়া বড়ই জরুরি হয়ে পড়েছিল মামুজান ইস্কান্দার মিয়ার। তিনি এখন মরহুম, মহান আল্লাহতায়ালা তার বেহেশত নসিব করুন।

তা সেই জেনারেলবর্গ আর মামুজানের অ্যাকশনে এখনও মুচলেকা-যুবরাজ লন্ডনে দিবস-রজনী গুজরান করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে খোদ লন্ডনে থেকে যেসব বাক্য এবং অস্ত্রের আর্টিলারি গোলা মেরে বাংলাদেশ কাঁপিয়ে দিয়েছেন ২০১৩-১৪-১৫ তে, তাতে ভবিষ্যতে না আবার কী করে বসেন, এমন আশংকা অনেকের মনেই এখনও।

অমন মহাবীর যুবরাজই লন্ডনে বসে বাজাদ-কাউন্সিলের সকল খুঁটিনাটি, এটা সেটা এবং নেতৃত্ব ঠিকঠাক করে দিচ্ছেন নিত্য। তিনি যা বলবেন, মা মহারাণী সহ সকলেই বুঝি তা মানতে বাধ্য। অতএব আজকের শুরুতেই যে বাক্যবাগীশ বাজাদ- নেতার কথা উল্লেখ করলাম, তিনি সহ অনেকেই যুবরাজের মন, নয়ন এবং হৃদপিন্ডকে একসঙ্গে মহাতুষ্টি দেবার জন্য হন্যে হয়ে পাগল পারা।

অবশ্য যুবরাজকে এমনি তৈল-বন্দনায় হাবুডুব খাইয়ে দেবার দৃশ্যাবলী এইদেশে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম কয়েকবছরে এমনভাবে জ্বলজ্বল করে উঠেছিলো যা ছিল অভাবনীয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে স্বনামধন্য উপাচার্য-অধ্যাপক মহোদয়েরা, উজির-নাজির-আমলা পাল, রাষ্ট্রের প্রহরী, কোতোয়াল, সিপাহশালারেরা যুবরাজের চারপাশে বিলিয়ন মৌমাছির গুনগুন গুঞ্জন, তোষামোদীর অ্যাক্রোবেটিকে সব গুলজার করে দিয়েছিলো।

ওই কাজটিই এখন নানাভাবে নানাজন রিমোট কন্ট্রোলে, লন্ডনে আশেপাশে ঘুর-ফুর করে চালিয়ে যাচ্ছে। শুনেছি একবার বাজাদ-এর বর্তমান ভাপ্রা মহাসচিবও অশেষ কোশেশ করেও যুবরাজের মহান-মূল্যবান সাক্ষাৎটি পাননি।অবশ্য ক্ষমতাবানদের মন ভজানোর বিষয়টি সেই রাজা-মহারাজ-জমিদারদের যুগ থেকেই চলে আসছে।

যে কোনো অফিস আদালতেও এমন দৃশ্য খুঁজে পাবেন যথা তথা। অনেক যুদ্ধ করে, নানা কৌশলে যখন বর্তমান প্রধান ক্ষমতাময়ী ১৯৯৬ সনে ক্ষমতায় এলেন, তখন বুদ্ধিমান-ধুরন্ধর-চাটুবিশারদরা অনুসন্ধান-গবেষণা করে দেখলো, নেত্রী বর্বর-দানবের হাতে নিহত ছোটভাই রাসেলের জন্য মূহ্যমান থাকেন। অতএব রাজধানী থেকে গাঁও-গেরাম পর্যন্ত অগণিত শেখ রাসেল স্মৃতিরক্ষার বিভিন্ন প্রকারের সংগঠনে দেশ গিজগিজ হয়ে গেলো। সেইবার গড়ে উঠলো শেখ রাসেল ফুটবল দল।

আর ২০০৮ সনে নেত্রী পুণঃক্ষমতায় আসার পর ফের অনুসন্ধান। এইবার ধানমন্ডির সাধারণ জনগণের খেলার জায়গাটি দখল করার উপলক্ষ হলো ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ এ নিহত শেখ জামালের স্মৃতি-দুর্বলতা ব্যবহার করে। আর চারিদিকে শুরু হলো বঙ্গমাতা বন্দনা। ওরা জানে নেত্রীর অন্তঃকরণে কোন কোন আবেগ প্রধানভাবে বিরাজমান কখন কখন!

