চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তখন দুলা আপারাও থাকেন বাংলাদেশের সঙ্গে

তার বয়স ৪৫ কী ৪৬ বছর। পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিনি। বর্তমান বাস্তবতায় ‘বাই ডিফল্ট’ তিনি যে কোন মধ্যবিত্ত পরিবারের ভিভিআইপি হতে পারেন। বিশেষ করে যে পরিবারের কর্ত্রী কর্মজীবী।

বিজ্ঞাপন

তো আমার পরিবারের ভিভিআইপি দুলা আপা। দিনের কাজের ফাঁকে বিশেষ করে সন্ধ্যায় তার ২-৩ ঘন্টা সময় কাটে টিভি দেখে। টিভিতে তিনি ভারতীয় বাংলা চ্যানেল, স্টার জলসা এবং জি বাংলায় সিরিয়াল দেখেন। সে সময় বাসার অন্য কোন সদস্য তাকে বিরক্ত করে না।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ দিনগুলোতে দুলা আপার সিডিউল ব্রেক হয়। সেই দিনগুলোতে তিনি ছাড় দেন। বিশেষ সেই সব দিনে সারাদেশের মানুষের চোখ টেলিভিশনের পর্দায় আটকে থাকে। সেসময় তামিম-সাকিব-মুশফিক-মাশরাফি-মুস্তাফিজ বাহিনী থাকে মাঠের লড়াইয়ে। সারা সপ্তাহে টিভির সামনে বসা না হলেও পরিবারের সবাই সেদিন ঘন্টার পর ঘন্টা টিভির সামনে কাটায়।

দুলা আপার শিডিউল ব্রেক হলেও ইদানীং বিশেষ দিনগুলোতে তিনি পরিবারের সদস্যদের পাশেই থাকেন। ক্রিকেট উন্মাদনায় তিনিও যোগ দেন। খোঁজ নেন কোন টিমের সঙ্গে খেলা হচ্ছে? বাংলাদেশের ম্যাচের উত্তেজনার মুহূর্তে প্রশ্ন করেন, চার হলো নাকি ছয়! কোন ব্যাটসম্যান আউট হলে জানতে চান, আর কত রান করতে হবে? কয়টা উইকেট বাকি আছে?

ম্যাচের পরিস্থিতি বাংলাদেশের পক্ষে থাকলে টিভির সামনে থাকেন দুলা আপা। যদি তার ক্রিকেট জ্ঞান দিয়ে বুঝতে পারেন বাংলাদেশ হারছে তাহলে তার ডেরায় বিশ্রামে চলে যান। অথবা হাতে কাজ থাকলে মন দেন কাজে।

একরকম কোন কিছুতে না থেকেও বিষয় যখন ক্রিকেট, তখন দুলা আপারাও থাকেন বাংলাদেশের সঙ্গে। বাংলাদেশ জিতলে তাদের অপার্থিব আনন্দ।