আমাদের এরশাদ-রওশন দম্পতির বিশাল হাহাকার ছিলো পিতা এবং মাতা হবার ক্ষেত্রে সফল হতে না পারা। চাটুকার-মোসাহেবরা সুযোগ পেলেই প্রথমেই দু’জনকে আব্বা-আব্বা-আম্মা-আম্মা করে পদপ্রান্তে লুটিয়ে পড়ার সার্কাস প্রদর্শনী গড়ে তুললো। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জানি প্রেসিডেন্ট থাকার সময় এরশাদ যখন স্বীয় জননী হারালেন, তখন রংপুরে সারাদেশের এরশাদের নিকটজনেরা ‘শোক জর্জর’ অবস্থায় ভিড় জমালো। এরশাদের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী কাজী সাহেবও সেই শোকার্তদের ছিলেন একজন। ‘চিনি কাজী’ শোকের অশ্রু-লবণ বইয়ে দিলেন অঝোরে।

বিজ্ঞাপন

এরশাদ তখন ছোটভাই কাদেরকে কাছে ডেকে বললেন, দ্যাখ দ্যাখ, মা মরেছে আমাদের, আর আমার প্রধানমন্ত্রী বইয়ে দিয়েছেন অশ্রুর লহরী। ফিরে আসি আজকের মূল আলোচ্য বাক্যবাগীশ বাজাদ-নেতা প্রসঙ্গে। তিনি জানেন, যুবরাজের সর্বশেষ চিন্তা-কৌশল ও প্রচারণা প্রকরণ কী? যুবরাজ এবং রাণীমাতা বিগত একবছর ধরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির ইতিহাস ভিত্তির উপর নবযোশে জোরেশোরে আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছেন। এর মূল উপজীব্য কী? ‘ শেখ মুজিব’ নামের লোকটি কিছুইনা। উনি স্বাধীনতা চাননি। উনি পাকিস্তানের কাছে আত্মসমর্পন করেছেন।
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন যুবরাজের পিতা জিয়াউর রহমান। প্রকৃত ইতিহাসের ভিত্তিমূলে একটির পর একটি গোলানিক্ষেপের মর্মকথা হলো, পাকিস্তানের প্রয়োজন বাংলাদেশকে ‘অবৈধ’ বানিয়ে দেয়া। ওরা একাত্তরের হার আজো মেনে নিতে পারেনি। এখন বাংলাদেশের বড় একটি দল দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসকেই বিতর্কিত করে তোলো। বাংলাদেশের মহানায়ককে বানিয়ে দাও ভিলেন। মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যাকে বিতর্কিত করে দাও বাংলাদেশের ভিতর থেকে কথা তুলেই।গণহত্যা হচ্ছে ভুঁয়া ব্যাপার। পরচারণার গেরিলা যুদ্ধ চালাও। আচমকা এক একটা গোলা ছুঁড়ে সব প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক বিষয়কে এলোমেলো করে দাও।

এই কৌশলের বর্তমান কেন্দ্রভূমি পাকিস্তানের ইসলামাবাদ। প্রচারণার এই গেরিলাযুদ্ধের ছক দীর্ঘমেয়াদী, উদ্দেশ্য ভয়ংকর নষ্টামি, ভ্রষ্টামির। আমাদের আজকের আলোচ্য বাজাদ-বাক্যবাগীশের মূল লক্ষ্য নাকি আসন্ন দলীয় কাউন্সিলে মহাসচিব, নিদেন পক্ষে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হওয়া। অতএব তিনিও কোন ইস্যুতে অ্যাম্বুশের মাধ্যমে গোলা ছুঁড়বেন, সেটা নিয়ে বিস্তর ভাবলেন। চারপাশের মগজী অনুচরদের পরামর্শ শুনে টুনে অবশেষে বলে উঠলেন, ইউরেকা, ইউরেকা, আমি পেয়ে গেছি। ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী’দের ব্যাপারটিতে হানো আঘাত জোর সে!

অতএব উনি পৃথিবীর সবটুকু পাষন্ডতা জড়ো করে বলে উঠলেন, যেসব বুদ্ধিজীবীরা বিপদ দেখেও দেশে ছিলেন, তারা ‘নির্বোধ’। আর তাই নির্বোধের মতোই তারা প্রাণ দিয়েছে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে প্রতি বছর ১৪ ডিসেম্বর যেসব হাজার হাজার মানুষেরা বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে যায়, তারাও ‘নির্বোধ’!স্বাধীনতার এতো বছর পর এমন কথা বলতে পারে মুক্তিযুদ্ধের তথাকথিত ঘোষকের দলের একজন প্রথম সারির নেতা, এমনটা ভাবতেই পারিনি। ঘটনাক্রমে এই ‘বোধবুদ্ধিসম্পন্ন’ কথাবাগীশ লোকটিরসঙ্গে একটা সময় কিছু কাজ করার ‘কুযোগ’ হয়েছিলো।

১৯৯০ সনে এরশাদ পতনকালে যে ‘যুব সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়েছিলো, তাতে ভায়া এসেছিলেন বাজাদ-গোষ্ঠীর যুব অংশ থেকে, এই অক্ষর উৎপাদকও ছিলো যুব ইউনিয়নের পক্ষ থেকে অন্যতম।
তখন বুলিবিশারদ ভ্রাতাটি একদিন বলেছিলেন, আমাদের দলটিকে বুঝতে পারবেন না আপনারা, আমরা কখনো রাজাকার-আলবদরকে ধ্বংসের আওয়াজ তুলবো,ফের কখনো বা ওদের সঙ্গে জোটও করে ফেলবো। তার কথায় দ্বিতীয় অংশটি এতোই ফলে গিয়েছিলো যে ঐ যুদ্ধাপরাধীদের সাথে ওদের জোট-ঘোঁট- নোটের খেল অবিরাম চলছেই আর চলছেই।

বুলিবাজ এই নেতাকে মনে হলো হঠাৎ গজিয়ে ওঠা একজন একজন কেউ। ষাটের দশক-সত্তরের দশকে ছাত্র-যুব কোন সংগঠনেই ওর আওয়াজ তেমন দেখিনি। কিন্তু একজন জেনারেল, তার সেনাদূর্গ, তার সেনাগোয়েন্দারা দেশজুড়ে এমন অনেক রত্ন জোগার করেই বাজাদ এবং তার ছাত্র-যুব-শ্রমিক সংগঠন গড়ে তুলেছিলো। পরে জানলামমএই রত্নটি কেরানীগঞ্জের, বুড়িগঙ্গার ওপারের।

বাজাদ দলের লোকজনের ভিতর এই লোকটির বেশ জনপ্রিয়তা। বিশেষত: তার বক্তৃতার জিহ্বা-ধার নাকি অতুলনীয়। বিশেষত: প্রতিপক্ষের নেত্রী সম্পর্কে বিষোদগারে সে নাকি তুখোড়। অতএব বাজাদ ভুবনে সে ধন্যি, ধন্যি। তবুও ঐ সমর্থকদের ভাবনা নাকি এরূপ: ‘দাদা দারুণ বলেন, দুশমন নেত্রীকে বক্তৃতায় ধ্বসিয়ে দেন। কিন্তু ভোটের সময় কিন্তু ভোটটা ঐ নৌকা মার্কাকেই দেন। বুঝেনইতো দাদা যে, ধর্ম বলে একটা ব্যাপার আছে না!’ কী করবেন বেচারা বাক্যবাগীশ বাজাদ নেতা। ঐ দলের অস্থি-মজ্জা-গঠন-গাঠন যে অমনই। সাম্প্রদায়িকতার রসায়নে দলটির সবটুকুই যে ভরভরন্ত।

এইবার বুলিবাগীশ বাজাদ নেতাটির ‘নির্বোধ’ কথাটির সূত্র ধরে একটু অগ্রসর হই। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভাঙ্গলেই যে ভাষাসংগ্রামীদের প্রাণ খোয়া যাবার বিপদসংকেত ছিলো, সেটা জেনেও যারা ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে রাজপথে গেলো, তারা কী ছিলো বলুন! ঢাকা মেডিকেলের কাছে বর্তমান শহীদ মিনারের পাশে ছিন্নভিন্ন মিছিলের যে বরকত তরুণটি দাঁড়িয়েছিল, আচানক শাসকের বুলেট যাঁর শরীর ভেদ করে প্রাণ কেড়ে নিলো তিনি কী ছিলেন?

এবার হিসাবে বসি। ৫২ থেকে ৭১ পর্যন্ত যে লাখ লাখ বাঙালি নিজেদের অধিকার আর ভূমি রক্ষায় হতাহত হলো, তারা? কারাগারে যাদের জীবন যৌবন গেলো তারা ? যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা? সিভিলিয়ান বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি হয়েও একপ্রকার নিরাপত্তাহীন অবস্থায় সপরিবারে প্রাণ দিলেন সেটা নিয়ে কী বলবেন হে কথাজাদুকর সেটা বুঝতে পারি। কিন্তু একজন সামরিক জেনারেল হয়েও বিপদের গোয়েন্দা রিপোর্ট পেয়েও ষড়যন্ত্রকেন্দ্র চট্টগ্রামে চলে গেলেন, বিপদের শিকার হয়ে প্রাণ দিলেন, সে বেলায় কী বলবেন বলুন!

আগের কথা ক্ষ্যামা দিন। এই ২০১৩-২০১৪-২০১৫ কালে সরকার উৎখাতে যুদ্ধাপরাধী সহ আপনাদের বাহিনী যে ভাবে হামলা চালালো, সে হামলা চালাতে গিয়ে আপনাদের জোটের আপনিসহ কতোজন জেলে গেলো, প্রাণদিলো, গুম-খুনের শিকার হলো, তারা কি? সব নির্বোধ? না: আপনাদের লোকজনদের নির্বোধ বলার ধৃস্টতা দেখাচ্ছিনা। আপনারা যেমন করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পর্যন্ত বেইজ্জতি করে ফেলেন তাতে ভয় পাই। অতএব আপনাদের নির্দেশে যারা আগুনে ঝাঁপিয়ে প্রাণ দিলো তাদের আর আপনার ভাষায় ‘নির্বোধ’ বলতে পারছিনা। কিন্তু নামতো একটা দিতেই হবে।

কিছু মনে করবেননা। আপনার নামের প্রথম অক্ষর ‘গ’ দিয়ে আপনাদের ওদের আমরা যদি বাংলাভাষায় নতুন শব্দ সৃষ্টি করে ‘গর্বোধ’ বলি, খুব কী আপত্তি করবেন? তা আপনাদের প্রতিপক্ষ শহীদেরা যদি ‘নির্বোধ’ আখ্যা পেতে পারে আপনার জবানীতে, এখন আপনাদের প্রাণ দেয়া সাথীদেরতো আর নির্বোধ বলবেননা, ওদের না হয় গর্বোধই বলুন। জোরেশোরে বলে উঠুন—গর্বোধ জিন্দাবাদ।

অতিসাম্প্রতিক বাংলাদেশ ব্যাংক ইস্যু নিয়েই আজকের বয়ান শেষ করি। হতে পারেন ভদ্রলোক মহাবীর, হতে পারেন তিনি ঘাসের গোড়া থেকে বটবৃক্ষ শীর্ষে ওঠা একজন অসাধারণ সফল মানুষ, হতে পারেন তিনি দারিদ্র্যবান্ধব কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারণার বিশ্বজনক, হতে পারেন তিনি বিশ্ব সেরা ব্যাংক গভর্নর, কিন্তু!কিন্তু এমন ঘটনাটি তিনি স্বীয় মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীকে না জানিয়ে কী করে থাকলেন? গভর্নরতো গভার্নেন্স করে থাকে।

উপরের কাউকে না জানানো এমন কিছু নয়? ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মান এভাবে খান খান করে দিলেন হে ব্যাংক বীরশ্রেষ্ঠ! কোন ‘ বোধ’ থেকে এমনটা করলেন তিনি। ভায়ার নামের প্রথম অক্ষর দিয়েই তাহলে বলি, এমনি বোধের নামই বুঝি ‘আর্বোধ’! বাংলা ভাষায় এমনি দুটি শব্দ সৃষ্টির উপলক্ষ হবার জন্য নিশ্চয়ই পরপার থেকে ভাষাবিশারদ ডঃ শহীদুল্লাহ আর সুনীতি মহোদয়েরা দুজনকেই প্রভূত সাব্বাশি দিতে অধীরভাবে প্রতীক্ষা করছেন ।
এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)